আনন্দপুর অগ্নিকাণ্ডে নয়া মোড়! চার দিন পর গ্রেফতার আরও ২, এবার পুলিশি হেফাজতে কারা?
আনন্দপুরের বিধ্বংসী অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় এবার মোমো কোম্পানির দুই আধিকারিককে গ্রেফতার করল পুলিশ। নরেন্দ্রপুর থানা সূত্রে জানা গিয়েছে যে, ওই সংস্থার ম্যানেজার মনোরঞ্জন সিট এবং ডেপুটি ম্যানেজার রাজা চক্রবর্তীকে গতকাল রাতে নরেন্দ্রপুর এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ধৃত ওই দু'জনকে আজ বারুইপুর মহকুমা আদালতে তোলা হবে।

এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় এর আগেও গত মঙ্গলবার রাতে ডেকরেটর্সের গুদামের মালিক গঙ্গাধর দাসকে গাফিলতির অভিযোগে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তবে ঘটনার সঙ্গে যুক্ত মোমো কোম্পানির বিরুদ্ধে এতদিন কোনও পদক্ষেপ না হওয়ায় উঠছিল নানারকমের প্রশ্ন।
এদিকে কলকাতা হাইকোর্টের অনুমতিতে আজ আনন্দপুরে প্রতিবাদ মিছিল করবেন শুভেন্দু অধিকারী। আদালতের নির্দেশ অনুসারে, সকাল ১১টা থেকে বেলা সাড়ে ৩টে পর্যন্ত কর্মসূচি করা যাবে এবং সবচেয়ে বেশি ২০০০ জন পর্যন্ত অংশ নিতে পারবেন। গতকাল শুভেন্দু দাবি করেছিলেন যে, মৃতের সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে।
ঘটনার চার দিন পর কেন মোমো কোম্পানির কর্তাদের গ্রেফতার করা হল, তা নিয়েও প্রশ্ন নানা রকমের উঠেছে। কারণ, পুলিশ সূত্রেই জানা গিয়েছে যে, তাঁরা নরেন্দ্রপুর এলাকাতেই ছিলেন। তা হলে পালিশ আগে কেন গ্রেফতার করেনি, তা নিয়ে রাজনৈতিক এবং প্রশাসনিক মহলে জল্পনা শুরু হয়েছে।
প্রসঙ্গত, গত রবিবার রাতে আনন্দপুরের ওই গোডাউনে আগুন লাগে। চার দিন কেটে গেলেও ঠিক কতজনের মৃত্যু হয়েছে তা এখনও স্পষ্ট নয়। গতকাল আরও চারজনের দেহাংশ উদ্ধার হয়েছে। এই নিয়ে মোট উদ্ধার হওয়া দেহাংশের সংখ্যা দাঁড়াল ২৫। আজ সকাল থেকে আবারও নতুন করে উদ্ধারকার্য শুরু হয়েছে। ফলে আশঙ্কা করা হচ্ছে যে, আরও দেহাংশ পাওয়া যেতে পারে। প্রশাসনের তরফ থেকে জানানো হয়েছে যে, ২৫ টি মৃত দেহাংশের মধ্যে এখনও পর্যন্ত ২১টি দেহাংশের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। বাকি চারটি দেহাংশ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। শুভেন্দু অধিকারীর দাবি, প্রকৃত মৃতের সংখ্যা ৩৫ থেকে ৪০-এর কাছাকাছিও হতে পারে। এই ভয়ঙ্কর অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাকে ঘিরে এলাকায় এখনও চাপা উত্তেজনা রয়েছে।












Click it and Unblock the Notifications