মুকুল ‘মেঘনাদে’র ভূমিকায় বিজেপিতে! একুশের যুদ্ধের আগে চাপে ‘সেনাপতি’ দিলীপ
তৃণমূলের সেকেন্ড ইন কম্যান্ড ছিলেন মুকুল রায়। ২০ বছরের সেই সম্পর্ক ছিন্ন করে তিনি বিজেপিতে এসেছেন তাও আড়াই বছর হয়ে গেল। কিন্তু কোনও সাংগঠনিক পদ তিনি নেননি।
তৃণমূলের সেকেন্ড ইন কম্যান্ড ছিলেন মুকুল রায়। ২০ বছরের সেই সম্পর্ক ছিন্ন করে তিনি বিজেপিতে এসেছেন তাও আড়াই বছর হয়ে গেল। কিন্তু কোনও সাংগঠনিক পদ তিনি নেননি। তবে একুশের ভোটের আগে রাজ্য কমিটিতে রদবদলেই মাত দিলেন তিনি। দিলীপের নেতৃত্বে রাজ্য কমিটিতে তিনি ঢুকিয়ে দিতে সমর্থ হলেন তাঁরপ অনুগামীদের।

কার্যত মেঘনাদের ভূমিকায় মুকুল
তিনি নিজে না থাকলেও রাজ্য কমিটিতে তাঁর অনুগামীদের ভিড় তাঁকে শক্তিশালী করে দেবে এবার। বিজেপিতে তিনি কার্যত মেঘনাদের ভূমিকা নিতে পারবেন। মুকুলের ক্ষুরধার রাজনৈতিক মস্তিষ্ক তাই পরিলক্ষিত হল বিজেপির অন্তর্বর্তী মনোনয়নেও। নতুন কমিটিতে এবং শাখা সংগঠনের মাথায় এখন তাঁর অনুগামীদেরই ভিড়।

মুকুল রায় ডালপালা বিস্তার করলেন
এতদিন দিলীপ ঘোষ ও রাহুল সিনহার অনুগামীদের প্রাধান্য ছিল রাজ্য কমিটিতে। এবার মুকুল রায় ডালপালা বিস্তার করলেন রাজ্য কমিটি ও শাখা কমিটিগুলিতে। তাঁর অনুগামীরাই বিভিন্ন শাখা সংগঠনের মাথায়। ফলে তাঁর কোনও মত জাহির করতে তিনি সমর্থ হবেন। মেঘনাদের ভূমিকা তিনি পালন করতে পারবেন রাজ্য বিজেপিতে।

মুকুল না থেকেও থাকবেন কমিটিতে
মুকুল রায় তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে এসেছেন নয় নয় করে আড়াই বছর পার হয়েছে। কিন্তু বিজেপিতে এসেও তিনি কোনও সাংগঠনিক পদ পাননি এখনও। সংগঠন তৈরিতে সিদ্ধহস্ত মুকুল রায়েরই পদ নেই বিজেপিতে। তবে তিনি নির্বাচন কমিটির মাথায় ছিলেন, আছেনও। নির্বাচন ফোরালেই তিনি স্রেফ বিজেপি নেতা বনে যান। তবে এবার তাঁর সাঙ্গপাঙ্গরা কমিটিতে প্রবেশ করায় তিনি না থেকেও থাকবেন কমিটিতে, মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

বিজেপিতে তৃণমূলত্যাগীদের বাড়বাড়ন্ত
বিজেপির সাংগঠনিক রদবদলে দলত্যাগীদের ভিড়ই নজরে এসেছে বেশি করে। তৃণমূল-সিপিএম-কংগ্রেস ছেড়ে আসা নেতারাই সংখ্যাগুরু বিশেষ পদগুলিতে। ২০২১-এর লক্ষ্যে বঙ্গ বিজেপি বড়সড় রদবদল ঘটিয়ে ফেলল। উচ্চস্থান দেওয়া হল দলত্যাগীদের। করোনা লকডাউনের মধ্যেই একুশের বিধানসভা বিধানসভা ভোটের ঘুঁটি সাজাতে শুরু করে দিল বিজেপি। তৃণমূলত্যাগী নেতারা পেলেন গুরুদায়িত্ব। কংগ্রেস-সিপিএম ত্যাগীরাও মর্যাদা পেলেন।

দল ছেড়ে মুকুল অনুগামীদের লক্ষ্মীলাভ
মুকুল ঘনিষ্ঠ বিধানগরের প্রাক্তন মেয়র সব্যসাচী দত্ত বিজেপিতে যোগ দিয়ে পেলেন সম্পাদক পদ। অর্জুন সিং হলেন সহ সভাপতি। সৌমিত্র খাঁ হয়েছেন যুব মোর্চার সভাপতি। তৃণমূল ঘনিষ্ঠ ভারতী ঘোষও পেয়েছেন সহ সভাপতির পদ। সিপিএম ছেড়ে আসা মাফুজা খাতুনকে সহ সভাপতি করা হয়েছে বিজেপির। আর এক সিপিএম ত্যাগী নেতা খগেন মুর্মুকে করা হয়েছে এসটি মোর্চার সভাপতি। আর এসসি মোর্চার সভাপতি করা হয়েছে কংগ্রেস ছেড়ে আসা দুলাল বরকে।

মুকুলের অনুগামীরাই বন্ধু হবে দিলীপের
এতদিন রাজ্য কমিটিতে বিশেষ নাক গলাতে পারতেন না মুকুল রায়। এবার সব্যসাচী দত্ত থেকে শুরু করে সৌমিত্র খাঁ, ভারতী ঘোষদের উপস্থিতি মুকুল রায়কে অনেক অ্যাডভান্টেজ দেবে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল। বিজেপির রাজ্য কমিটিতে মুকুলের অনুগামীদের নিয়েই চলতে হবে রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষকে।












Click it and Unblock the Notifications