'এক ডাকে অভিষেকে'ই পরিত্রাণ, বাঙালি হওয়ায় নিগ্রহের শিকার সাইফুল, লুকিয়ে ছিলেন মন্দিরেও

অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের 'এক ডাকে অভিষেক'-এ একটা ফোন। তাতেই পরিত্রাণ পেলেন সাইফুল শেখ। যিনি স্রেফ বাঙালি বলে ক্রমাগত হেনস্থার শিকার হয়ে পরিবার ফিরলেন বাংলায়। বিগত ১৪ বছর ধরে যিনি কাজ করতেন একটি কারখানায়। দিন তিনেক লুকিয়ে ছিলেন একটি মন্দিরে। এরপর গত বৃহস্পতিবার দক্ষিণ ২৪ পরগনায় নিজের বাড়িতে ফিরেছেন।

সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের সোশ্যাল মিডিয়ায় লেখা হয়েছে, আবারও বিজেপির ডাবল ইঞ্জিন রাজ্য মহারাষ্ট্রে অকথ্য অত্যাচারের শিকার বাংলার পরিযায়ী শ্রমিক। অপরাধ? বাংলায় কথা বলা!

১৪ বছর ধরে মুম্বইয়ের দাদারে কর্মরত এক বাঙালি শ্রমিকের পরিবারকে দিনের পর দিন 'বাংলাদেশি' দাগিয়ে হেনস্থা, মারধর, টাকার চাপ দিয়েছে কিছু স্থানীয় এবং পুলিশ। মাথাপিছু ৫০ হাজার টাকা দিতে হবে, চাপ দিয়েছে পুলিশ। তাড়িয়ে দিয়েছে কারখানার মালিক থেকে ভাড়াবাড়ির মালিক।

শেষমেষ তিনি সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের 'এক ডাকে অভিষেক'-এ ফোন করে ট্রেনে চেপে বাংলায় ফিরলেন স্ত্রী-পুত্র নিয়ে। বিজেপি যত বাঙালি-বিদ্বেষ দেখাবে, তত তাড়াতাড়ি নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে এই বাংলা থেকে।

দক্ষিণ ২৪ পরগনার বিষ্ণুপুরের কুলেরহাটি পঞ্চায়েতের সর্দার পাড়ার বাসিন্দা বছর চল্লিশের সাইফুল ১৪ বছর আগে মুম্বইয়ের দাদরে ওই কারখানায় কাজে যোগ দেন। ভাড়া বাড়িতে স্ত্রী ও বছর তেরোর ছেলেকে নিয়ে থাকতেন। কিন্তু সমস্যা শুরু হয় সম্প্রতি। সাইফুলের কথায়, বাংলায় কথা বলায় বাংলাদেশি বলে দেগে দিয়ে স্থানীয় বাসিন্দা, এমনকী পুলিশের তরফেও নানা ভাবে হেনস্থা শুরু হয়। বাইরে বেরোলে মারধরও করা হয়। বাইরে বের হওয়াই বন্ধ হয়ে যায়। ওখানে থাকার জন্য পুলিশ মাথা পিছু ৫০ হাজার করে টাকা চায় বলে দাবি সাইফুলের। এসবের জেরে কারখানা বন্ধ করে দেন মালিক। কাজ বন্ধ থাকায় সঞ্চিত অর্থও প্রায় শেষ হয়ে যায় সাইফুলদের। ঘর ছেড়ে দিতে বলেন বাড়িওয়ালা। সেখানে বাংলার বেশ কিছু শ্রমিকও ছিলেন। বেশিরভাগই একা থাকতেন। সকলেই নিজেদের মতো করে লুকিয়ে ফেরার রাস্তা ধরেন। কিন্তু পরিবার থাকায় আটকে যান সাইফুল।

সপ্তাহখানেক আগে পরিবার নিয়ে লুকিয়ে লোকাল ট্রেনে চেপে বসেন সাইফুল। দাদর থেকে কয়েক ঘণ্টার দূরত্বে কল্যাণে সাইফুলের চেনা কয়েকজন থাকায় নামেন সেখানেই। কিন্তু সেখানেও থাকার জায়গা মেলেনি। শেষ পর্যন্ত একটি মন্দিরে ঠাঁই নেন তাঁরা। পুরোহিত মন্দির চত্বরে থাকতে দেন সাইফুলদের।

গত সোমবার এলাকার সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের 'এক ডাকে অভিষেক' প্রকল্পের নম্বর জোগাড় করে সমস্যার কথা জানান সাইফুল। এরপরই তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করেন এলাকার জেলা পরিষদ সদস্য বাবান গাজি। তিনি কিছু টাকা পাঠান। ট্রেনে উঠে পড়তে বলেন। পরিবার নিয়ে মঙ্গলবারই ট্রেনে উঠে পড়েন সাইফুল। টিকিট কাটার সুযোগও পাননি। কোনওরকমে প্ল্যাটফর্ম টিকিট কেটেই ট্রেনে চাপেন। বৃহস্পতিবার এলাকায় ফেরেন তিনি।

এখনও আতঙ্কিত শোনায় সাইফুলের গলা। তিনি বলেন, "চোদ্দো বছর দাদরে আছি। চেনা লোকজন এভাবে বদলে যাবেন ভাবতে পারিনি। শেষপর্যন্ত পালাতে হল। কল্যাণে মন্দিরের ঠাকুরমশাই খুবই সাহায্য করেছিলেন। আমাদের লুকিয়ে রাখেন। কিন্তু ওভাবে আর কতদিন! শেষ পর্যন্ত এক ডাকে অভিষেকে ফোন করি। সেখান থেকেই সাহায্য করা হয়। ফেরার পরে স্থানীয় নেতৃত্ব দেখা করেছেন। কিছু টাকা দিয়েছেন। কিন্তু তাতে আর কতদিন চলবে?"

সাইফুল জানান, আর বাইরে যাওয়ার ইচ্ছা নেই। তেমন হলে বাইরে গিয়ে মার খাওয়ার থেকে এলাকায় ভিক্ষা করা ভালো। বিষ্ণুপুরের বিধায়ক তথা মন্ত্রী দিলীপ মণ্ডল বলেন, "আগেও এলাকার একাধিক শ্রমিককে ফেরানো হয়েছে। এ ক্ষেত্রেও খবর পেয়েই ওই শ্রমিককে ফেরানোর ব্যবস্থা করি। বাংলা বলায় এভাবে হেনস্থা কাম্য নয়। পরিবারটির পাশে আছি। মুখ্যমন্ত্রীও পরিযায়ী শ্রমিকদের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন।"

Notifications
Settings
Clear Notifications
Notifications
Use the toggle to switch on notifications
  • Block for 8 hours
  • Block for 12 hours
  • Block for 24 hours
  • Don't block
Gender
Select your Gender
  • Male
  • Female
  • Others
Age
Select your Age Range
  • Under 18
  • 18 to 25
  • 26 to 35
  • 36 to 45
  • 45 to 55
  • 55+