২৮০০ হেক্টর উর্বর জমি গঙ্গার গর্ভে তলিয়ে গিয়েছে! মোদীকে চিঠি মমতার
বাংলায় গঙ্গাভাঙ্গনের বিষয়ে বিস্তারিত জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আর এই ভাঙনের কারণে বাংলায় একের পর এক এলাকা নদীগর্ভে হারিয়ে যাচ্ছে। তাতে জমি, বাড়ির ব্যাপক ভাবে ক্ষতি হতে চলেছে। আর
বাংলায় গঙ্গাভাঙ্গনের বিষয়ে বিস্তারিত জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আর এই ভাঙনের কারণে বাংলায় একের পর এক এলাকা নদীগর্ভে হারিয়ে যাচ্ছে। তাতে জমি, বাড়ির ব্যাপক ভাবে ক্ষতি হতে চলেছে। আর এই বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীকে অবগত করেই এই চিঠি মুখ্যমন্ত্রীর।

লেখা চিঠিতে গঙ্গা-পদ্মার কারণেই যে ভাঙন হচ্ছে মালদহ, মুর্শিদাবাদ এবং নদিয়া জেলায় সেটিও উল্লেখ করা হয়েছে।
কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ
এই বিষয়ে বারবার আবেদন করা হলেও কেন্দ্রের তরফে কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ রাজ্যের। এবার তাই ভাঙনের কারণে রাজ্যের ঠিক কত ক্ষতি হয়েছে এই বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়েছে ই চিঠিতে। লেখা চিঠিতে প্রায় এক হাজার কোটি টাকার উল্লেখ করা হয়েছে বলেও অভিযোগ।
আর এই চিঠি ঘিরেই নতুন করে সংঘাতের আশঙ্কা কেন্দ্র এবং রাজ্যের মধ্যে। যদিও এখনও পর্যন্ত চিঠির বিষয়ে কোনও কথা বলা হয়নি কেন্দ্রের তরফে।
ওই সমস্ত এলাকায় ভাঙনের অন্যতম কারণ
এদিন প্রধানমন্ত্রীকে লেখা চিঠিতে বেশ কয়েকটি বিষয় উল্লেখ করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর অভিযোগ, ফরাক্কা ব্যারেজ নির্মাণ ওই সমস্ত এলাকায় ভাঙনের অন্যতম কারণ। জলসম্পদ মন্ত্রক ফরাক্কা ব্যারেজ প্রজেক্ট অথরিটি (এফবিপিএ)-র কাজের পরিধি বাড়িয়েছে ঠিকই। কিন্তু এতে আরও ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি মুখ্যমন্ত্রীর। বিশেষ করে গত ১৫ বছরে এই ভাঙনের কবলে পড়ে ২৮০০ হেক্টর উর্বর জমি গঙ্গার গর্ভে তলিয়ে গিয়েছে বলেও মোদীকে লেখা চিঠিতে উল্লেখ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের।
গঙ্গা ভাঙন নিয়ে বাংলার মানুষের কষ্টের কথা
প্রায় লম্বা একটি চিঠি প্রধানমন্ত্রীকে পাঠিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখানে গঙ্গা ভাঙন নিয়ে বাংলার মানুষের কষ্টের কথা তুলে ধরার পাশাপাশি রাজ্য সরকার কি কাজ করছে সে বিষয়েও অবগত করা হয়েছে। তিনি অভিযোগ করে লিখেছেন, ভাঙন ঠেকাতে ফরাক্কা ব্যারেজ কর্তৃপক্ষ কোনও ব্যবস্থাই নেয়নি। ফলে তাঁর সরকারই একগুচ্ছ ব্যবস্থা নিয়েছে। নদী ভাঙন রোধে একাধিক প্রকল্প নেওয়া হয়েছে বলে চিঠিতে উল্লেখ মুখ্যমন্ত্রী।
তিনি লিখেছেন, গত চার বছরে মালদহ, মুর্শিদাবাদ এবং নদিয়ার ৩১টি এলাকাকে বিপজ্জনক চিহ্নিত করা হয়েছে। আর তা চিহ্নিত করে বিভিন্ন ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে দাবি। আর এজন্যে ১৬৮.৪৭ কোটি টাকা ব্যয় করা হয়েছে বলে দাবি করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের।
একার পক্ষে খরচ করা সম্ভব নয়
তবে একাধিকবার চিঠি লেখা হলেও এই বিষয়ে কেন্দ্রের তরফে কোনও উত্তর দেওয়া হয়নি বলেও স্পষ্ট উল্লেখ করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বারবার এই বিষয়ে প্রতিবাদ জানানোর পরেও তা গ্রাহ্য করা হয়নি বলেও তোপ তাঁর। এমনকি গত বছর অগস্ট মাসে জলশক্তি মন্ত্রককেও এই বিষয়ে বিস্তারিত জানিয়ে চিঠি দেওয়া হয় বলে দাবি।
কিন্তু কোনও কিছুতেও কিছু হয়নি। মমতা প্রধানমন্ত্রীকে জানিয়েছেন, নদী ভাঙন রুখতে অনেক টাকার প্রয়োজন। আর তা এখনও রাজ্যের একার পক্ষে খরচ করা সম্ভব নয় বলে জানানো হয়েছে।












Click it and Unblock the Notifications