১২ বছরের পেনশন ১২ দিনেই! মমতার সরকারের উদ্যোগে টেনশনমুক্ত ইরাদেবী ফের পড়াবেন
১২ বছরের পেনশন ১২ দিনেই! মমতার সরকারের উদ্যোগে টেনশনমুক্ত ইরাদেবী ফের পড়াবেন
এতদিনে টেনশনমুক্ত ইরা বসু। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের শ্যালিকা। জীবনের প্রতি বীতশ্রদ্ধ হয়ে তিনি স্বেচ্ছায় ভবঘুরে জীবন বেছে নিয়েছিলেন। তৃণমূলের সরকারের উদ্যোগে আবার তিনি সংসার জীবনে ফিরে এসেছেন। মাত্র ১২ দিনেই পেনশন পেয়ে আনন্দ আপ্লুত ইরাদেবী জানিয়ে দিলেন তিনি আবার পড়াবেন। আবার ফিরবেন শিক্ষিয়্ত্রীর জীবনে।

পথের জীবন থেকে মুক্তি, ফিরলেন মূলস্রোতে
খড়দহের প্রিয়নাথ হাইস্কুলের শিক্ষিকা ইরাদেবী। তিনি অবসর নেন ২০০৯ সালে ১ মে। অবসর গ্রহণের পর প্রাপ্য পেনশন থেকে বঞ্চিত হয়ে তিনি বীতশ্রদ্ধ হয়ে পড়েছিলেন। কারও সহায়তা না নিয়ে তিনি বেছে নিয়েছিলেন ভবঘুরে জীবনে। বাড়ি-ঘর সবই ছিল। সব ছেড়ে তিনি রাস্তাকেই বেছে নিয়েছিলেন। অবশেষে সেই জীবন থেকে মুক্তি পেলেন, ফিরলেন সংসার জীবনে।

পেনশন পেয়ে ধন্যবাদ মমতা-অভিষেক ও ডিআইকেও
মঙ্গলবারই অর্থ দফতর থেকে বিজ্ঞপ্তি জারি করে তাঁর পেনশন কার্যকর করা হয়। বুধবার জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শক নিজে খড়দহে তাঁর বাড়িতে গিয়ে পেনশনের কাগজপত্র দিয়ে আসেন। তা পেয়ে উচ্ছ্ব্সিত ইরাদেবী সর্বাগ্রে ধন্যবাদ দেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে। ধন্যবাদ দেন জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শককে।

আবার পড়াতে চাই, টেনশনমুক্ত হয়ে বললেন ইরাদেবী
পেনশেন মঞ্জুরের চিঠি হাতে নিয়ে তিনি বলেন, আজ খুব আনন্দ হচ্ছে। আমি আমার প্রাপ্য পেয়েছি। আবার শিক্ষয়িত্রীর জীবনে ফিরতে চাই। তবে এখনই আমি আমার নিজের বাড়িতে ফিরব না। খড়দহে থাকব বছর দুয়েক। এ বাড়িতে পড়ানো যাবে না। কিছুদিনের মধ্যেই আমি আবার পড়ানো শুরু করব। বয়স তো হয়েছে, সেটা একটা সমস্যা। তবু আবার পড়াতে চাই।

১২ বছর আটকে থাকা পেনশন মাত্র ১২ দিনেই মঞ্জুর
এদিন তাঁর পেনশন কার্যকর হয়েছে ২০০৯ সালের ১ মে থেকে। এতদিন তাঁর যে পেনশন বকেয়া ছিল, তাও পাবেন তিনি। সেই টাকাও তাঁকে মিটিয়ে দেওয়া হবে শীঘ্রই। সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় উদ্যোগ নেওয়ার পর ১২ বছর আটকে থাকা পেনশন মাত্র ১২ দিনেই মঞ্জুর হয়ে গেল। অভিষেকের আবেদনের পর রাজ্যের অর্থ দফতর ইরাদেবীর প্রাপ্য পেনশন ও গ্র্যাচুইটির টাকা দেওয়ার অনুমোদন দেয়। আপাতত মাসে ১৩ হাজার ৯৮৫ টাকা করে পেনশন পাবেন ইরা দেবী।

১২ দিনেই ইরাদেবীর পেনশনের ব্যবস্থা করলেন অভিষেক
এতদিন পরিস্থিতি তাঁকে বাধ্য করেছিলেন ফুটপাতে দিন কাটাতে। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের শ্যালিকা ইরা বসুকে রাস্তায় দিন কাটাতে দেখে অবাক হয়েছিলেন অনেকেই। এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পর অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় কথা দিয়েছিলেন যত তাড়াতাড়ি সম্ভব তাঁর পেনশনের ব্যবস্থা করবেন। সেই কথা রাখলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক তথা সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।

জীবন বিজ্ঞানের শিক্ষয়িত্রী যখন নিজের জীবনেই বীতশ্রদ্ধ
সম্প্রতি ডানলপের কাছে ফুটপাতে ঘুরতে দেখা যায় বুদ্ধদেব-শ্যালিকা ইরা বসুকে। এক সময় তিনি ছিলেন শিক্ষিকা। পড়াতেন জীবন বিজ্ঞান। জীবন বিজ্ঞানের শিক্ষয়িত্রী একদিন তাঁর নিজের জীবনেই বীতশ্রদ্ধ হয়ে পড়েন। তিনি বলেন, কংগ্রেসি আমলের শেষে চাকরি পেয়েছিলাম। বাম আমলের শেষে অবসর নিই। কিন্তু অবসরের পর পেনশন পাইনি। তবু আমাকে বলা হত আমি বিশেষ কারও সুবিধায় সবকিছু পেয়েছি। আনন্দের দিনে আর সেসব মনে করতে চাই না। বিশেষ করে ধন্যবাদ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁরা এত তাড়াতাড়ি তাঁর সমস্যা মিটিয়ে দেওয়ার জন্য।

কারও কাছ থেকে সাহায্য নেননি, পেলেন প্রাপ্য টাকা
ইরাদেবীর কাছ থেকেই জানা যায়, তাঁর এই পরিস্থিতি হলেও তিনি কারও কাছ থেকে কোনওদিন কোনও সাহায্য নেননি। তিনি এই কথায় বিশেষভাবে ইঙ্গিত করেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য ও তাঁর বোন মীরাদেবীকে। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর শ্যালিকা ইরাদেবীর এই দুর্দশার খবর পৌঁছে যায় তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক তথা সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সঙ্গে সঙ্গে লোক পাঠিয়ে ইরাদেবীর খোঁজখবর নেন। তিনি পেনশন পান না শুনে তাঁকে পেনশনের ব্যবস্থা করে দেওয়ার আশ্বাস দেন। সেইমতোই তিনি পেনশন পেলেন।

ইরাদেবীর কোনও কাগজপত্রে অংশীদারিত্ব চান না সুচেতনা
এদিন ইরাদেবী পেনশন পাওয়ার পর বুদ্ধদেব-কন্যা সুচেতনা ভট্টাচার্য সাফ জানিয়ে দেন, ইরা বসুর ব্যবহারে আমার বাবা-মা খুবই ব্যথিত। আমাকে যে তাঁর কোনও কাগজপত্রে অংশীদার না করা হয়। তিনি তা গ্রহণ করবেন না। উল্লেখ্য, পেনশনের কাগজপত্রে বুদ্ধদেব-কন্যা সুচেতনাকে ইরা বসুর নোমিনি করা হয়েছিল বলে প্রকাশ। তিনি এদিন তা নিতে অস্বীকার করেন। ফলে এই বিষয়ে নতুন করে ভাবনার অবকাশ রয়েছে।












Click it and Unblock the Notifications