বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলর হিসাবে রাজ্যপালের ক্ষমতা খর্ব করতে বিল পাস মহারাষ্ট্র বিধানসভায়
শুধু বাংলাতেই নয়, রাজ্যপালের সঙ্গে রাজ্য সরকারের সংঘাত চলছে অন্য রাজ্যে। মহারাষ্ট্রে রাজ্যপালের বিরুদ্ধে রাজ্য সরকার সংঘাতকে চরম পর্যায়ে নিয়ে গেল বিধানসভায় বিল পাস করে।
শুধু বাংলাতেই নয়, রাজ্যপালের সঙ্গে রাজ্য সরকারের সংঘাত চলছে অন্য রাজ্যে। মহারাষ্ট্রে রাজ্যপালের বিরুদ্ধে রাজ্য সরকার সংঘাতকে চরম পর্যায়ে নিয়ে গেল বিধানসভায় বিল পাস করে। মঙ্গলবার বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলর হিসাবে রাজ্যপালের ক্ষমতা হ্রাস করার জন্য বিল পাস করল মহারাষ্ট্র বিধানসভা।

উপাচার্য নিয়োগের ক্ষেত্রে রাজ্যপালের ক্ষমতা হ্রাস করতে একটি বিল পাস হয়েছে মহারাষ্ট্র বিধানসভায়। বেশ কিছুদিন ধরেই বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য নিয়োগ নিয়ে রাজ্যপাল হলান রাজ্য সরকারের সংঘাত চরমে ওঠে। এরপরই উপাচার্য নিয়োগে রাজ্যপালের ক্ষমতা কমানোর জন্য সুপারিশ করে মহারাষ্ট্রের মন্ত্রিসভা। সেইমতোই পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়।
বুধবার রাজ্য মন্ত্রিসভা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-চ্যান্সেলরের পদে উচ্চ ও কারিগরি শিক্ষামন্ত্রী নিয়োগের অনুমোদন দিয়েছে। এবং একইসঙ্গে উপাচার্যদের নিয়োগের পদ্ধতি পরিবর্তন করেছে। এই সিদ্ধান্তগুলি রাজ্যপালের ক্ষমতা হ্রাস করবে বলেই মনে করছে। তারপর রাজ্যের সমস্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলর এবং রাজ্যের গভর্নর বিএস কোশিয়ারির সঙ্গে ক্ষমতাসীন মহারাষ্ট্র সরকারের সম্পর্ক তলানিতে পৌঁছে যায়।
মুখ্যমন্ত্রী উদ্ধব ঠাকরের নেতৃত্বে রাজ্য মন্ত্রিসভা একটি বৈঠক করে। প্রো-চ্যান্সেলরের নিয়োগ নিয়ে মহারাষ্ট্র পাবলিক ইউনিভার্সিটি অ্যাক্ট, ২০১৬-র একটি সংশোধনী অনুমোদন করা হয় ওই মন্ত্রিসভার বৈঠকে। উপাচার্য নিয়োগের নিয়মেও পরিবর্তন আনা হয়েছে। এর আগে এই উদ্দেশ্যে নিযুক্ত একটি তদন্ত কমিটি রাজ্যপালের কাছে পাঁচটি নাম উল্লেখ করবে, যারা একটি নাম বাছাই করবে। এখন এই কমিটি রাজ্য সরকারের কাছে পাঁচটি নাম প্রস্তাব করবে, যা রাজ্যপালের কাছে দুটি নাম পাঠাবে। এর ফলে রাজ্যপালের ক্ষমতা খর্ব হবে বলেই বিশেষজ্ঞদের অভিমত।
একইভাবে, রাজ্য একজন প্রো-ভাইস-চ্যান্সেলর নিয়োগের জন্য রাজ্যপালের কাছে তিনটি নাম প্রস্তাব করবে। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের প্রাক্তন চেয়ারম্যান ডঃ সুখদেও থোরাতের অধীনে কমিটির সুপারিশ অনুসারে এই সিদ্ধান্তগুলি নেওয়া হয়েছে। এটি জাতীয় শিক্ষা নীতি, ২০২০-এর সুবিন্যস্ত বাস্তবায়ন এবং রাজ্যে শিক্ষার মান বাড়ানোর জন্য ব্যবস্থার পরামর্শ দেওয়ার বিষয়টিকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
মহারাষ্ট্র সরকারের একমন্ত্রী ব্যাখ্যা করেছেন, "প্রো-চ্যান্সেলর বিশ্ববিদ্যালয়গুলির প্রশাসনের দায়িত্ব পালন করবেন এবং তাঁদের কাজকে সুবিন্যস্ত করবেন।" এ প্রসঙ্গে রাজভবনের একজন মুখপাত্র মন্তব্য করতে অস্বীকার করেন। তবে বিজেপি বিধায়ক অতুল ভাটখালকর এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেছেন এবং এটিকে বিশ্ববিদ্যালয়গুলির স্বায়ত্তশাসনের উপর একটি দখলদারি বলে অভিহিত করেছেন তিনি। তিনি বলেন, "আমরা এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করছি। এটি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বায়ত্তশাসনের উপর একটি সীমাবদ্ধতা প্রকাশ করে।












Click it and Unblock the Notifications