লক ডাউনের জেরে চৈত্র সেলের বাজারে ক্ষতিকর প্রভাব
লক ডাউনের জেরে চৈত্র সেলের বাজারে ক্ষতিকর প্রভাব
চৈত্র সেল! যা নেবেন একশো টাকা। কোথাও বা অর্ধেক দাম। নিউমার্কেট থেকে গড়িয়াহাট, শিয়ালদা থেকে বড় বাজার, হাতিবাগান থেকে কাঁকুর গাছি। গোটা চৈত্র মাস জুড়ে সব জায়গায় একই চিত্র। চলতে থাকে চৈত্রের রমরমা। এ বলে আমায় দেখ, তো ও বলে আমায়। নিয়মমাফিক ফুটপাথ দখল করে জমিয়ে পসার সাজিয়ে বসেন দোকানিরা। অন্যদিকে, সারা বছরই বাড়ির গৃহকর্ত্রীরা এই মাস টার জন্যেই অপেক্ষা করে বসে থাকেন। দেখেশুনে খুব কম দামে যাতে পয়লা বৈশাখে গোটা পরিবারের জন্য নতুন বস্ত্র কেনা যায়। কারণ পয়লা বৈশাখে নতুন জামাকাপড় পড়া বাঙালির একটা রীতি রেওয়াজ চলে আসছে বহুদিন ধরে। এছাড়াও সারা বছরের অডিনারি পোশাক-আশাক এখান থেকেই মজুদ হয়। কিন্তু এবছর কিন্তু এবছর কোথায় চৈত্র সেল ? করোনার থাবায় সবি ফাঁকা। খাঁ খাঁ করছে চারিদিক।

বাংলায় পুজোর বাজার শুরু হওয়ার আগে এই চৈত্র মাসেই যা একটু বিক্রিবাটার মুখ দেখেন বস্ত্রব্যবসায়ীরা। তাই সারা বছর তাঁরা অপেক্ষা করেন এই সময়টার জন্য। লাভও হয় কিছুটা। তা দিয়েই তাঁরা পুজোর বাজারের মাল তোলেন দোকানে। কিন্তু এই বছর মাথায় হাত ব্যবসায়ীদের। করোনা সংক্রমণ ঠেকাতে জমায়েত নিষিদ্ধ। লক আউট করে সকলকেই গৃহ বন্দি থাকতে নির্দেশ দিয়েছে সরকার। আগে ৩১ মার্চ অবধি থাকলেও তার মেয়াদ বেড়ে হয়েছে ১৪ এপ্রিল পর্যন্ত। ফলে শেষ মুহূর্তে আশা থাকলেও তাতে জল ঢেলে পড়েছে। তাই কার্যত এবছরের মতো খতম চৈত্র সেলের যাবতীয় পরিকল্পনা। গত সপ্তাহ থেকেই ঝাঁপই নেমে গেছে দোকানের। একই হাল ফুটপাতের হকারদেরও। যে চৈত্র সেলের হাত ধরেই কার্যত তাঁদের ব্যবসায় জোয়ার আসে। এবার করোনার থাবায় তা ভাটা।
নিউমার্কেটের বস্ত্র ব্যবসায়ীদের সংগঠনের সম্পাদকের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, এবছর করোনা সব ব্যবসা শেষ করে দিয়েছে। পরিবার-পরিজনদের নিয়ে বাঁচতে তাই গৃহবন্দি তারাও। রাজ্যের তথা কেন্দ্রের ঘোষিত লক ডাউন কে মেনে আপাতত বাড়িতেই থাকবে।
তবে এই ধাক্কা তাঁরা কবে কাটিয়ে উঠতে পারবেন তা তাঁরা নিজেরাই জানেন না। এ সময় বহু মানুষ এই ব্যবসার জন্য কাজ পেত দুটো কর্মসংস্থান ও অর্থসংস্থান হতো কিন্তু এবার তারাও কর্মহীন ভাবে গৃহবন্দী। কবে এই অচলাবস্থা কাটবে তাও জানেনা কেউ ই।












Click it and Unblock the Notifications