লক্ষ্য ২০২১-এর নির্বাচনে জয়, কেন জঙ্গলমহলের কুর্মিরা নির্বাচনে বিজেপি ও তৃণমূলের জিয়ন কাঠি
বিজেপি (bjp) এবং তৃণমূল (trinamool congress), ২০২১-এর নির্বাচনে যুযুধান দুপক্ষের কাছে গুরুত্বপূর্ণ হল জঙ্গলমহল (junglemahal)। কেননা জঙ্গলমহলের চার জেলায় ছড়িয়ে রয়েছে ৪২ টি বিধানসভা আসন। এই আসনগুলির বেশিরভাগেই ভোট হত
বিজেপি (bjp) এবং তৃণমূল (trinamool congress), ২০২১-এর নির্বাচনে যুযুধান দুপক্ষের কাছে গুরুত্বপূর্ণ হল জঙ্গলমহল (junglemahal)। কেননা জঙ্গলমহলের চার জেলায় ছড়িয়ে রয়েছে ৪২ টি বিধানসভা আসন। এই আসনগুলির বেশিরভাগেই ভোট হতে যাচ্ছে ২৭ মার্চ। ওইদিন রাজ্যে প্রথাম দফার নির্বাচন। যেখানে কুর্মিদের (Kudmi) অবস্থান গুরুত্বপূর্ণ।

আদিবাসী এবং কুর্মিদের ওপরে নির্ভরশীল
একদশক আগেও যে জায়গায় মাওবাদীরা দাপিয়ে বেড়াত। ২০০৮ থেকে ২০১১-র মধ্যে ঝাড়খণ্ড এবং বিহার সংলগ্ন এই এলাকায় ছড়িয়ে পড়েছিল সিপিআই(মাওবাদী) -রা। সেই জঙ্গলমহলে বিজেপি এবং তৃণমূলকে নির্ভর করতে হচ্ছে কুর্মি ও আদিবাসীদের ওপরে। একটা সময়ে রাজ্যে বাম শাসনের সময়ে এই কুর্মি ও আদিবাসীদের ভোট দখলে রেখেছিল বামেরাও। গত কয়েক দশকে প্রথমে কংগ্রেস, পরে বাম থেকে মাওবাদী, তৃণমূল হয়ে বিজেপির পক্ষ নিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দাদের একটা বড় অংশ।

পঞ্চায়েত নির্বাচনে নির্দল প্রার্থীদের জয়
গত পঞ্চায়েত নির্বাচনে আদিবাসী সম্প্রদায়ের অনেক নির্দলপ্রার্থী মূলধারার রাজনৈতিক দলগুলির প্রার্থীদের হারিয়ে দেন। অন্যদিকে, পুরুলিয়া ও ঝাড়গ্রামে যখন এক তৃতীয়াংশ গ্রাম পঞ্চায়েতের আসন বিজেপির দখলে চলে যায়, সেই সময় তৃণমূল ও বামেরা একে অপরকে দোষারোপ করেছে। ২০১৬-র নির্বাচনে রাজ্যে বিজেপি জিতেছিল মাত্র তিনটি আসনে। আর তৃণমূল জিতেছিল ২১১ টি আসনে।

লোকসভায় জিতেছে বিজেপি
আদিবাসীদের ক্ষোভ বুঝতে পেরে গত লোকসভা নির্বাচনে ঝাড়গ্রাম আসনে তৃণমূলের তরফে প্রার্থী করা হয়েছিল এক মহিলাকে। যদিও বিজেপি সেই আসন দখল করে নেয়। শুধু ওই আসনই নয়, পুরুলিয়া, মেদিনীপুর, বাঁকুড়া এবং বিষ্ণুপুর আসনও দখল করে বিজেপি। একটি মাত্র আসন, ঘাটাল পায় তৃণমূল। বিজেপির এই জয়ের পিছনে আরএসএস-এর অবদান রয়েছে অনেকটাই। কেননা তারা ঝাড়খণ্ড, ওড়িশা, ছত্তিশগড়ের আদিবাসী অধ্যুষিত এলাকার পাশাপাশি পশ্চিমবঙ্গের ওই অংশেও সরস্বতী শিশু মন্দির স্কুল-সহ বিভিন্ন সমাজকল্যাণমূলক প্রকল্পে জড়িয়ে পড়েছে। ঝাড়গ্রামে একাল বিদ্যালয়ের অধীনে থাকা বনবাসী কল্যাণ কেন্দ্রও রয়েছে একটি। আরএসএস এলাকায় মাওবাদীদের পাশাপাশি খ্রিস্টান সংগঠনের বিস্তারেরও বিরোধিতা করেছে।

কুর্মিরাই বিজেপির মূল সমর্থনকারী
গত লোকসভা নির্বাচনে জঙ্গলমহলে কুর্মিরা দুহাত ভরে বিজেপিকে সমর্থন করে। তবে তারা শুধু জঙ্গলমহলেই নয়, সংলগ্ন ঝাড়খণ্ডে এই জনগোষ্ঠী বিজেপিকে সমর্থন করেছে। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে নাগরিকত্ব আইন নিয়ে বিজেপির ওপরে ক্ষুব্ধ। বিশেষ করে যাঁরা গভীর অরণ্যে থাকে তাঁদেরকে মর্যাদা না দেওয়া অভিযোগও তোলা হয়েছে। পাশাপাশি দাবি সত্ত্বেও কেন্দ্র তাঁদেরকে আদিবাসীর মর্যাদাও দেয়নি। তবে নির্বাচনের মুখে বিজেপি এবং তৃণমূল উভয়েই ঝাঁপিয়ে পড়েছে কুর্মিদের সমর্থন আদায়ে। সমগ্র জঙ্গলমহলে এই সম্প্রদায়ের জনসংখ্যা প্রায় ৩০ লক্ষের মতো।

বিহারের কুর্মিদের থেকে আলাদা
তবে বিহারের কুর্মিদের থেকে ঝাড়গ্রাম কিংবা ঝাড়গ্রামের কুর্মি জনগোষ্ঠী আলাদা। ১৯৩১ সালে ছোটনাগপুরের কর্মিদের আদিবাসীদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল। ১৯৫০-এর ৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তাঁরা সেই তালিকায় ছিলেনও। তারপর কেন তারা তালিকা থেকে বাদ পড়লেন, তা এখনও জানা যায়নি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অবশ্য কুর্মিদের নিজের দিকে টানতে চেষ্টার কসুর করেননি। তিনি ছত্রধর মাহাতকে দলে অন্তর্ভুক্ত করেছে। পাশাপাশি কুর্মিদের তপশিলি উপজাতির তালিকায় অন্তর্ভুক্তির দাবি করেছেন।












Click it and Unblock the Notifications