নাড্ডার উপস্থিতিতেও ছন্নছাড়া বঙ্গ বিজেপি! প্রতিটি পদক্ষেপেই তাল কাটছে, কী হবে বৈঠকে
নাড্ডার উপস্থিতিতেও ছন্নছাড়া বঙ্গ বিজেপি! প্রতিটি পদক্ষেপেই তাল কাটছে, কী হবে বৈঠকে
তিনদিনের রাজ্য সফরে এসেছেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি জেপি নাড্ডা। মঙ্গলবার রাতেই তিনি পা রাখেন কলকাতায়। আর বুধবার তাঁর প্রথম কর্মসূচি শুরু হয় হুগলির চুঁচুড়ায় বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের স্মৃতিবিজড়িত বন্দেমাতরম ভবন থেকে। কিন্তু কলকাতায় নাড্ডার আসা থেকে বন্দেমাতরম ভবনে প্রথম কর্মসূচি, সর্বত্রই বঙ্গ বিজেপিতে ছন্নছাড়া ভাব স্পষ্ট।

এদিন চুঁচুড়ায় বন্দেমাতরম ভবন পরিদর্শনে যান বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি জেপি নাড্ডা। নাড্ডার সঙ্গে ছিলেন সাংসদ লকেট চট্টোপাধ্যায়, রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার। ছিলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী ও সর্বভারতীয় সহ সভাপতি দিলীপ ঘোষও। কিন্তু একতার অভাব বারবার চোখে পড়েছে তাঁদের মধ্যে। দেখা যায়, বিজেপির প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ ছিলেন পিছনের সারিতে, বাকিদের থেকে দূরে দূরে। তবে লকেটকে গুরুত্ব দিতে দেখা যায় এদিন। লকেট ও সুকান্তকে কথা বলতেও দেখা যায়।
কলকাতায় জেপি নাড্ডা পা পারেখেথেন মঙ্গলবার। সেদিনই বিজেপির রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদারের সভায় বিশৃঙ্খলা ছিল চোখে পড়ার মতো। আবার নাড্ডা আসার পর কে আগে তাঁকে সম্মান জানাবে তা নিয়েও বিশৃঙ্খলা দেখা যায়। বিজেপির জাতীয় সভাপতির কাছে কে আগে যাবেন, তাঁকে স্বাগত জানাবেন তা নিয়েই তীব্র রেষারেষি শুরু হয়ে যায়।
মঙ্গলবার রাতে তাঁকে স্বাগত জানাতে বিমানবন্দরে উপস্থিত ছিলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার, বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী, ছিলেন কেন্দ্রীয়মন্ত্রী নিশীথ প্রামাণিক। আর ছিলেন বিজেপির সর্বভারতীয় সহ সভাপতি দিলীপ ঘোষ। দিলীপ ঘোষকে প্রথম থেকেই উপস্থিত থাকতে বলা হয়েছিল। দল থেকেই তাঁকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।
বিমানবন্দর থেকে জেপি নাড্ডা সরাসরি বেরিয়ে চলে যান নিউটাউনের অভিজাত হোটেলে। জেপি নাড্ডা ও দিলীপ ঘোষ বৈঠক নিয়েও আগ্রহ ছিল তুঙ্গে। কেননা দিলীপের মুখে তালা লাগানোর পর প্রথম বৈঠক বলে কথা। দলের সূত্রেই খবর ছিল তাঁদের মধ্যে বৈঠক হতে পারে। বিজেপির বর্তমান রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদারেরও উপস্থিত থাকার কথা ছিল।
অর্থাৎ বিজেপি যে দলের মধ্যে ভেদাভেদ মেটাতে তৎপর তা বোঝা গিয়েছিল দলীয় নেতাদের বৈঠকের কর্মসূচি থেকে। বঙ্গ বিজেপিতে যে শীর্ষস্তরের নেতারাও বেসুরো বাজছে। আরএসএসের মুখপত্রে বিজেপির নেতা-নেত্রীদের দলবদল নিয়ে লেখা হচ্ছে। তারপর নাড্ডার সফরে সবাইকে সম্মিলিতভাবে ভাবে দেখানোই বিজেপির উদ্দেশ্য। এই আঙ্গিকে হুগলির চুঁচুড়ার বন্দেমাতরম ভবন পরিদর্শনে সবাইকেই এক ফ্রেমে দেখা দগেল ঠিকই, কিন্তু ছন্নছাড়া লাগত বঙ্গ বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বকে। কোথায় যেন তাল কেটে গিয়েছ তাদের। এদিন বন্দেমাতরম ভবনের পর রাসবিহারী ইনস্টিটিউট পরিদর্শনে যান জেপি নাড্ডা। বিজেপির কর্মিসভার বৈঠতে পৌরহিত্য করবেন তিনি।












Click it and Unblock the Notifications