রাজীব তৃণমূলে ফিরেই শুদ্ধ! কী হবে দুবাইয়ের বাড়ির, কোন পরিস্থিতি নিয়োগ আর ইয়াস দুর্নীতির, উঠছে প্রশ্ন
রাজীব তৃণমূলে ফিরেই শুদ্ধ! কী হবে দুবাইয়ের বাড়ির, কোন পরিস্থিতি নিয়োগ আর ইয়াস দুর্নীতির, উঠছে প্রশ্ন
ভোটের আগে তৃণমূল থেকে বিজেপিতে (bjp) যোগদানের ঢল দেখে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (mamata banerjee) থেকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে (abhishek banerjee) বলতে শোনা গিয়েছে বিজেপি হল ওয়াশিং মেশিন। সেখানে যেই যায় শুদ্ধ হয়ে যায়। নয় মাসেই রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়ের (rajib banerjee) তৃণমূলে (trinamool congress) ফেরা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে, তাহলে তৃণমূলের তরফে রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রীকে দুর্নীতিগ্রস্ত বলে যে তদন্ত শুরু হয়েছিল (আদৌ শুরু হয়েছিল কিনা সরকার জানে), এবার তার কী হবে, তাহলে কি বিজেপিতে গিয়ে শুদ্ধ হয়েই ফিরলেন রাজীব, এই প্রশ্নও উঠছে।

বন সহায়কের নিয়োগে দুর্নীতি
গত নভেম্বরে বন সহায়কের পদে নিয়োগ করা হয়। নিয়োগের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছিল বনবস্তি এলাকার বাসিন্দাদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। কিন্তু সেখানে সেই বিজ্ঞপ্তি না মানার অভিযোগ তুলে আলিপুরদুয়ারের চিলাপাত রেঞ্জ. জলপাইগুড়ির খুনিয়া রেঞ্জ, ময়নাগুড়ির রামশাই রেঞ্জ এবং গরুমারা নর্থ রেঞ্জে বিক্ষোভ হয়েছিল। সেই বিক্ষোভে শামিল ছিলেন স্থানীয় তৃণমূল কর্মী সমর্থকরাও। অভিযোগ উঠেছিল নিয়োগ হয়ে গিয়েছে সমতলের তৃণমূলের কর্মীদের মধ্যে থেকে। মুখ্যমন্ত্রী নিজে অভিযোগ তুলে বলেছিলেন, বন সহায়ক পদে নিয়োগ নিয়ে কারসাজি করা হয়েছে। আর বিক্ষোভ প্রসঙ্গে তিনি বলেছিলেন, দাবি পুনর্বিবেচনা করা হবে। যদিও অভিযোগ উড়িয়ে রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায় সেই সময় নিয়োগ নিয়ে পাল্টা তৃণমূলের দিকেই তোপ দেগেছিলেন। এব্যাপারে বিজেপির তরফে প্রশ্ন তোলা হয়েছে দেড়মাসে কীভাবে ১০ লক্ষ পরীক্ষার্থীর ইন্টারভিউ নেওয়া সম্ভব হল।

কলকাতা-দুবাইয়ে সম্পত্তি
ডোমজুড়ে প্রচারে গিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে আরও বিস্ফোরক অভিযোগ তুলেছিলেন। তিনি রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়কে গদ্দার বলে সম্বোধন করে বলেছিলেন জনগণের টাকা মেরেছে। সেচ দফতরে কমিশন নিয়ে দুর্নীতি করে প্রচুর টাকা করার অভিযোগও তিনি করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন কলকাতা ও দুবাইয়ে অনেক সম্পত্তি করেছে রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়।

রাজীব-শুভেন্দুর বিরুদ্ধে শুরু হয়েছিল তদন্ত
ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের জেরে বাঁধ ভেঙে বহু গ্রাম প্লাবিত হয়েছিল। সেই সময় বিরোধীদের তরফে বাঁধ সারাইয়ে রাজ্যের উদাসীনতার অভিযোগ করেছিল বিরোধীরা। মুখ্যমন্ত্রী অভিযোগ করেছিলেন দুই প্রাক্তন সেচমন্ত্রী রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায় এবং শুভেন্দু অধিকারীর দিকে। দুজনের সময়ে সেচদফতরে টাকা নয়ছয়ের অভিযোগে তদন্তের নির্দেশও দিয়েছিলেন তিনি।

ওয়াশিং মেশিন কটাক্ষ
ভোটের প্রচারে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিজেপিকে ওয়াশিং মেশিন বলে কটাক্ষ করেছিলেন। যাঁরা বিজেপিতে যোগদান করেছেন, তাঁদের উদ্দেশে বলেছিলেন, ওরা অনেক টাকা করেছে। তাদেরকে ইডি, সিবিআই-এর ভয় দেখানো হয়েছে। তিনি বলেছিলেন কালো চাকা সাদা করতে বিজেপি যাচ্ছে সবাই। তিনি আরও বলেছিলেন, তৃণমূলে থাকলে সবাই কালো, আর বিজেপিতে গেলে সবাই ভালো। সেই বিজেপি থেকে নয় মাসের মধ্যেই যখন অভিযুক্ত নেতাই তৃণমূলে ফিরে আসেন, তখন তাঁকে নিয়ে তৃণমূল সাংসদ প্রতিক্রিয়া দেন টপ টু বটাম করাপটেড। আর বিজেপির প্রতিক্রিয়া, বনসহায়কের নিয়োগ নিয়ে তদন্ত শেষে কী হয়, তার অপেক্ষায় রয়েছে তারা।












Click it and Unblock the Notifications