'নিপা'র হাই অ্যালার্ট জারি বাংলায়! চিকিৎসা নেই, টিকা নেই, বাঁচার উপায় কী? উপসর্গ কী? সবটা জানুন এখানে
বাংলায় বহু বছর পর ফের নিপা ভাইরাসের সংক্রমণ ধরা পড়ায় উদ্বেগের মধ্যে আছে রাজ্য এবং কেন্দ্র। ইতিমধ্যেই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে ফোনেও কথা বলেছেন কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জে পি নাড্ডা। পরিস্থিতি খতিয়ে দেখার জন্য কেন্দ্র থেকে বিশেষজ্ঞদের একটি দলও পাঠানো হচ্ছে। সবচেয়ে চিন্তার বিষয় হলো, নিপা ভাইরাসের এখনও পর্যন্ত কোনও নির্দিষ্ট চিকিৎসা অথবা ভ্যাকসিন নেই। তাই উপসর্গ তাড়াতাড়ি চিহ্নিত করা এবং সতর্ক থাকাই এখন সবথেকে বেশি জরুরি।

চিকিৎসকদের মতে, শরীরে ভাইরাস ঢোকার ৪-১৪ দিনের মধ্যে লক্ষণ দেখা দিতে পারে। গ্রামাঞ্চলে এই রোগ সম্পর্কে সচেতনতার অভাব থাকার কারণে সেখানে বাড়তি নজরদারি প্রয়োজন বলেও মত বিশেষজ্ঞদের।
নিপা ভাইরাসের সাধারণ উপসর্গ:
হঠাৎ করে জ্বর, মাথা ও শরীর ব্যথা, গা-হাত পায়ে যন্ত্রণা, বমি বমি ভাব অথবা বমি, গলা ব্যথা, খিঁচুনি, অজ্ঞান হয়ে যাওয়া, শ্বাস নিতে কষ্ট, মাথা ঠিকভাবে কাজ না করা।
কীভাবে ছড়ায় নিপা ভাইরাস?
মূলত বাদুড় নিপা ভাইরাসের প্রাকৃতিক বাহক। বাদুড়ের লালা, প্রস্রাব অথবা মলে দূষিত ফল বা ফলের রস থেকে সংক্রমণ ছড়ায়। কাঁচা খেজুরের রসও নিপা ছড়ানোর বড় উৎস। সংক্রমিত পশু (বিশেষ করে শুয়োর) থেকে মানুষে সংক্রমণ ছড়াতে পারে। আক্রান্ত মানুষের সংস্পর্শে এসেও এই ভাইরাস ছড়াতে পারে।
কোন কোন খাবার থেকে সাবধান থাকবেন?
- খোলা বা কাঁচা খেজুরের রস।
- বাদুড় কামড়েছে এমন ফল।
- না ধোয়া কাঁচা ফল।
- তবে, খেজুরের গুড় সাধারণত নিরাপদ বলেই জানাচ্ছেন চিকিৎসকেরা
নিপা থেকে বাঁচতে কী করবেন?
- কাঁচা খেজুরের রস একেবারেই এড়িয়ে চলুন।
- ফল ভাল করে ধুয়ে খান.
- শুয়োর পালন বা সংক্রমিত পশুর সংস্পর্শ এড়িয়ে চলুন।
- ভিড় বা ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় N-95 মাস্ক ব্যবহার করুন।
- বাইরের খাবার যতটা সম্ভব কম খান।
- জ্বর বা সন্দেহজনক উপসর্গ হলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন যে , নিপা ভাইরাস অত্যন্ত মারাত্মক। আক্রান্ত হলে ৭-১০ দিনের মধ্যেই রোগী কোমায় পর্যন্ত চলে যেতে পারেন। বিশ্বজুড়ে এই রোগে মৃত্যুহার ৪০-৭৫ শতাংশ পর্যন্ত। তাই আতঙ্ক নয়, সচেতনতাই এখন সবচেয়ে বড় অস্ত্র।












Click it and Unblock the Notifications