করোনা মোকাবিলায় কোন পথে রাজ্য? বাংলায় গুরুত্বপূর্ণ পরবর্তী ২ সপ্তাহ, মত বিশেষজ্ঞদের
করোনা মোকাবিলায় কোন পথে রাজ্য? বাংলায় গুরুত্বপূর্ণ পরবর্তী ২ সপ্তাহ, মত বিশেষজ্ঞদের
পুজোয় কলকাতার নাম করা পুজো মণ্ডপগুলিতে ভিড় উপচে পড়তে দেখা গিয়েছে। তবে সেখানে পুজো উদ্যোক্তা কিংবা প্রশাসনের নজরদারি সেরকম চোখে পড়েনি। বলা ভাল করোনা (coronavirus) মোকাবিলায় মাস্ক পরতে বাধ্য করা কিংবা শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখার চেষ্টা করেনি প্রশাসন। যে কারণে শঙ্কিত রাজ্যের জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা (health expart)।

ফের বাড়ছে টেস্টের সংখ্যা
রাজ্য জুড়েই উৎসবের মেজাজ থাকায় করোনা পরীক্ষা সংখ্যা একধাক্কায় অনেকটাই কমে গিয়েছিল। সেখানে আক্রান্তের সংখ্যাও কম হয়েছিল। স্বাস্থ্য দফতরের ওয়েবসাইট ঘাটলেই দেখা যাবে ১ অক্টোবর ৩৯৬৬১ টি করোনা পরীক্ষা করা হয়েছিল। কিন্তু পুজোর মধ্যে তা ১৮ হাজারে নেমে গিয়েছেন। ১৫ অক্টোবর পরীক্ষা হয়েছিল ২১, ২১৭ টি। ১৭ অক্টোবর পরীক্ষা হয়েছে ২৭, ১৪৮ টি। ১৮ অক্টোবর ফের পরীক্ষার সংখ্যা নেমে হয় ২৩,০১৯টি। স্বাস্থ্যদফতরের তরফ থেকে ইতিমধ্যেই পরীক্ষা বাড়ানোর ব্যাপারে প্রচেষ্টা শুরু করা হয়েছে। র্যাপিড টেস্টের সংখ্যা বাড়াতে ইতিমধ্যে কেন্দ্রীয় সরকারের থেকে কিট সংগ্রহ করে তা পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে বিভিন্ন জেলায়।

অতীতে ভিড়েই বেড়েছে আক্রান্তের সংখ্যা
গতবছর এই সময় ছিল প্রথম তরঙ্গ। পুজোর সময় তুলনামূলক বেশি লোক রাস্তায় বেরোলেও এবারের মতো ভিড় হয়নি। গত বছর এই সময় রাজ্যে আক্রান্তের সংখ্যাটা ছিল ৪ হাজারের পাশাপাশি। যদিও এবছরে তা এখনও পর্যন্ত ৭০০ আশপাশে রয়েছে। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন এই মূহুর্তে বোঝা না গেলেও সামনের দিন দশ থেকে ১৪ দিনের মধ্যে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়বে।
গত বিধানসভা নির্বাচনের সময় বহু মানুষ রাস্তায় বেরিয়েছিলেন। তখন বোঝা না গেলেও ভোটের ফল বেরনোর পরেই রাজ্যে দ্বিতীয় তরঙ্গ টের পাওয়া গিয়েছিলেন। মে মাসের মাঝামাঝি সময়ে রাজ্যের আক্রান্তের সংখ্যা পৌঁছে গিয়েছিল ২০ হাজারের আশপাশে। জনসাধারণের মধ্যে মাস্ক না পরা এবং দূরত্ব বিধি না মানার জন্যই এই পরিস্থিতি বলেই জানিয়েছিলেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।

আদালতের নির্দেশ আদৌ কি মানা হয়েছে
পুজোর ভিড় নিয়ন্ত্রণে হাইকোর্টের তরফে নির্দেশিকা জারি করা হয়েছিল। বলেছিল পুজো প্যান্ডেলের মধ্যে ভিড় করা যাবে না। কিন্তু তা আদৌ মানা হয়েছে কি? কেননা সবার সামনে একটি মাত্র উদাহরণ রয়েছে। তা হল শ্রীভূমির বুর্জ খলিফা। যা দেখতে বহু মানুষ ভিড় জমিয়ে ছিলেন। সেখানে ভিড় দেখে বিভিন্ন মহলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন, দুটি তরঙ্গ সামলে আসা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা। এমন কী পরিস্থিতি সামাল দিতে প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা করে ডাউন গাড়িগুলিকে নিকটবর্তী বিধাননগর স্টেশনে দাঁড়াতে দেওয়া হয়নি পূর্ব রেলের তরফে। ফলে একটি মণ্ডপেই যদি এই অবস্থা হয়, তাহলে শহরে তো আরও বেশ কয়েকটি নামী মণ্ডপ ছিল, সেখানের অবস্থাও কমবেশি এর সঙ্গে তুলনীয়।

দুসপ্তাহ কড়া নজরদারি প্রয়োজন
পুজোর সময়ে একদিকে যেমন করোনা পরীক্ষা সংখ্যা কমেছে, অন্যদিকে আক্রান্তের সংখ্যাও বেশ খানিকটা ওপরনিচ করেছে। শনিবার ১৬ অক্টোবর যেখানে আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ৪৪৩ জন, সেখানে পরের দিনই আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৬২৪। এই পরিস্থিতিতে পরিস্থিতির ওপরে কড়া নজরদারি করা এবং পরীক্ষা সংখ্যা বাড়িয়ে যাওয়া ছাড়া আর কোনও উপায় নেই বলেই মনে করছেন চিকিৎসকরা। পরবর্তী দুসপ্তাহ সময় এজন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ বলেই মনে করছেন তাঁরা।












Click it and Unblock the Notifications