পুরসভা ও পুরনিগমের সংরক্ষণ তালিকার খসড়া নিয়ে ক্ষোভ তৃণমূলেই
রাজ্যের ৯৩টি পৌরসভা এবং পৌরনিগমের সংরক্ষণ তালিকার যে খসড়া তৈরি হয়েছে, তা নিয়ে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে তৃণমূলের মধ্যে। রাজ্য নির্বাচন কমিশন সূত্রে খবর, ইতিমধ্যেই ১০টির বেশি আপত্তির কথা জমা পড়েছে সংশ্লিষ্ট জেলায়। আবার অনেকেই ক্ষুব্ধ হলেও সে বিষয়ে অভিযোগ জানিয়ে প্রকাশ্যে আনেননি নিজের ক্ষোভের কথা। সাধারণভাবে দেখা যায় যে অনেক তৃণমূল কাউন্সিলের স্ত্রী পৌরনির্বাচনের টিকিট পান কিন্তু এই খসড়ার ফলে তাঁরা টিকিট পাওয়া থেকে বঞ্চিত থাকবেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। তবে ওইসব নেতাদের ক্ষোভ ভোট বাক্সে পড়তে পারে বলে মনে করছে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো।

গোষ্ঠী রাজনীতির সমীকরণে থাকা শাসক দলের অনেক পৌর প্রতিনিধির আসন এবার মহিলাদের সংরক্ষণের আওতায়। আগের রেকর্ড অনুযায়ী, এক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাপনা হল, স্ত্রীকে নির্বাচনে দাঁড় করিয়ে ক্ষমতা ভোগ করা। কিন্তু অনেকেই আবার নিজের স্ত্রীকে নির্বাচনী ময়দানে আনতে চান না। সেই সব জায়গাতেই তৈরি হয়েছে সমস্যা।
যেমন দক্ষিণ দমদম পৌরসভার এক কাউন্সিলের নিজের ওয়ার্ডকে ব্যাপকভাবে সাজিয়েও গতবার পড়েছিলেন সংরক্ষণের আওতায়। তিনি অন্য একটি বামপন্থী ওয়ার্ড থেকে জিতে আসেন। জেতার পর সেই অঞ্চলকে নিজের মতো করে সাজিয়ে দিয়েছেন। রাজ্যের এক মন্ত্রী তথা ওই এলাকার প্রভাবশালী নেতা তৎপর হয়ে ওই ওয়ার্ডটি সংরক্ষণের আওতায় এনেছেন বলে মনে করছেন ওই কাউন্সিলর।
আবার আগে তিনি যে ওয়ার্ডে দাঁড়াতেন সেই ওয়ার্ডটি এবারও সংরক্ষণের আওতায় ৷ ফলে বিপাকে পড়েছেন ওই কাউন্সিলর ৷ আশঙ্কার সূত্র ধরে দিন কয়েক আগে রাইট টু ইনফরমেশন অ্যাক্ট অনুযায়ী চিঠি পাঠান ওই কাউন্সিলর। বলা হয়, কোন থিওরিতে অর্থাৎ সিডিউল ও টার্মে এবারের সংরক্ষণ তৈরি করা হয়েছে তা জানানোর জন্য। দু'দিনের মধ্যে উত্তর পাওয়া যায়নি বলে আদালতে মামলা করেন তিনি। এদিকে দমদম, উলুবেরিয়া সহ একাধিক পৌরসভা থেকে সংরক্ষণ নিয়ে আপত্তি জানিয়ে আবেদন জমা পড়েছে বলে জানা গেছে। সেই সব আপত্তির সূত্র ধরে আজকের পর শুরু হবে হিয়ারিং। তারপর ১০ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত হবে চূড়ান্ত সংরক্ষণ তালিকা। রাজ্য নির্বাচন কমিশন সূত্রে খবর।












Click it and Unblock the Notifications