শালবনীতে হাতির হানায় মৃত্যু একজনের
শালবনীতে হাতির হানায় মৃত্যু একজনের
শুক্রবারের পর শনিবার রাতেও পশ্চিম মেদিনীপুরের শালবনী থানার এলাকায় ফের হাতির আক্রমণে মৃত্যু হয়েছে এক ব্যক্তির। যিনি শনিবার রাতে হাতির আক্রমণে মারা গিয়েছেন তিনি তার আলুর জমি পাহারা দিতে গিয়েছিলেন । শনিবার রাতে এই ঘটনা ঘটেছে শালবনীর যাত্রা বিষ্ণুপুরে। মৃতের নাম খোকন দাস (৫৫)। তার বাড়ি বিষ্ণুপুরেই।উল্লেখ্য শুক্রবার রাতে শালবনীর ঢেঙাশোল গ্রামে হাতির হামলায় মৃত্যু হয়েছে কালীপদ মাহাতো নামে এক ব্যক্তির । হাতি ওই গ্রামে ঢুকে পড়ে বেশ কিছু বাড়িতে ভাঙচুর করে । কালীপদ মাহাতো ওই হাতি তাড়াতে এগিয়ে যায় ।

লোকজন তাকে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলেও তিনি তা শোনেন নি । হাতি তাকে শুঁড়ে করে পেঁচিয়ে পা দিয়ে পিষে দেয় । গত 1 জানুয়ারি শালবনীর ভীমপুর এলাকার বলরামপুর গ্রামে হাতির আক্রমণে মৃত্যু হয়েছে একাদশ শ্রেণীর ছাত্র বিজয় মাহাতোর । এবার শালবনীর আরও এক গ্রামে হাতির আক্রমণে মৃত্যু হয়েছে আরও একজনের।
এই নিয়ে এই বছরেই ঝাড়গ্রাম, পশ্চিম মেদিনীপুর ও বাঁকুড়ার বিষ্ণুপুর এলাকায় হাতির আক্রমণে মৃত্যু হল ন'জনের ।
মাত্র এই কদিনের মধ্যে হাতির আক্রমণে এত জনের মৃত্যুর কারণে বন বিভাগের ওপর মানুষের ক্ষোভ যেমন বাড়ছে, তেমনই উদ্বেগ বাড়ছে বন বিভাগের । কারণ গত বারের তুলনায় এই বছর এই এলাকায় ঘুরে বেড়ানো হাতির সংখ্যা বেশি । তারা ছোট ছোট বিভিন্ন দলে ভাগ হয়ে বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে বেড়াচ্ছে । তার ফলে হাতি খেদাতে গিয়ে সমস্যার মধ্যে পড়তে হচ্ছে বন বিভাগের কর্মীদের । তার সঙ্গে মানুষেরবাধাও আছে ।
বন বিভাগের সূত্রে জানা গিয়েছে যে, হাতির দল এমনিতেই চাষের জমিতে ফসলের ক্ষতি করছে । যে সব জায়গাতে হাতির দল ঘুরে বেড়াচ্ছে সেখানে জঙ্গলের পাশাপাশি আছে গ্রাম ও লোকালয়। আছে চাষ জমি। হাতি তাড়াতে গেলে অনেক সময় হাতির দলকে ওই চাষ জমির ওপর দিয়ে নিয়ে যেতে হচ্ছে ।

চাষীরা জানিয়েছেন যে হাতি ফসলের ক্ষতি করলে বন বিভাগের থেকে যে ক্ষতিপূরণ পাওয়া যায় তা তাদের ক্ষতির তুলনায় অনেক কম ।
স্থানীয় সুত্রে জানা গিয়েছে কয়েকদিন ধরেই ২৫ - ৩০ টি হাতির একটি দল বিষ্ণুপুর লাগোয় এলাকায় দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। তারাই শনিবার রাত্রে বিষ্ণুপুরের মাঠে নেমে আলু সহ ফসলের ক্ষতি করতে থাকে। খবর পেয়ে গ্রামবাসীরা নিজেদের জমি ও ফসল রক্ষা করার জন্য হাতি তাড়াতে যায়। মৃত খোকন ঘোষও নিজের আলু হাতির উপদ্রব থেকে রক্ষা করার জন্য মাঠে গিয়েছিল। নিজের জমির সামনে দাঁড়িয়ে থাকার সময় আচমকা একটি হাতি এসে খোকন ঘোষ কে শুঁড়ে প্যাঁচিয়ে আছাড় মারে। ঘটনাস্থলেই প্রান হারায় ওই ব্যক্তি।
হাতি শুধু মাত্র জমিতে নয় খাবারের খোঁজে শহরে ঢুকে পড়ছে । চলে আসছে গ্রামে বাড়ির মধ্যেই ।
সমস্যার কথা মেনে নিয়ে বন বিভাগের আধিকারিকরা জানিয়েছেন যে তারা সাধ্যমতো চেষ্টা করছেন ।
" গত বছরেরতুলনায় এই বছর বেশী সংখ্যক হাতি আরও অনেক বেশি জায়গাতে ঘুরে বেড়াচ্ছে । আমরা চেষ্টা করছি যাতে দলমা থেকে আসা হাতির দলকে এক জায়গার মধ্যে আটকে রাখা যায় ।
এই জন্য দলমা লাগোয়া বেলপাহাড়ি ও পুরুলিয়া জেলার র সংযোগ স্থলে ময়ূর ঝর্ণা প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে । যে হাতি গুলি আছে তারা দীর্ঘ দিন ধরে এই এলাকায় ঘুরে বেড়াচ্ছে । যে পথ তারা ব্যবহার করত সেই পথ দিয়ে তারা দলমার দিকে যেতে চাইছে না । আমরা চেষ্টা করছি যাতে কোনো বিকল্প পথে তাদের দলমার দিকে নিয়ে যাওয়া যায় " বলে জানিয়েছেন বন বিভাগের সি সি এফ ( পশ্চিমাঞ্চল) শক্তি শংকর দে ।
আর এলাকায় লোকজন বলছেন যে তারা এই কথা দীর্ঘ দিন ধরে শুনে আসছেন । কিন্তু কাজ কিছু হচ্ছে না ।












Click it and Unblock the Notifications