ভোটে শূন্য হয়েও কোটির কামাল শারদ-স্টলে, বামপন্থায় ফিরে আসার রসদ পেল সিপিএম
ভোটে শূন্য হয়েও কোটির কামাল শারদ-স্টলে, বামপন্থায় ফিরে আসার রসদ পেল সিপিএম
২০১৯-এ সিপিএম একজন সদস্যও পাঠাতে পারেনি লোকসভায়। একুশের বিধানসভা ভোটে একটি আসনেও জয় পায়নি সিপিএম। ভোটব্যাঙ্কও পৌঁছে গিয়েছে তলানিতে। বাংলা থেকে কার্যত নিশ্চিহ্ন হয়ে গিয়েছে সিপিএম। ৩৪ বছরের বাম সরকারের প্রধান শরিক দলে চরম দুঃসময় চলছে। এই চরম দুঃসময়েও খুশির খবর শোনাল সিপিএম নেতৃত্ব।

শারদোৎসবে এক কোটি টাকার বই বিক্রি সিপিএমের
সিপিএমের দাবি, এবার শারদোৎসবে এক কোটি টাকার বই বিক্রি করেছে তারা। সিপিএম নেতারা এই ঘটনায় উচ্ছ্বসিত। সিপিএম যে এখনও বাঙালি মননে বেঁচে রয়েছে এই ঘটনা তারই প্রমাণ। সিপিএমের স্টল থেকে বই কেনার এই উৎসাহ থেকেই ফের প্রাসঙ্গিকতা ফিরে পাওয়ার রসদ খুঁজছেন বিমান বসু-সূর্যকান্ত মিশ্ররা।

উত্তর ২৪ পরগনা জেলা কমিটি বই বিক্রিতে সবার উপরে
সিপিএমের তরফে জানানো হয়েছে, শারদোৎসবে বিপুল সংখ্যক বই বিক্রি হয়েছে রাজ্যে। বই বিক্রিতে সবার উপরে রয়েছে উত্তর ২৪ পরগনা জেলা কমিটি। এখন পর্যন্ত সিপিএমের সদর দফতর আলিমুদ্দিন স্ট্রিটে যে তথ্যা এসে পৌঁছেছে, তাতে শুধু উত্তর ২৪ পরগনা জেলা কমিটি বই বিক্রি করেছে ১০ লক্ষ টাকার বেশি।

রাজ্যে মোট ১২০০ বইয়ের স্টল দিয়েছে সিপিএম
পরিসংখ্যান বলছে- এবার রাজ্যে মোট ১২০০ বইয়ের স্টল দিয়েছে সিপিএম। শুধু এত সংখ্যক স্টল করেই তাঁরা ক্ষান্ত থাকেননি। এবার জনসংযোগ ও বই বিক্রিতেও বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছিল। তার সুফল হাতেনাতে পেতে শুরু করেছে সিপিএম। সিপিএম এবার স্টল থেকে বামপন্থী ও সমকালীন রাজনীতি এবং মার্কসীয় সাহিত্যের নানা বই বিক্রি করেছে বেশি পরিমাণে।

সিপিএম পার্টির প্রকাশনা সংস্থার বইয়ের স্টল
সিপিএম পার্টির প্রকাশনা সংস্থা থেকে প্রতিবছর পুজোয় বইয়ের স্টল দেওয়া হয়। সিপিএমের বিভিন্নস্তরের রাজ্য কমিটিকে বইয়ের জোগান দেয় সিপিএম পার্টির প্রকাশনা সংস্থা। রাজ্যেক সবথেকে বড় জেলা এই মুহূর্তে উত্তর ২৪ পরগনা। এই জেলায় স্টলও হয়েছিল বেশি। এই জেলাই বই বিক্রিতে সবার উপরে রয়েছে। টাকার অঙ্কেও সবার উপরে রয়েছে উত্তর ২৪ পরগনা।

কালীপুজো-জগদ্ধাত্রী পুজোতেও স্টল দেবে সিপিএম
আলিমুদ্দিন স্ট্রিটের দাবি, বই বিক্রিয় পূর্ণাঙ্গ হিসেবে এখনও আসেনি। ত সবে আসতে শুরু করেছে। প্রাথমিক হিসেব অনুযায়ী এক কোটি টাকারও বেশি বই বিক্রি হয়েছে। এখনও আমাদের বই বিক্রি হবে বারাসতের কালীপুজো এবং চন্দননগর ও কৃষ্ণনগরের জগদ্ধাত্রী পুজোর স্টলে। সিপিএম নেতারা আশা করছেন কালীপুজো ও জগদ্ধাত্রী পুজোতেও তাঁরা বই বিক্রির রেকর্ড বজায় রাখতে পারবেন।

বামপন্থা শেষ হয়ে যায়নি, সিপিএমের স্টলই তার প্রমাণ
শারদোৎসবের স্টলে বিপুল সংখ্যক বই বিক্রি প্রসঙ্গে সিপিএমের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য তথা রাজ্যের প্রাক্তনমন্ত্রী সুজন চক্রবর্তী বলেন, বাংলার শিক্ষিত সমাজদের মধ্যে বামপন্থার একটা আলাদা জায়গা রয়েছে। তৃণমূল-বিজেপির জমানায় মেরুকরণের জাঁতাকলে আটকে পড়েছে নির্বাচন। কিন্তু বামপন্থা শেষ হয়ে যায়নি। রাজ্যের একটা বিপুল সংখ্যক মানুষের আস্থা এখনও বামপন্থী দলগুলির উপর রয়েছে।












Click it and Unblock the Notifications