মমতার মন্ত্রিসভায় শীঘ্রই রদবদল! অর্থ-পঞ্চায়েত দফতর হাতে, কারা পেতে পারেন বাড়তি দায়িত্ব, জল্পনা তুঙ্গে
মমতার মন্ত্রিসভায় শীঘ্রই রদবদল! অর্থ-পঞ্চায়েত দফতর হাতে, কারা পেতে পারেন বাড়তি দায়িত্ব, জল্পনা তুঙ্গে
একদিকে অমিত মিত্রের (Amit Mitra) ছয়মাসের কার্যকাল শেষ হয়ে যাওয়া, অন্যদিকে সুব্রত মুখোপাধ্যায়ের (Subrata Mukherjee) মৃত্যুতে খানিকটা চাপেই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। কাছের বলে পরিচিত অনেকেই মনে করতে পারছেন না, মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পরে এমন সংকটে তিনি পড়েছিলেন কিনা। কেননা দুইজনেই মন্ত্রিসভায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিশ্বস্ত বলেই পরিচিত ছিলেন। যার জেরে রাজ্য মন্ত্রিসভায় শীঘ্রই পরিবর্তন (reshuffle) হতে চলেছে বলে সূত্রের খবর।

কার্যকাল শেষ, এবার উপদেষ্টা হতে পারেন অমিত মিত্র
তৃতীয়বারের জন্য রাজ্যের মন্ত্রিসভার শপথের দিনে শপথ নিয়েছিলেন অমিত মিত্র। আগের দুবারের মতোই তাঁকে অর্থদফতরের দায়িত্ব তুলে দিয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু পরবর্তী ছয়মাস সময়ের মধ্যে বিধানসভা নির্বাচনে দাঁড় না করানোয় ৫ নভেম্বর অর্থমন্ত্রী হিসেবে অমিত মিত্রের কার্যকালের মেয়াদ শেষ হয়ে গিয়েছে। এই মুহূর্তে স্বাভাবিকভাবেই অর্থদফতরের দায়িত্ব মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাতে রয়েছে। সূত্রের খবর অনুযায়ী, ভবিষ্যতের জন্য সরকারিভাবে এই দায়িত্ব নিজের হাতেই রাখতে পারেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে কাজ সামলাতে চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যকে অর্থ দফতরের প্রতিমন্ত্রী করা হতে পারে। এর সঙ্গে অমিত মিত্রকে করা হতে পারে অর্থ দফতরের উপদেষ্টা। আর চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যকে অর্থ প্রতিমন্ত্রী করা হলে, তাঁর হাতে থাকা পুর ও নগরোন্নয়ন দফতর অন্য কারও হাতে দেওয়া হতে পারে।

মন্ত্রিসভায় উত্তরবঙ্গ থেকে নতুন মুখ দেখা যেতে পারে
রাজ্য মন্ত্রিসভায় একাধিক নতুন মুখ দেখা যেতে পারে। এর মধ্যে অবশ্যই প্রথমেই নাম উঠে আসছে দিনহাটা থেকে বিজেপিকে রেকর্ড ভোটে হারানো উদয়ন গুহর। এব্যাপারে কোনও মন্তব্য করতে রাজি নন উদয়ন গুহ। ৯ নভেম্বর বিধানসভায় চার বিধায়কের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান। বিষয়টি নিয়ে তিনি মুখ্যমন্ত্রীর ওপরে দায়িত্ব ছেড়ে বলেছেন, কে মন্ত্রী হবেন, তা ঠিক করেন মুখ্যমন্ত্রী। তবে বাম আমল থেকে কোচবিহার জেলা থেকে দুজন করে মন্ত্রী হয়ে আসছেন। এর আগে কোচবিহার থেকে তৃণমূলের মন্ত্রিসভায় দেখা গিয়েছে রবীন্দ্রনাথ ঘোষ এবং বিনয়কৃষ্ণ বর্মণকে। এবার দুজনেই পরাজিত। আগে মন্ত্রী হওয়া হিতেন বর্মণ এবার টিকিট পাননি। এখন শুধুমাত্র পরেশ অধিকারী মন্ত্রিসভায় প্রতিমন্ত্রী হিসেবে রয়েছে। । অন্যদিকে যুক্তি হল দিনহাটাতেই বাড়ি কেন্দ্রীয় মন্ত্রী নিশীথ প্রামাণিকের। সেক্ষেত্রে অনেকেই বলছেন, এবার মন্ত্রী করা হতে পারে উদয়ন গুহকে। শুধু তাই নয় উদয়ন গুহকে উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দফতরের দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে বলেও কোনও কোনও মহল থেকে বলা হচ্ছে।

দায়িত্ব পেতে পারেন শান্তিপুরের ব্রজকিশোরও
২০১৯-এর লোকসভা নির্বাচনে বিজেপি শান্তিপুর থেকে অনেকটাই এগিয়েছিল। সেই মতো বিধানসভা নির্বাচনেও সেখান থেকে জয়লাভ করেছিলেন বিজেপির জগন্নাথ সরকার। কিন্তু তিনি লোকসভার সদস্য পদ রেখে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ায় হওয়া উপনির্বাচনে শান্তিপুর থেকে বিপুল ভোটে জয়ী হয় টিম অভিষেকের নবীন প্রার্থী ব্রজকিশোর গোস্বামী। ভোটের প্রচারে শান্তিপুরে গিয়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছিলেন, এই কেন্দ্রের উন্নয়নের দায়িত্ব তিনিই তুলে নিচ্ছেন। শোনা যাচ্ছে ব্রজকিশোর গোস্বামীকে মন্ত্রিসভায় আনতে পারেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

বিভিন্ন দফতরে রদবদলের সম্ভাবনা
গত দশবছর পঞ্চায়েত দফতরের মন্ত্রী ছিলেন সুব্রত মুখোপাধ্যায়। প্রতিবছর কয়েক হাজার কোটির কাজ হয় এই দফতরে। কিন্তু সুব্রত মুখোপাধ্যায়ের অতিবড় সমালোচকই এই দফতর নিয়ে তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলতে পারেননি। ফলে এই দফতরের দায়িত্ব মুখ্যমন্ত্রী দিতে পারেন অতি বিশ্বস্ত বলে পরিচিত শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের হাতে। মন্ত্রিসভার রদবদলে ফিরহাদ হাকিম এবং জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের হাতে এক বা একাধিক বাড়তি দফতরের দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে বলে সূত্রের খবর।












Click it and Unblock the Notifications