বিজেপি এবার বাংলায় কতগুলি আসন পাবে, তৃণমূলকে হারানোর সংকল্পে ভবিষ্যদ্বাণী কেন্দ্রীয় মুখপাত্রের
আসন্ন লোকসভা নির্বাচনের আগে বাংলার জন্য রণকৌশল তৈরি করে ফেলল বিজেপি। তৃণমূলের অবস্থান বিবেচনা করে তাঁরা অঙ্ক কষে এগনোর পরিকল্পনা কষে ফেললেন বিজেপি কেন্দ্রীয় মুখপাত্র সুধাংশু ত্রিবেদী। তিনি সাফ জানিয়ে দিলেন, বাংলা থেকে কতগুলি আসন পাওয়া সম্ভব বিজেপির।
২০২৪-এর লোকসভা নির্বাচনে বিজেপি কতগুলি আসন পেতে পারে সে প্রসঙ্গে বিজেপি কেন্দ্রীয় মুখপাত্র বলেন, শেষ নির্বাচনে আমরা অর্ধেক রাস্তায় ছিলাম। এবার লক্ষ্যে পৌঁছব। এবারের লোকসভায় পশ্চিমবঙ্গে ৩০ থেকে ৩২টি সিট পাবো আমরা। এ ব্যাপারে বিজেপি সঠিক পথেই এগোচ্ছে বলে জানান তিনি।

তিনি বলেন, পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে আমরা ৩৮ শতাংশ ভোট পেয়েছি। সে সময় এভাবে প্রচার করা হয়েছিল যেন ভারতীয় জনতা পার্টি হেরে গেছে। চিনের পর সবথেকে জনবহুল কমিউনিস্টশাসিত অঞ্চল ছিল পশ্চিমবঙ্গ। কিন্তু আজ সেখান থেকে লাল ও সবুজ হারিয়ে গিয়েছে।
বিজেপি কেন্দ্রীয় মুখপাত্র সুধাংশু দ্বিবেদী বলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ভোট প্রচারে মঞ্চ থেকে চণ্ডীপাঠ করেছেন। পরের বার সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে আমরাই পশ্চিমবঙ্গে সরকার তৈরি করব। ২০২৪-এ মোদীজি হ্যাটট্রিক করতে চলেছেন। তাতে পশ্চিমবঙ্গের যথেষ্ট অবদান থাকবে বলে তিনি নিশ্চিতভাবেই বলেন।
এদিন তিনি বিরোধীদের প্রধানমন্ত্রীর মুখ রাহুল গান্ধীকে করার পরিকল্পনা নিয়ে বিজেপির বিরুদ্ধে তৃণমূলের অভিযোগ প্রসঙ্গেও মুখ খোলেন। তিনি বলেন, রাহুল গান্ধী যে ভারত জোড়ো যাত্রা করেছিলেন, সেটা কতিপয় নেতৃত্বের কাছে নিজেকে প্রমাণ করার জন্য।
আর পশ্চিমবঙ্গের মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, তেলেঙ্গানার কেসিআর কিংবা উত্তরপ্রদেশের অখিলেশ যাদব কিংবা দিল্লির কেজরিওয়ালকে তিনি দেখিয়েছিলেন তাঁর অবস্থান দেশে ঠিক কোথায়। দক্ষিণ থেকে উত্তর পর্যন্ত যাত্রা করে উনি দেখিয়েছিলেন সেই অবস্থান। এবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অখিলেশ যাদব তাঁকে দেখাচ্ছেন এই দুই বড় রাজ্যে রাহুল গান্ধী কোথায়!
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অখিলেশ যাদবের মিটিং প্রসঙ্গে বিজেপি কেন্দ্রীয় মুখপাত্র বলেন, অখিলের যাদব সেই রাজ্য থেকে এসেছে যেখানে পিসি-ভাইপোর জোট হয়েছিল। লখনউয়ের পিসির উপরে যথেষ্ট চাপ তৈরি হয় অখিলেশ যাদবের জন্য। কলকাতার পিসির উপর তার কি প্রভাব আসতে চলেছে সেটা রাম জানেন।
তাঁর কথায়, পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনের সময় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একাধিকবার বলেছিলেন উত্তর প্রদেশ থেকে গুন্ডারা আসছে। কাকতালীয়ভাবে জোট করার জন্য সেই পার্টি আসছে, যার বিরুদ্ধে লখনউয়ের পিসির স্লোগান ছিল গুন্ডাদের ছাতির উপর ওঠে যাও, হাতি চিহ্ন ছাপ দাও।
তিনি বলেন, আজ পশ্চিমবঙ্গে আইন-শৃঙ্খলা ভেঙে যে ধরনের অব্যবস্থা হচ্ছে এবং পশ্চিমবঙ্গের অপরাধীদের দাপট চলছে, দুর্নীতি চলছে, এরকমই কিছুই উত্তরপ্রদেশে সমাজবাদী পার্টির শাসনকালে দেখা যেত। আজ উত্তরপ্রদেশ পুরোপুরি পরিবর্তন হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গেও পরিবর্তন হবে। সেদিন আর বেশি দূরে নয়।
এদিন শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি মামলার তৃণমূল নেতাদের গ্রেফতারি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আজ পশ্চিমবঙ্গ সরকারের পরিচিতি দুর্নীতি, আইনশৃঙ্খলার অবনমন, দুষ্কৃতীরাজ হিসেবে। এখান থেকে বন্দেমাতরম এবং জনগণমন জন্ম লাভ করেছে। স্বামীজি ও নেতাজির ভূমি এটা। কিন্তু এখন মুম্বই, আমেদাবাদ, হায়দরাবাদ ও বেঙ্গালুরুর থেকে পিছিয়ে পড়েছে কলকাতা। এর মূল কারণ দুর্নীতি এবং আইন-শৃংখলার অবনতি।












Click it and Unblock the Notifications