মনোনয়নে বাধা সত্ত্বেও বিরোধীরা কতগুলি আসনে প্রার্থী দিতে পারল এবার পঞ্চায়েতে
এবার নির্বাচনে বিজেপি সব আসনে প্রার্থী দেওয়ার প্রাথমিক লক্ষ্য ধাক্কা খেয়েছে। বিরোধীরা বলছে শাসক বিরোধীশূন্য ক্ষমতা দখল চাইছে। শাসক বলছে, বিরোধীদের সংগঠনই নেই।
মনোনয়নে বাধা দিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। সেই কারণেই নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে প্রার্থী দিতে পারেনি বিজেপি-সহ বিরোধী দলগুলি। এবার নির্বাচনে বিজেপি সব আসনে প্রার্থী দেওয়ার প্রাথমিক লক্ষ্য তার ফলে ধাক্কা খেয়েছে। এই অবস্থায় পরস্পরবিরোধী মত উঠে আসছে। বিরোধীরা অভিযোগ করছে, শাসক বিরোধীশূন্য ক্ষমতা দখলের বলি হয়েছেন তাঁরা। আর শাসক বলছে, বিরোধীদের সংগঠনই নেই সব আসনে প্রার্থী দেওয়ার মতো।

২০১৮-র পঞ্চায়েত নির্বাচনের মনোনয়ন পর্ব মেটার পর এখন তৃণমূল প্রশ্ন তুলেছে, শাসক দল যদি বাধাদানই করল, তাহলে এত আসনে প্রার্থী দিল কী করে বিরোধীরা? নির্বাচন কমিশন মনোনয়নের যে তালিকা প্রকাশ করেছে, তাতে দেখা যাচ্ছে বহু আসনেই প্রার্থী দিয়েছেন বিরোধীরা। তারপরই শাসক দলের এই প্রশ্ন।
মনোনয়ন পেশ করা প্রার্থীর যে তালিকা ইতিমধ্যে প্রকাশ হয়েছে, তাতে দেখা যাচ্ছে- গ্রাম পঞ্চায়েত ৪৮ হাজার ৬৫০টির মধ্যে বিজেপি ২৭ হাজার ৭৮৯টি আসনে প্রার্থী দিতে পেরেছে। বামফ্রন্ট দিয়েছে ১৯ হাজার ৭১৪টি আসনে, আর কংগ্রেসের প্রার্থী ৭ হাজার ২৩৯টি আসনে। পঞ্চায়েত সমিতিতে মোট আসন ৯ হাজার ২৭১টির মধ্যে বিজেপি মনোনয়ন দিয়েছে ৫ হাজার ৯৫২টি আসনে। আর বামফ্রন্টের প্রার্থীর সংখ্যা ৪ হাজার ৮০৩টি। কংগ্রেস মাত্র ১ হাজার ৬৪৬টি আসনে প্রার্থী দিয়েছে।
গ্রাম পঞ্চায়েত বা পঞ্চায়েত সমিতির থেকে জেলা পরিষদে বিরোধীদের মনোনয়ন পেশের পরিসংখ্যান আরও ভালো। ৮২৫টি আসনের বিজেপি দিয়েছে ৭২৬টি মনোনয়ন। আর বামফ্রন্ট ৬৬৫টি ও কংগ্রেস দিয়েছে ৩৭৭টি মনোনয়ন। শাসক দল তাই প্রশ্ন তুলেছে সন্ত্রাস তো, এত আসনে প্রার্থী দিল কী করে বিরোধীরা? আসলে বাকি জায়গায় বিরোধীদের কোনও সংগঠন নেই বলেই প্রার্থী দিতে পারেনি।
এখানে উল্লেখ্য, বীরভূম জেলা পরিষদে ৪২টি আসনের মধ্যে ৪১টি আসেন প্রার্থী দিতে পারেনি বিরোধীরা। মাত্র একটি আসনে প্রার্থী দিয়েছে বিজেপি। এই অবস্থায় ভোটের আগেই একপ্রকাশ জেলা পরিষদ দখল করে নিয়েছে তৃণমূল। স্রেফ বিজয়ী হিসেবে ঘোষণাটা বাকি। একইভাবে বাঁকুড়া জেলা পরিষদেও ২০টি আসন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী হয়েছেন শাসক দলের প্রার্থীরা।
বাঁকুড়ায় ৪৬টি আসনের মধ্যে মাত্র ২৬টি আসনে বিরোধীরা প্রার্থী দিতে পেরেছে। ফলে ভোট হবে ওই ২৬টি আসনে। মাত্র চারটিতে জিতলেই বাঁকুড়াও তৃণমূলের। আর দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা পরিষদেও ৮১ আসনের মধ্যে ২৩টি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী তৃণমূল কংগ্রেস। পূর্ব বর্ধমানে ৫৮টির মধ্যে জয়ী ১৩টিতে।












Click it and Unblock the Notifications