দুর্গাপুর নিয়ে মমতার মন্তব্যে তীব্র কটাক্ষ বিজেপির, মা-মাটি-মানুষের নয়া অর্থ বের করলেন বাঁশুরী স্বরাজ
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মেয়েদের রাতে বাইরে না বেরনোর যে নিদান দিয়েছেন তা নিয়ে সরব রাজনৈতিক মহল। বিজেপি তীব্র সমালোচনা করছে বাংলার মুখ্যমন্ত্রীর দৃষ্টিভঙ্গির।
বিজেপির অভিযোগ, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নির্যাতিুতাকেই হেয় করেছেন। মেডিক্যাল ছাত্রী গণধর্ষণের ঘটনায় ন্যায়বিচারের দাবিও জানিয়েছে বিজেপি।

শুক্রবার রাতে দুর্গাপুরের একটি বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজের ছাত্রী গণধর্ষিতা হন। এখনও অবধি অভিযুক্ত পাঁচজনকেই গ্রেফতার করেছে পুলিশ। মমতা গতকাল বলেন, মেয়েরা, বিশেষ করে যাঁরা রাজ্যের বাইরে থেকে এসেছেন এবং এখানকার জায়গা সম্পর্কে অবহিত হন, তাঁদের হস্টেলের নিয়ম মেনে চলতে হবে এবং রাতে বেশি দেরিতে বাইরে বের হওয়া উচিত নয়। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিকেও সতর্ক হতে বলেন তিনি।
যদিও বিরোধীদের সমালোচনার মুখে পড়ে মমতা পরে বলেন, তাঁর বক্তব্য বিকৃত করা হয়েছে। মমতার কড়া সমালোচনা করে বিজেপি সাংসদ এবং জাতীয় মুখপাত্র বাঁশুরী স্বরাজ বলেন, "পশ্চিমবঙ্গে নারীরা নিরাপদ নন, এটা দুর্ভাগ্যজনক। যখন একজন মহিলা মুখ্যমন্ত্রী অসংবেদনশীলভাবে ধর্ষিতাকে হেয় করেন এবং দোষারোপ করেন, তখন তা পুরো সমাজের জন্য বেদনাদায়ক এবং লজ্জাজনক হয়ে ওঠে।"
দিল্লিতে বিজেপির সদর দফতরে এক সাংবাদিক বৈঠকে সুষমা স্বরাজের কন্যা বলেন, "আপনি (মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়) 'মা, মাটি ও মানুষ' স্লোগান দেন। আপনার অসংবেদনশীলতা, খারাপ শাসন এবং রক্ষণশীল মানসিকতার কারণে মা (মাতা) লজ্জিত, মাটি (ভূমি) রক্তে ভিজে আছে এবং মানুষ (জনগণ) দুর্দশার শিকার। নির্যাতিতাকে ন্যায়বিচার দিন।"
অতীতে পশ্চিমবঙ্গে ধর্ষণের ঘটনার পর মমতার একাধিক বক্তব্য তুলে ধরে স্বরাজ অভিযোগ করেন, পশ্চিমবঙ্গের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস "রক্ষণশীল মানসিকতার" সমার্থক হয়ে উঠেছে।
বিজেপি নেত্রী বলেন, "২০১২ সালের পার্ক স্ট্রিট ধর্ষণ মামলার পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নির্যাতিতাকে দোষারোপ করেছিলেন এবং এটিকে একটি সাজানো ঘটনা বলেছিলেন। যার অর্থ নির্যাতিতাই ঘটনাটি সাজিয়েছিলেন। ২০২২ সালে হাঁসখালিতে ১৪ বছর বয়সী নাবালিকাকে ধর্ষণের ঘটনায় তিনি বলেছিলেন যে এটি একটি প্রেমঘটিত ঘটনা যা খারাপ দিকে মোড় নিয়েছে, যা মামলার গুরুত্ব কমিয়ে দেয়।"
এদিকে, সল্টলেকে বিজেপি কার্যালয় থেকে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে রাজ্য সাধারণ সম্পাদিকা লকেট চট্টোপাধ্যায় বলেন, ভারতের মধ্যে থেকে বাংলা এখন উল্টো পথে হাঁটছে। দুর্গাপুর মেডিক্যাল কলেজের মেয়েটি এখন মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন আর অন্যদিকে এই রাজ্যের মহিলা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলছেন মেয়েদের এত রাতে বের হওয়া নাকি উচিত না! এই রাজ্যের ধর্ষণকাণ্ডগুলিকে উনি ছোটখাটো ঘটনা হিসেবেই বারবার চিহ্নিত করেছেন। এই রাজ্যে ধর্ষকদের শাস্তি হয় না তারা নিজেদের ইচ্ছেমতো ঘুরে বেড়াতে পারে।
তিনি এই প্রসঙ্গে আরও বলেন, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন ধর্ষণের দ্বারা যদি কোনও মহিলা আক্রান্ত হন তাহলে তাঁদের ২০ হাজার টাকা দেওয়া হবে! যা অত্যন্ত লজ্জার! এই তৃণমূল কংগ্রেসের সরকার লক্ষ্মীর ভান্ডার, রূপশ্রী এই সমস্ত কিছু দিয়ে মহিলাদের মুখ বন্ধ করে রাখছে। ২০২৩ সালের কালিয়াগঞ্জের ধর্ষণের ঘটনায় মুখ্যমন্ত্রী বলেছিলেন ওঁদের মধ্যে নাকি প্রেমের সম্পর্ক ছিল। একের পর এক ধর্ষণ বেড়েই চলেছে এই রাজ্যে! বাংলার মাটিতে আজ যখন গণধর্ষণ চলছে তখন মুখ্যমন্ত্রী চুপ করে রয়েছেন।
লকেটের কথায়, আজ তৃণমূল কংগ্রেসের মধ্যে যে নারী সদস্যরা রয়েছেন তাঁরাও একটাও কথা বলছেন না। মুখ্যমন্ত্রীর পোষা পুলিশ একজন বাবাকে তাঁর সন্তানের সঙ্গে দেখা করতে দিচ্ছে না। তাহলে ভাবুন এই রাজ্যের অবস্থা কোথায় পৌঁছে গেছে। সেই মেয়েটির অবস্থার কোনও রিপোর্ট বাইরে আসতে দিচ্ছে না। বাংলা ধীরে ধীরে তালিবানি শাসনের মত হয়ে যাচ্ছে। কিন্তু এর জবাব ২০২৬-এ বাংলার মানুষ দেবেন। কিছুদিন পরে দেখবেন ধর্ষণকাণ্ডে অভিযুক্তদের আবার ছেড়ে দেওয়া হচ্ছে। যেমন কসবাকাণ্ডে দোষীরা জামিন পেয়ে গিয়েছে। আমাদের ভারতীয় জনতা পার্টির সকল সদস্যরা বাংলার মেয়ে বোনদের জন্য লড়াই করে যাবেন। যতক্ষণ না আমরা দোষীদের শাস্তি দেওয়াতে পারছি, এই সরকারকে উৎখাত করতে পারছি ততক্ষণ আমাদের এই লড়াই জারি থাকবে।












Click it and Unblock the Notifications