ভোটের আগে একসঙ্গে ১১ জেলায় জেলাশাসক বদলি, উত্তরবঙ্গে বড়সড় রদবদল
আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের আগে রাজ্য প্রশাসনে একের পর এক কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে, এই আবহেই ফের বড়সড় রদবদল হল। রাজ্যের ১১টি জেলায় জেলাশাসকদের হঠাৎ বদলির নির্দেশ জারি করল নির্বাচন কমিশন। তালিকায় রয়েছে উত্তরবঙ্গের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ জেলা, যার জেরে প্রশাসনিক মহলে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
এর আগেই পুলিশ প্রশাসনে ব্যাপক রদবদল করে কমিশন। বুধবার পাঁচজন ডিআইজি কে সরানোর নির্দেশ জারি হয়েছিল। সেই ধাক্কা সামলাতে না সামলাতেই ঘণ্টাখানেকের ব্যবধানে জেলাশাসকদের বদলির নির্দেশ সামনে আসে। এই সিদ্ধান্তকে ভোটের আগে প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করার কৌশল হিসেবেই দেখছে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

সবচেয়ে নাটকীয় ঘটনা ঘটেছে পাহাড়ে। দার্জিলিংয়ে দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র দুই দিনের মধ্যেই জেলাশাসক পদ থেকে সরানো হল সুনীল আগরওয়ালকে। সকালে ভোট প্রস্তুতি নিয়ে সাংবাদিক বৈঠক করার পরই তাঁর বদলির নির্দেশ আসে। নতুন জেলাশাসক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে হরিশংকর পানিক্করকে, যিনি পূর্বে শিলিগুড়ির মহকুমাশাসক হিসেবে কাজ করেছেন। এর আগে মণীশ মিশ্রকে ঘিরে বিতর্কের জেরে প্রশাসনিক অস্থিরতা তৈরি হয়েছিল, তারই ধারাবাহিকতায় এই দ্রুত বদলি বলে মনে করা হচ্ছে।
শুধু দার্জিলিং নয়, উত্তরবঙ্গের বেশকিছু এলাকায় একযোগে পরিবর্তন আনা হয়েছে। কোচবিহার, জলপাইগুড়ি, উত্তর দিনাজপুর, আলিপুরদুয়ার ও মালদা এই পাঁচ জেলাতেও নতুন জেলাশাসক নিয়োগ করা হয়েছে। নতুন দায়িত্বপ্রাপ্তদের তালিকায় রয়েছেন জিতেন যাদব, সন্দীপ ঘোষ, বিবেক কুমার, টি বালাসুব্রহ্মণ্যম ও রাজনবীর সিংহ কাপুর।
অন্যদিকে দক্ষিণবঙ্গেও একই ছবি। মুর্শিদাবাদ, নদিয়া, পূর্ব বর্ধমান ও দুই ২৪ পরগনায় নতুন মুখকে সামনে এনেছে কমিশন। প্রশাসনিক দায়িত্বে আনা হয়েছে আর অর্জুন, শ্রীকান্ত পাল্লি, স্বেতা আগরওয়াল, শিল্পা গৌরিসারিয়া ও অভিষেক কুমার তিওয়ারিকে।
রাজধানী কলকাতাতেও বদলের হাওয়া লেগেছে। উত্তর ও দক্ষিণ কলকাতার জেলা নির্বাচন আধিকারিকদের (ডিইও) পদে পরিবর্তন এনে নতুন করে দায়িত্ব বণ্টন করা হয়েছে। উত্তর কলকাতায় সুমিত গুপ্তের পরিবর্তে স্মিতা পাণ্ডে ও দক্ষিণে রনধীর কুমারকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
ক্রমাগত পুলিশ ও প্রশাসনে এই রদবদল স্পষ্ট করে দিচ্ছে, আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কোনওরকম ঝুঁকি নিতে নারাজ কমিশন। স্বচ্ছ, অবাধ ও নিরপেক্ষ ভোট প্রক্রিয়া নিশ্চিত করতেই এই ধারাবাহিক কড়া পদক্ষেপ, এমনটাই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।












Click it and Unblock the Notifications