Mamata Banerjee:'বাংলাদেশিরা চাইলে দরজা খোলা থাকবে' মমতার মন্তব্যের বিরোধিতায় হাসিনা সরকার
সরকারি চাকরিতে মাত্রাতিরিক্ত সংরক্ষণের প্রতিবাদে উত্তাল হয়ে উঠেছিল বাংলাদেশ। রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ দেখাচ্ছিলেন বাংলাদেশিরা। চরম অস্থিরতা তৈরি হয়েছিল বাংলাদেশে। ভারতীয় পড়ুয়াদের সেখান থেকে ফিরিয়ে আনা হয়।
বাংলাদেশের এই অস্থিরতা নিয়ে কথা বলতে গেলে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছিলেন ওদেশে যা চলছে তাতে কেউ আশ্রয় চাইলে বাংলা দরজা খুলে দেবে। তারপরেই বিজেপি এই নিয়ে সরব হয়েছিল। সীমান্তের দরজা কার জন্য খুলবে তার সিদ্ধান্ত কেন্দ্র নেয় রাজ্য নিতে পারে না।

এদিকে বাংলাদেশ সরকারও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই শরণার্থী মন্তব্যের সমালোচনা করেছে। মোদী সরকারকে চিঠি লিখে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মন্তব্যের সমালোচনা করেছে বাংলাদেশ। বাংলাদেশের বিদেশমন্ত্রী এই চিঠি নয়া দিল্লিতে পাঠিয়েছেন। তাতে বলা হয়েছে পশ্চিমবঙ্গের সরকারের সঙ্গে বাংলাদেশের ঘনিষ্ঠতা রয়েছে, তবে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যে মন্তব্য করেছেন তাতে একাধিক প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে যেটা একেবারেই চাইছে না বাংলাদেশ সরকার।
২১ জুলাই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছিলেন বাংলাদেশে যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে তাতে সেখানকার বিপন্ন মানুষ যদি আশ্রয় চায় তাহলে বাংলা তার সীমান্ত খুলে দেবে। বাংলাদেশের অস্থির পরিস্থিতির মধ্যে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর কথা বলেছিলেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রী বলেছিলেন বাংলাদেশ আমাদের প্রতিবেশী হলেও বাংলার সঙ্গে তাঁদের আলাদা একটা সম্পর্ক রয়েছে। সেকারণে এই দুর্দিনে বাংলাদেশিদের পাশে দাঁডাতে পিছপা হবে না তাঁর সরকার এমনই মন্তব্য করেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
তাই নিয়ে রাজ্যে বিরোধীরা সরব হয়েছিল। কীভাবে কেন্দ্রের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই মন্তব্য করলেন তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিল বিজেপি। কারণ অন্যদেশের শরণার্থীদের আশ্রয় দেওয়া হবে কিনা সেটা কেন্দ্রের বিষয়। এবং বিদেশমন্ত্রক তার সিদ্ধান্ত নেয়। কোনও রাজ্য সরকার এর সিদ্ধান্ত নিতে পারে না বলে আক্রমণ শানিয়েছিল বিজেপি।
পাল্টা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রাষ্ট্রপুঞ্জের শরণার্থী নীতি উল্লেখ করে বলেছিলেন, তিনি কোনও ভুল মন্তব্য করেননি। যদিও এই নিয়ে রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছ থেকে রিপোর্ট তলব করেছিলেন। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য চাকরিতে সংরক্ষণের প্রতিবাদে বাংলাদেশ অশান্তি হয়ে উঠেছিল। সেনা নামাতে হয়েছিল হাসিনা সরকারকে। বিশ্বের সব দেশই তাদের নাগরিকদের বাংলাদেশ এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছিল। ভারতকও সেখান থেকে পড়ুয়াদের ফিরিয়ে আনতে শুরু করেছিল। বাংলা এবং অসম সীমান্ত দিয়ে তাঁদের ফিরিয়ে নিয়ে আসা হচ্ছিল।












Click it and Unblock the Notifications