মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নতুন নিরাপত্তা অধিকর্তা হচ্ছেন জ্ঞানবন্ত সিং
নন্দীগ্রামে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আক্রান্ত হওয়ার পরেই ষড়যন্ত্রের অভিযোগ আনা হয়েছ। এই ঘটনার কয়েকদিনের মধ্যে প্রশাসনে ব্যাপক রদবদল করে নির্বাচন কমিশন।
নন্দীগ্রামে মমতার আহত হওয়ার ঘটনায় প্রশ্নের মুখে পড়ে নির্বাচন কমিশন। পুলিশ প্রশাসনে ব্যাপক রদবদলের পরেই এই ঘটনা বলে দাবি করতে থাকে শাসকদল তৃণমূল। যদিও পালটা কমিশনের উপর চাপ বাড়াতে থাকে বিজেপিও। ভিডিও প্রকাশের দাবি তাদের। এই অবস্থায় ঘটনায় কড়া হয় কমিশন। একদিকে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট চেয়ে পাঠায় কমিশন। অন্যদিকে ঘটনার পরেই রবিবার একাধিক রদবদল করে কমিশন। সরিয়ে দেওয়া হয় খোদ মুখ্যমন্ত্রীর নিরাপত্তা উপদেষ্টা বিবেক সহায়কেও।

নতুন নিরাপত্তা অধিকর্তা হলেন আইপিএস অফিসার জ্ঞানবন্ত সিং
রবিবার সরিয়ে দেওয়া হয় বিবেক সহায়কে। কাকে এই দায়িত্ব দেওয়া যায় সে বিষয়ে কয়েকটি নাম জানাতে বলে নির্বাচন কমিশন। রাজ্যের মুখ্যসচিব এবং স্বরাষ্ট্রসচিবকে এই নাম জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। বেশ কয়েকটি নাম জমা দেওয়া হয়। সেখান থেকে বেছে নেওয়া হয় আইপিএস অফিসার জ্ঞানবন্ত সিংকে। আজ সোমবারই দায়িত্ব বুঝে নেওয়ার নির্দেশ কমিশনের। সোমবার নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে বিবৃতি দিয়ে এমনটাই জানানো হল।

বদল করা হয়েছে জেলাশাসক, পূর্ব মেদিনীপুরকে
নন্দীগ্রামে মুখমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আহত হওয়ার ঘটনায় শনিবার নিরাপত্তা অধিকর্তা থেকে শুরু করে জেলাশাসক, পূর্ব মেদিনীপুরের পুলিশ সুপারকে অপসারিত করেছিল কমিশন। জানা গিয়েছে, কর্তব্যে গাফিলতির অভিযোগেই সরানো হয় আধিকারিকদের। সরানো হয় পূর্ব মেদিনীপুরের জেলাশাসক বিভু গোয়েলকে। তাঁর জায়গায় দায়িত্ব দেওয়া হয় স্মৃতি পাণ্ডেকে। এরপর সরানো হয় পূ্র্ব মেদিনীপুরের পুলিশ সুপার প্রবীণ প্রকাশকেও। তাঁর জায়গায় দায়িত্বে আসেন সুনীলকুমার যাদব। ব পদগুলিতে পরিবর্ত নাম ঘোষণা করা হলেও, বাকি ছিল নিরাপত্তা অধিকর্তা পদ। সশস্ত্র পুলিশের এডিজি পদ থেকে জ্ঞানবন্তকে সেই পদেই নিয়ে আসা হল।

দুর্ঘটনাতেই আহত হন মুখ্যমন্ত্রী
ষড়যন্ত্র নাকি দুর্ঘটনা! উত্তাল রাজ্য-রাজনীতি। আর এর মধ্যেই চাঞ্চল্যকর রিপোর্ট নির্বাচন কমিশনের। পরিকল্পিত হামলা নয়। নন্দীগ্রামে দুর্ঘটনাতেই আহত মুখ্যমন্ত্রী। নির্বাচন কমিশনে এমনটাই রিপোর্ট দিয়েছেন দুই পর্যবেক্ষকের। খবর পিটিআই সূত্রে। তৃতীয়বার রিপোর্ট জমা নবান্নেরও। সেখানেও দুর্ঘটনার কথাই উল্লেখ করা রয়েছে।

আমার গাড়ির দরজা চেপে দেওয়া হয়, ফের বললেন মমতা
সভা থেকে এদিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, আমি গাড়ির পাদানিতে দাঁড়িয়ে মানুষকে নমস্কার করছিলাম। তখন আমার গাড়ির দরজা এমনভাবে চেপে দেওয়া হয় বড় চোট পাই। আমাকে চিকিৎসকরাও বলেছিলেন ১৫ দিন একদম উঠতে পারবেন না। আমি বললাম, আপনারা চিকিৎসাটা করে দিন। বাকি আমি ঠিক হুইল চেয়ারে মানুষের কাছে পৌঁছে যাব। আমায় হাজরায় মাথা ফাটানো হয়, দু'হাত ভাঙা নয়, অনেক মার খেয়ে এখানে এসেছি। অনেকে ভেবেছিল মমতা ভোটের সময় বেরোতে পারবে না। ডুগডুগি বাজিয়ে দেব। কিন্তু আমি ভাঙি তবু মচকাই না। যতক্ষণ পর্যন্ত শ্বাস থাকবে, কন্ঠ চলবে তা রোখার দুঃসাহস যেন কেউ না দেখায়। আমি রাস্তায় থেকেই লড়াই করি। আমি স্ট্রিট ফাইটার। যদিও এর আগের একটি সভা থেকে ঘটনার উল্লেখ করে ছিলেন মমতা!












Click it and Unblock the Notifications