অধীরের নিশানায় মমতা, মুসলিমদের ধোঁকা দিয়েছেন! ২০১৪-র মোদীর স্লোগানে মিলেছেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) রাজনৈতিক প্রতারক, ভণ্ড। এদিন এমনটাই অভিযোগ করলেন প্রদেশ কংগ্রেস (Congress) সভাপতি অধীর চৌধুরী (Adhir Chowdhury)। বহরমপুরের সাংসদ এদিন ২০০৩ সালে দিল্লিতেআরএসএস-এর বইপ্রকাশের অনুষ
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) রাজনৈতিক প্রতারক, ভণ্ড। এদিন এমনটাই অভিযোগ করলেন প্রদেশ কংগ্রেস (Congress) সভাপতি অধীর চৌধুরী (Adhir Chowdhury)। বহরমপুরের সাংসদ এদিন ২০০৩ সালে দিল্লিতেআরএসএস-এর বইপ্রকাশের অনুষ্ঠানে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় উপস্থিতি এবং তাঁকে নিয়ে প্রকাশিত খবরের কথা স্মরণ করিয়ে দেন।

মমতা-আরএসএস-এর পুরনো সম্পর্ক
এদিন অধীর চৌধুরী ২০০৩ সালে সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত একটি রিপোর্ট তুলে ধরে বলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সেদিনের অনুষ্ঠানে বলেছিলেন, আরএসএস নেতাদের চিনতাম। আবার নতুন করে চিনলাম। আরএসএস যেন এক শতাংশ সাহায্য করে। তাহলেই তিনি বাংলা দখল করতে পারবেন। আরএসএসকে দেশপ্রেমী এবং তাঁদের নেতাদেরকে সম্মান করার কথাও জানিয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই সময়ই আরএসএস এবং বিজেপি নেতারা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে দুর্গা বলে সম্বোধন করেন বলে দাবি করেছেন অধীর চৌধুরী। সেই সময়ই আরএসএস-এর তরফে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে সমর্থনের কথা জানানো হয়। অধীর চৌধুরী প্রকাশিত সেই রিপোর্ট হাতে করে সাংবাদিকদের বলেন, তাঁরা যেন সেটা পড়েন এবং তৃণমূল নেতাদের জিজ্ঞাসা করেন সেই ঘটনা সত্য না মিথ্যা। যদি তাঁর কথা ভুল হয়, তাহলে তিনি (অধীর চৌধুরী) রাজনীতি করা ছেড়ে দেবেন বলেও জানান।

মুসলিমদের ধোঁকা দিয়েছেন মমতা
অধীর চৌধুরী বলেন, এই রিপোর্ট মানুষকে পড়ান, মানুষ জানুক, মুর্শিদাবাদ তথা এই বাংলার মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষকে ধোঁকা দিয়েছেন অধীর চৌধুরী। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যে আরএসএস-এর সঙ্গে লড়াই করবেন না, তা এর থেকেই প্রমাণিত। কেননা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে আরএসএস-এর পুরেনা সম্পর্ক। সেই সম্পর্ক আজও আছে, তাই আরএসএস-এর সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী মিলে মিশে চলেন।

দিল্লিতে গিয়ে মোদীকে ধরেছিলেন মমতা
অধীর চৌধুরী বলেন, যখন কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা ভাইপোকে নোটিশ পাঠাল, এই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দৌড়ে দেশের প্রধানমন্ত্রীর কাছে গিয়েছিলেন। প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি বলেন, সবাই মনে করে দেখুন, একা মোদীর কাছে গিয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, ম্যানেজ করতে। অধীর বলেন, তাঁদের কাছেও ওপর তলার খবর আসে। ভারতের একোণা, সেকোণার খবর তারাও রাখেন, বলেছেন অধীর। তিনি বলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নরেন্দ্র মোদীর কাছে গিয়ে ভিক্ষা চেয়ে বলেছে, ভাইপো যাকে তিনি নিজের সন্তানের মতো মানুষ করেছেন, তার যেন ক্ষতি না হয়। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রাজনাথ সিং, নীতীন গদকরি এবং মোহন ভাগবতের সঙ্গে সম্পর্ক রেখে চলেন বলেও অভিযোগ করেন অধীর চৌধুরী। তিনি দাবি করেন, অমিত শাহের সঙ্গে মমতার কোনও সংযোগ না থাকলেও মোহন ভাগবতের চাপে পড়েই ভাইপোকে গ্রেফতার করেনি মোদী সরকার।

শর্ততেই চলছেন মমতা
অধীর চৌধুরীর অভিযোগ মোদীর কথার সময়েই মমতাকে শর্ত দেওয়া হয়েছিল দেশ থেকে কংগ্রেসকে মুছে দিতে হবে। অধীর চৌধুরী বলেছেন, ২০১৪ সালে নরেন্দ্র মোদীর ক্ষমতায় আসার বছরে বিজেপির স্লোগান ছিল কংগ্রেস মুক্ত ভারত। সেখানে তৃণমূল মুক্ত ভারতের কথা বলা হয়নি। অধীর চৌধুরী বলেন, কংগ্রেসের সঙ্গে বিজেপির লড়াই হল শতাব্দী প্রাচীন। সেই জায়গায় দাঁড়িয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কংগ্রেসের ভাবমূর্তিকে কলঙ্কিত করছেন বলে অভিযোগ করেছে অধীর চৌধুরী। তিনি বলেন, সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়, তাপস পাল জেলে গেলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মাথা ব্যথা হয়নি। কিন্তু যখন ভাইপোকে ডাকা হয়েছে, সেই সময় থেকেই মাথা ব্যথা। তারপর থেকেই কংগ্রেস শত্রু হয়ে গেল। বিজেপি অ্যাজেন্ডাকেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বাংলার পাশাপাশি বিভিন্ন রাজ্যে চালু করছেন। কোথাও বিজেপি কিংবা আরএসএসকে ধ্বংসের কথা বলছেন না মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলবেনই বা কোথা থেকে। তাঁর(মমতা) সঙ্গে যে নাড়ির সম্পর্ক, কটাক্ষ করেছেন অধীর। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে হুঁশিয়ারি দিয়ে অধীর চৌধুরী বলেছেন, খাপ খুলতে যাবেন না, তাহলে সব কথা খুলে বলে দেবেন তিনি।
অধীর চৌধুরী বলেছেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দিল্লিতে কথা বলে এসেছেন, সেখানে শর্ত দিয়েছেন, বাংলাটা তাঁর হাতে ছেড়ে দিতে হবে। তাহলে সারা ভারতে তিনি কংগ্রেসের বিরোধিতা করে যাবেন। অধীর চৌধুরী বলেছেন, বাংলায় যাঁরা বিজেপি করছেন, তাঁরা বুঝে চলুন। বর্তমান দিল্লির শাসকরা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে বাংলা ইজারা দিয়ে দিয়েছে করে খাওয়ার জন্য।












Click it and Unblock the Notifications