ঘরছাড়া বাম কর্মীদের ঘরে ফেরাতে হবে নির্বিঘ্নে, পুলিশকে কড়া নির্দেশ মমতার

গত সোমবার বিমান বসুর নেতৃত্বে বামফ্রন্টের একটি প্রতিনিধি দল সাক্ষাৎ করেছিল মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে। কোথায় কোথায় শাসক দলের হামলার জেরে বামফ্রন্টের কর্মী-সমর্থকেরা ঘরছাড়া, সেই মর্মে একটি তালিকা তুলে দেওয়া হয় তাঁর হাতে। তখনই মুখ্যমন্ত্রী আশ্বাস দিয়েছিলেন, 'কেস-টু-কেস' খতিয়ে দেখবেন। সেই আশ্বাস বাস্তবায়িত করতেই এদিন পুলিশকে এমন নির্দেশ দেন।
এদিনের বৈঠকে রাজ্য পুলিশের ডিজি ও কলকাতার পুলিশ কমিশনার ছাড়াও হাজির ছিলেন আইজি, ডিআইজি এবং সব জেলার পুলিশ সুপাররা। বিমান বসুদের দেওয়া তালিকা তিনি পুলিশ সুপারদের হাতে তুলে দিয়ে বলেন, "কাল থেকেই কাজে নেমে পড়ুন। সব অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নিন। অসুবিধা হলে জানান।"
বিমান বসুদের আর্জিতেই পদক্ষেপ, উদ্দেশ্য বামফ্রন্ট ছেড়ে বিজেপি-তে যাওয়া রোখা
আপাত অর্থে এটি মুখ্যমন্ত্রীর নিরপেক্ষতা মনে হলেও এর পিছনে রাজনীতি রয়েছে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। এখন সিপিএম তথা বামফ্রন্টের ছন্নছাড়া দশা। শাসক দলের আক্রমণ থেকে বাঁচতে বামফ্রন্ট কর্মী-সমর্থকরা দলে দলে ভিড়ছেন বিজেপি-তে। লোকসভা নির্বাচনে ভোটের হার বাড়ায় উজ্জীবিত হয়ে রয়েছে বিজেপি। তার ওপর দলে দলে লোক বিজেপি-তে যোগ দেওয়ায় ক্রমশ শক্তি বাড়াচ্ছে তারা। এই প্রবণতা ঠেকাতে না পারলে বিজেপি খুব তাড়াতাড়ি অমিত শক্তিধর হয়ে উঠবে। তাই সিপিএমকে মুমূর্ষু অবস্থাতে বাঁচিয়ে রাখতে চাইছেন তিনি। কারণ সিপিএম তথা বামফ্রন্ট খাবি খেয়ে বেঁচে থাকলেও তাঁর লাভ। যদি তারা লাটে উঠে যায়, তা হলে বিজেপি-র শক্তি বেড়ে যাবে। গতকাল তাই মুকুল রায়ও বিভিন্ন জেলার তৃণমূল কংগ্রেস নেতাদের কলকাতায় ডেকে কড়া নির্দেশ দিয়েছেন, বামফ্রন্টের ঘরছাড়া কর্মীদের ওপর যেন অত্যাচার না হয়। অন্যথায় দল কড়া ব্যবস্থা নেবে।
বৃহস্পতিবারের বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী আরও কতগুলি জরুরি নির্দেশ দিয়েছেন পুলিশকে। প্রথমত, বিরোধীরা যদি থানায় কোনও অভিযোগ নিয়ে যায়, তা হলে তৎক্ষণাৎ তাদের অভিযোগ লিপিবদ্ধ করতে হবে। দলের রং দেখা চলবে না। দ্বিতীয়ত, সাধারণ মানুষের সঙ্গে থানায় ভালো ব্যবহার করতে হবে। দুর্ব্যবহার একদম নয়। তৃতীয়ত, মহিলারা শ্লীলতাহানি, ধর্ষণের অভিযোগ জানাতে থানায় এলে তাদের সঙ্গে সংবেদনশীল আচরণ করতে হবে। মানবিকভাবে দেখতে হবে নারী নির্যাতনের বিষয়টি। চতুর্থত, গুরুত্বপূর্ণ ঘটনায় স্বরাষ্ট্র দফতরের অফিসারদের সঙ্গে সমন্বয় রেখে কাজ করতে হবে জেলার পুলিশকর্তাদের।
এ ছাড়া রাজ্যের বিভিন্ন জেলার কিছু নতুন থানা তৈরি হবে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী। পুলিশবাহিনীর আধুনিকীকরণ হবে বলেও আশ্বাস দেন তিনি।












Click it and Unblock the Notifications