শুভেন্দুর নন্দীগ্রামে অভিষেকের সেবাশ্রয়! তৃণমূলের নয়া কর্মসূচির ফাঁকেই বড় সিদ্ধান্ত
নন্দীগ্রামে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে হারিয়েছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। সেই হাইভোল্টেজ আসন ছিনিয়ে নিতে বদ্ধপরিকর তৃণমূল কংগ্রেস।
আর সে কারণেই এবার অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের চিকিৎসা-শিবির সেবাশ্রয় হবে নন্দীগ্রামে। আজ ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ তথা তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক নিজেই এই ঘোষণা করেছেন।

অভিষেক বলেন, ডায়মন্ড হারবারে 'সেবাশ্রয় ২' শুরু করার আগেই, নন্দীগ্রাম থেকেও সেখানে এই পরিষেবা চালু করার জন্য আমার কাছে অনুরোধ এসেছিল। আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, সেখানে দুটি 'মডেল ক্যাম্প' করা হবে। একটি নন্দীগ্রাম ১-এ এবং অন্যটি নন্দীগ্রাম ২-এ। যেহেতু আগামী ১৫ তারিখ 'যতই করো হামলা, আবার জিতবে বাংলা' কর্মসূচির জন্য আমি পূর্ব মেদিনীপুরেই থাকব, তাই সেই সময়েই আমি এই ক্যাম্পগুলির উদ্বোধন করব।
নতুন বছরের শুরু থেকেই নতুন কর্মসূচি 'যতই করো হামলা, আবার জিতবে বাংলা'য় জেলায় জেলায় ঘুরবেন অভিষেক। তিনি বলেন, বিজেপির হাতে বারবার বাঙালিদের হেনস্থা ও নির্যাতনের বিরুদ্ধে আগামী ২ জানুয়ারি থেকে আমরা একটি নতুন কর্মসূচি শুরু করছি। এই অত্যাচার এখন SIR-এর হাত ধরে আরও এক ধাপ এগিয়ে গিয়েছে।
অভিষেকের কথায়, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ইতিমধ্যেই রিপোর্ট কার্ডের মাধ্যমে আমাদের গত ১৫ বছরের উন্নয়নের খতিয়ান তুলে ধরে মানুষের সামনে পেশ করেছেন। ১ জানুয়ারি থেকে কীভাবে এই রিপোর্ট কার্ড বিলি করা হবে, সেই বিষয়ে নির্দেশিকা দিতে গতকালই আমি একটি ভিডিও কনফারেন্স করেছি। ২ জানুয়ারি থেকে আমি রাস্তায় নামব, মানুষের সঙ্গে দেখা করব, রোড-শো করব এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলব। ২ জানুয়ারি আমি দক্ষিণ ২৪ পরগণার বারুইপুর থেকে শুরু করব এবং ৩ জানুয়ারি জলপাইগুড়ি ও আলিপুরদুয়ারে চা শ্রমিকদের সঙ্গে সভা করব।
কেন্দ্রের এই বাঙালি-বিদ্বেষী নির্যাতনের বিরুদ্ধে বাংলা কীভাবে মাথা উঁচু করে এগিয়ে যাবে, এই কর্মসূচিতে সেই বার্তাই দেওয়া হবে: "যতই করো হামলা, আবার জিতবে বাংলা। অভিষেক বলেন, কল্পনা করতে পারেন, গীতা পাঠের অনুষ্ঠানে চিকেন প্যাটিস বিক্রি করার জন্য একদল দুষ্কৃতী বিক্রেতাকে ধরে মেরেছে। গ্রেফতার হওয়ার পর তারা জামিন পেল এবং তাদের ফুলের মালা দিয়ে সংবর্ধনা জানানো হল! এমনকি বিজেপি MGNREGA-র নাম বদলে 'জি রাম জি বিল' করে দিয়েছে।
অভিষেক বলেন, বিজেপির রাজনীতি হলো মানুষকে জোর করে লাইনে দাঁড় করানো। মানুষকে বিরক্ত করা, হেনস্থা করা এবং সমস্যায় ফেলাই তাদের কাজ। নোটবন্দির সময় তারা যা করেছিল, এখনও ঠিক তাই করছে।
অভিষেকের কথায়, বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী বলেছেন বাংলার চেয়ে নাকি ইউনুসের বাংলাদেশ ভালো। তিনি সেই মহম্মদ ইউনুসকে শংসাপত্র দিচ্ছেন, যাঁর জমানায় আজ সেখানে হিন্দুদের ওপর আক্রমণ চালানো হচ্ছে। এটা তো সকলের চোখের সামনেই পরিষ্কার। অমিত শাহ কয়েক দিনের মধ্যেই বাংলায় আসছেন, তাঁকে বরং জিজ্ঞেস করুন, কেন সীমান্তের ওপার থেকে লোকেরা প্রকাশ্যে শিলিগুড়ি দখল করার কথা বলছে। সংবাদমাধ্যমের অনেক বন্ধুই প্রশ্ন করেন, কেন আমি সংসদে 'অপারেশন সিঁদুর' নিয়ে কোনও কথা বলিনি। এর কারণটি অত্যন্ত সহজ, আমি যদি কেন্দ্রের সমালোচনা করে কোনও কথা বলি, তবে দেশের বাইরে সেটাকে বড় করে দেখানো হতে পারে। আমি কেন তাদের সেই সুযোগ করে দেব? আমার কাছে দেশ সবার আগে।
অভিষেক বলেন, আপনারা বারবার দেখেছেন বাংলার মানুষ ব্যালটের মাধ্যমেই জবাব দেয়। প্রতিটি নির্বাচনে আমরাই জয়ী হয়েছি। বিজেপি নেতারা বাংলার মানুষের ভালো চেয়ে কেন্দ্রকে একটিও চিঠি লিখেছেন, এমন কোনও প্রমাণ কেউ দেখাতে পারবেন না। বিজেপি-শাসিত রাজ্যগুলোতে বাঙালিদের ভাষা এবং খাদ্যাভ্যাসের কারণে নির্মমভাবে হেনস্থা করা হচ্ছে। এখন দেশের মানুষের বোঝার সময় এসেছে যে বিজেপি ধর্মীয় বিভেদের রাজনীতি করছে।
অভিষেক আরও বলেন, আমরা শকুন নই, আমরা মৃতদেহ বা কোনও দুর্ভাগ্যজনক ঘটনা নিয়ে রাজনীতি করি না। বাংলাদেশে যা ঘটেছে, তা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। সংবাদমাধ্যমে যেমনটা দাবি করা হচ্ছে, বাংলাদেশের একজন কর্মী দীপু দাস কি সত্যিই কোনও ধর্ম অবমাননা করেছিলেন? এমন কোনও প্রমাণ কি আছে, যার ভিত্তিতে তাঁকে পিটিয়ে মারা হলো? আমাদের এটা বোঝা দরকার যে, কে কাকে উসকানি দিচ্ছে এবং কারা নিজেদের স্বার্থসিদ্ধির জন্য এই ঘটনা নিয়ে রাজনীতি করছে। আমরা চাই শান্তি বজায় থাকুক এবং এ বিষয়ে আমাদের অবস্থান আমরা অত্যন্ত স্পষ্ট করে দিয়েছি। বৈদেশিক সম্পর্ক এবং আন্তর্জাতিক বিষয়ে আমরা কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়েই দাঁড়িয়ে আছি। কিন্তু একটা টুইট করতেও তাঁদের কিসের বাধা? প্রধানমন্ত্রী, রাষ্ট্রপতি বা বিদেশমন্ত্রীর পক্ষ থেকে আজ পর্যন্ত একটা বিবৃতিও আসেনি, অথচ তাঁরাই নিজেদের হিন্দুদের রক্ষাকর্তা বলে দাবি করেন।












Click it and Unblock the Notifications