Tokyo Olympics : রিওর রূপোর পর জাপানে ব্রোঞ্জ, দেশের প্রথম মহিলা হিসেবে ইতিহাসে সিন্ধু
Tokyo Olympics : রিওর রূপোর পর জাপানে ব্রোঞ্জ জিতে ইতিহাসে সিন্ধু, পেলেন স্ট্রেট সেটের জয়
রিও অলিম্পিকে রূপো জেতা পিভি সিন্ধু টোকিও গেমসে ব্রোঞ্জ জিতে ইতিহাসে ঠাঁই পেলেন। রবিবার তৃতীয় স্থান নির্ধারক ম্যাচে চিনের হি জিংবিয়াও-কে স্ট্রেট সেটে হারিয়েছেন ভারতীয় শাটলার। খেলার ফলাফল ২১-১৩, ২১-১৫। সবমিলিয়ে চলতি অলিম্পিকে ভারতের পদক সংখ্যা আনুষ্ঠানিকভাবে দুইয়ে গিয়ে পৌঁছলো। ভারোত্তোক মীরাবাঈ চানুর রূপোর পর শাটবার পিভি সিন্ধুর ব্রোঞ্জ বিজয়ে গর্বিত দেশ।

প্রথম সেটে অনায়াস জয়
রূপো বা সোনার পদক হাতছাড়া হওয়ার জেরে পিভি সিন্ধু যে কতটা হতাশ হয়েছেন, তা বোঝা গিয়েছে রবিবার। সেমিফাইনালে হারের জ্বালায় মেটাতে টোকিও অলিম্পিকের তৃতীয় স্থান নির্ধারক ম্যাচে নিজের সেরাটা উজাড় করে দেন ভারতীয় শাটলার। শুরু থেকেই ম্যাচে প্রাধান্য কায়েম করেন সিন্ধু। প্রথম গেমে শুরু থেকেই এগোতে থাকেন হায়দরাবাদি শাটলার। চিনা প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে ৫-২ ফলাফলে এগিয়ে যান পিভি সিন্ধু। সেখান থেকে কিছুটা লড়াই করার চেষ্টা করেন হি। একটা সময়ে ৬-৬ ফলাফলে আটকে যায় খেলা। সেখান থেকে ফের পয়েন্টের ব্যবধান বাড়াতে থাকেন সিন্ধু। ভারতীয় শাটলারকে আর ধরতে পারেননি চিনা প্রতিপক্ষ। প্রথম গেমে ২১-১৩ পয়েন্টের দাপুটে জয় পান সিন্ধু।

দ্বিতীয় সেটেও জয়
দ্বিতীয় গেমেও ভারতীয় শাটলারের দাপট অব্যাহত থাকে। প্রথমে ৭-৫ এবং পরে ১১-৮ পয়েন্টে এগিয়ে যান পিভি। সেখান থেকে ম্যাচে ফের প্রত্যাবর্তন ঘটান চিনের হি বিংজিয়াও। একটা সময় ১১-১১ পয়েন্টে পৌঁছে যায় ম্যাচ। সেখান থেকে ফের ধীরে ধীরে চড়াই শুরু হয় সিন্ধু। চিনা প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে অনায়াসে পয়েন্টের ব্যবধান বাড়াতে থাকেন ভারতীয় শাটলার। দ্বিতীয় গেম থেকে ১৫ পয়েন্ট অর্জন করতে সক্ষম হন হি। ততক্ষণে তাঁর নাগালের বাইরে চলে গিয়েছেন ভারতের প্রথম বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন শাটলার।

সিন্ধুর ইতিহাস রচনা
২০১৬ সালের রিও অলিম্পিকের ফাইনালে পৌঁছেছিলেন পিভি সিন্ধু। যদিও সেই ম্যাচে তাঁকে হারতে হয়েছিল। ফলে সেবার তাঁকে রূপো জিতে সন্তুষ্ট থাকতে হয়েছিল। টোকিও গেমসে সেমিফাইনালে হেরে যান ভারতীয় শাটলার। তৃতীয় স্থান নির্ধারক ম্যাচ জিতে ব্রোঞ্জ জিতে ইতিহাস রচনা করলেন পিভি। প্রথম মহিলা অ্যাথলিট হিসেবে অলিম্পিক থেকে দুটি পদক জিতলেন হায়দরাবাদি শাটলার। দ্বিতীয় ভারতীয় হিসেবে বিশ্বের সেরা ক্রীড়া প্রতিযোগিতার ব্যক্তিগত ইভেন্টে দুইবার পোডিয়ামে ওঠার সুযোগ পেলেন সিন্ধু। তাঁর আগে ভারতীয় কুস্তিগীর সুশীল কুমার অলিম্পিকের ব্যক্তিগত ইভেন্ট থেকে দুটি পদক জিতেছিলেন। ২০০৮ সালের বেজিং অলিম্পিকে ব্রোঞ্জ জিতেছিলেন সুশীল। ২০১২ সালের লন্ডন অলিম্পিকের কুস্তি ইভেন্ট থেকে রূপো জিতেছিলেন এই ভারতীয়। উল্লেখ্য ২০১২ সালের লন্ডন অলিম্পিকে ব্রোঞ্জ জিতেছিলেন ভারতের সাইনা নেহওয়াল। সিন্ধুর এই ঐতিহাসিক জয়ে আরও একবার প্রাসঙ্গিক হয়েছেন ওই হায়দরাবাদিও।

বিশ্ব তালিকায় সিন্ধুর স্থান
বিশ্বের চতুর্থ অ্যাথলিট হিসেবে পরপর দুই অলিম্পিকের ব্যাডমিন্টনের ব্যক্তিগত ইভেন্ট থেকে বিবিধ পদক জিতলেন পিভি সিন্ধু। দক্ষিণ কোরিয়ার বাং সু-হিয়ুন ১৯৯২ সালের বার্সেলোনা অলিম্পিকে রূপো জিতেছিলেন। আবার ১৯৯৬ সালের আটলান্টা গেমসে সোনা জিতেছিলেন। ২০০৪ সালের এথেন্স অলিম্পিকে সোনা জেতা চিনে শাটলার জাং নিং ২০০৮ সালের বেজিং গেমসে দ্বিতীয় হয়েছিলেন। ১৯৯২ সালের অলিম্পিকে সোনা জেতা ইন্দোনেশিয়ার সুসি সুসান্তি চার বছর পর ব্রোঞ্জ জিতেছিলেন।












Click it and Unblock the Notifications