Amit Bhattacharya Exclusive:ব্যর্থতার অন্ধকার থেকে অলিম্পিকে সোনা জয়! অভিনব বিন্দ্রার মেন্টরের কথায় অজানা গল্প
প্রতিটি সফল ব্যক্তির সাফল্যের নেপথ্যে এক বা একাধিক কারিগর থাকেন, যারা পর্দার আড়ালে থেকেই চ্যাম্পিয়ন তৈরি করেন। বর্তমান খেলাধুলায় শুধু মাঠে নেমে অনুশীলনই সাফল্যের জন্য যথেষ্ট নয়, মানসিকভাবে শক্তিশালী থাকাটাও বড় চ্যালেঞ্জ ক্রীড়াবিদদের কাছে। আর এখানেই ক্রীড়াক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিচ্ছেন মনোবিজ্ঞানীরা।
২০০৮ সালে ভারতীয় ক্রীড়াক্ষেত্রে ইতিহাস গড়েন অভিনব বিন্দ্রা।অলিম্পিকের ব্যক্তিগত ইভেন্টে প্রথম ভারতকে সোনা এনে দেন শুটার অভিনব বিন্দ্রা। কিন্তু বিন্দ্রার এই সাফল্য একদিনে আসেনি। ২০০০ এবং ২০০৪ সালেও অলিম্পিকে অংশগ্রহণ করেছিলেন ভারতীয় এই শুটার। কিন্তু সাফল্য অধরাই থাকে।

অমিত ভট্টাটার্য বলেন, 'আমার সঙ্গে অভিনব বিন্দ্রার সম্পর্ক ২৭ বছরের। আমি যখন ছাত্র ছিলাম তখন থেকেই অভিনবের ক্লাস নেওয়া শুরু করেছিলাম, এরপর ২০০০ সালে সিডনি অলিম্পিকে ওর সঙ্গে যাত্রা শুরু হয়। যা এখনও চলছে।'
২০০৮ সালে অলিম্পিকে সোনা জিতে প্রথম প্রচারের আলোয় আসেন অভিনব বিন্দ্রা। কিন্তু এরআগে ২০০০ এবং ২০০৪ সালে দুটি অলিম্পিকে অংশ নিয়েছিলেন বিন্দ্রা। কিন্তু মেডেল জিতে পোডিয়ামে উঠতে ব্যর্থ হন। বেজিংয়ে কীভাবে বিপ্লব ঘটিয়েছিলেন বিন্দ্রা? হতাশায় ভেঙে পড়া অভিনবকে কোন মন্ত্রে চাঙ্গা করেছিলেন?
এই প্রসঙ্গে অমিত ভট্টাচার্য বলেন, '২০০৮ সালের আগে বিন্দ্রা দুটি অলিম্পিকে অংশ নেয়, কিন্তু ২০০০ সালে ফলাফল খুবই হতাশাজনক ছিল।আমরা ফাইনালেই পৌঁছাতে পারিনি। এরপর থেকেই ওকে পুরোমাত্রায় মানসিকভাবে শক্তিশালী করার করাজ শুরু করি। কিন্তু ২০০৪ সালে ফাইনালে উঠেও পদক জিততে ব্যর্থ হয়, তখন অভিনব খুব ভেঙে পড়ে।'
একইসঙ্গে অমিত ভট্টাচার্য বলেন, 'তখন আমি আর ওর ব্যক্তিগত কোচ ওকে মোটিভেট করি। ওকে বোল্ট, ফেল্পসের গল্প বলি।এরপর বেশ কয়েকটি নতুন থেরাপির উপর আমি কাজ করি। সেখান থেকেই ওকে মানসিকভাবে চাঙ্গা করি। ২০০৬ সালে ও বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপ জেতে যেটা ওর কেরিয়ারে টার্নিং পয়েন্ট। এরপর ২০০৮ সালে অলিম্পিকে সোনা জেতে।'
শুধু অভিনব বিন্দ্রা নন, অমিত ভট্টচার্যের থেকে মানসিক শক্তি বিকাশের ক্লাস করেছেন ভারতের বহু খ্যাতনামা ক্রীড়া ব্যক্তিত্ব। কিন্তু ১৪০ কোটির অলিম্পিকে সোনা জয়ীর সংখ্যা মাত্র ২। বিন্দ্রা-নীরজরা বাকিদের থেকে কোথায় আলাদা? অমিত ভট্টাচার্যের বিশ্লেষণ উঠে এল চ্যাম্পিয়ন হয়ে উঠার প্রসঙ্গও।
অমিত ভট্টাচার্য এই প্রসঙ্গে বলেন, 'একটা জাতীয় বা আন্তজার্তিক স্তরের প্রতিযোগিতার থেকে অলিম্পিক অনেক বেশি আলাদা, এই ইভেন্টের মানসিক চাপ অনেকবেশি। অলিম্পিকে চিন, আমেরিকা সহ প্রথমসারির দেশ সঙ্গে লড়াই করতে হয়। ওরা অনেক বেশি প্রযুক্তি ব্যবহার মানসিক শক্তি বিকাশের ক্ষেত্রে। আমাদের স্পোর্টসম্যানরা অনেক বেশি কোচ পরিবর্তন করেন। মা-বাবা প্রত্যাশার চাপটা চাপিয়ে দেয়, সেইসঙ্গে ক্রীড়া সংস্থাগুলির চাপ থাকে। সেইসঙ্গে ক্রীড়াবিদদের বিশ্বাসেও একটা খামতি থাকছে।'
অমিত ভট্টাচার্য অভিনবের কাছে শুধু একজন মনোবিদই নন, মেন্টরও। বিন্দ্রা শুটিং থেকে অবসর নেওয়ার পরও মেন্টর অমিতের সঙ্গে আগেই মতোই সম্পর্কের বন্ধন পাকাপোক্ত রয়েছে। নিজের সাফল্যের জন্য অলিম্পিকে সোনাজয়ী ক্রীড়াবিদ বরাবরাই কৃতজ্ঞতা জানিয়ে এসেছেন অমিত ভট্টাচার্যকে।
অভিনব একটি সাক্ষাৎকারে বলেন, আমার কেরিয়ারে ওনার বড় ভূমিকা আছে, আমার গোটা যাত্রা পথে ওনি আমাকে অনেক সাহায্য করেছেন।একজন অ্যাথলিট ও মানুষ হিসাবে আমার উন্নতিতে প্রভূত সাহায্য করেছেন।'
এক ছাত্র সোনা জিতেছেন, কিন্তু অমিত স্যারের ক্লাস থেমে নেই। নতুন চ্যাম্পিয়ন তৈরির সাধনায় মগ্ন এই বাঙালি মনোবিদ।












Click it and Unblock the Notifications