কেন গুলি চালিয়েছিলেন CISF জওয়ান? টার্গেট আসলে কে ছিলেন? বিস্ফোরক দাবি অভিযুক্তের
কেন গুলি চালিয়েছিলেন CISF জওয়ান? টার্গেট আসলে কে ছিলেন? বিস্ফোরক দাবি অভিযুক্তের
জাদুঘর কাণ্ডের রেশ এখনও কাটিয়ে উঠতে পারেনি শহর। এখনো থমথমে পার্কস্ট্রিট চত্ত্বর। গতকাল রাতে এখানেই ঘটে গিয়েছে সেই দুঃসাহসিক ঘটনা। অভিযুক্ত সিআইএসএফ জওয়ান এখন রয়েছেন সেন্ট্রাল লকআপে। সূত্রের খবর প্রাথমিক জেরায় একের পর এক বিস্ফোরক দাবি করেছেন অভিযুক্ত সিআইএসএফ জওয়ান। তিনি জানিয়েছেন, তাঁর আসল টার্গেট ছিলেন ইন্সপেক্টর সমাদ্দার। ASI রঞ্জিত ষড়ঙ্গী বা অ্যাসিন্ট্যান্ট কম্যাডান্ট সুবীর ঘোষ তাঁর টার্গেটে ছিলেন না।

টার্গেটে আসলে
হাতে একে-৪৭ আর তার থেকে অবিরাম ছুটছে গুলি। এক বা ২ রাইন্ড নয় একেবারে ৯ রাউন্ড গুলি চালিয়েছিলেন সিআইএসএফ জওয়ান অক্ষয় মিশ্র। সুরক্ষার দািয়ত্ব যাঁর হাতে তিনি হয়ে উঠেছিলেন সক্ষত যমদূত। তঁর এলোপাথারি গুলিতে মারা গিয়েছেন এক কনস্টেবল। গ্রেফতারের পর অক্ষয় মিশ্র জানিয়েছেন তঁার টার্গেটে ছিলেন ইন্সপেক্টর সমাদ্দার। তাঁর সঙ্গেই ছুটি নিয়ে বিবাদ চলছিল। তাই ইন্সপেক্টর সমাদ্দারকে টার্গেট করেই প্রথম গুলি ছোড়েন অক্ষয় মিশ্র। তাঁর গায়ে গুলি লাগলেও প্রাণে বেঁচে যান তিনি। গুলি লেগেছে আরো এক এএসআইয়ের।

আত্মহত্যার পরিকল্পনা
গুলি চালানোর পর আত্মহত্যার পরিকল্পনা করেছিলেন সিআইএসএফ জওয়ান অক্ষয় মিশ্র। সেকারণেই তিনি জাদুঘরের ব্যারাকের ভিতরে আত্মগোপন করেন। ততক্ষণে পুলিশ গোটা এলাকা ঘিরে ফেলেছিল। অক্ষয় মিশ্র দাবি করেছেন, ছুটি নিয়ে ইন্সপেক্টর সমাদ্দারের সঙ্গে গণ্ডগোল চলছিল তাঁর। সেকারণেই তাঁর সার্ভিস বন্দুক ছিনিয়ে নিয়ে গুলি চালাতে থাকেন তিনি। প্রথম গুলিটি লক্ষ্য ভ্রষ্ট হয়েছিল। কিন্তু হাল ছাড়েননি অক্ষয় মিশ্র। এদিকে একটি গুলি গায়ে লাগার পরেই সেখান থেকে ছুটে পালিয়ে গিয়েছিলেন ইন্সপেক্টর সমাদ্দার। তাতে আরো রেগে গিয়ে তেড়ে যান অক্ষয়।

নেপথ্যে কোন কারণ
প্রাথমিক ভাবে ছুটি নিয়েই বচসা হচ্ছিল তাঁর সঙ্গে। বুধবার বাবা মারা গিয়েছিলেন অক্ষয় মিশ্রের। তার জন্য ছুটি চেয়েছিলেন তিনি। সূত্রের খবর ইন্সপেক্টর সমাদ্দার সেই ছুটি দিতে রাজি হননি। এটাই কেবল কারণ নয় তার সঙ্গে ছিল সহকর্মীদের ঠাট্টা তামাশা। অক্ষয় মিশ্রকে নিয়ে নাকি প্রায়ই ঠাট্টা - তামাশা করতেন তাঁর সহকর্মীরা। সেই সব কিছুই একসঙ্গে মিলে বিস্ফোরণ ঘটিয়েছিল। তারপরেই চরম বিস্ফোরণ ঘটে রাগের। ইন্সপেক্টর সমাদ্দারকে টার্গেট করে গুলি চালাতে শুরু করেন অক্ষয় মিশ্র। প্রায় দেড় ঘণ্টা পর কলকাতা পুলিশ এবং সিআইএসএফের বিশাল বাহিনী গিয়ে তাঁকে নিরস্ত্র করে।

হাসতে হাসতে পুলিশের ভ্যানে
হাসতে হাসতে পুলিশের ভ্যানে উঠেছিলেন অক্ষয় মিশ্র। আবার সাংবাদিকদের দেখে হাতও নেড়েছিলেন তিনি। তাতেই অক্ষয় মিশ্রের মানসিক অবস্থ নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। রাতে তাঁকে প্রথমে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল নিউ মার্কেট থানায়। সেখান থেকে নিয়ে যাওয়া হয় এসএসকেএম হাসপাতালে। সেখানে স্বাস্থ্যপরীক্ষা করা হয় তাঁর। গুলি চালানোর পর কোনো অনুশোচনা দেখা যায়নি তাঁর মধ্যে। তারপরেই তাঁর মানসিক অবস্থা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। আপাতত তাঁকে সেন্ট্রাল লকআপে রাখা হয়েছে।












Click it and Unblock the Notifications