সুদীপের গ্রেফতারি, জাতীয় রাজনীতিতে অভিভাবকহীন হয়ে পড়ল তৃণমূল কংগ্রেস
এক গ্রেফতারিতেই টলমল তৃণমূল কংগ্রেস। এর আগেও তৃণমূলের সাংসদ-মন্ত্রীরা গ্রেফতার হয়েছেন চিটফান্ড-কাণ্ডে। তৃণমূলকে এতটা কাঁপতে দেখা যায়নি।
কলকাতা, ৪ জানুয়ারি : এক গ্রেফতারিতেই টলমল তৃণমূল কংগ্রেস। এর আগেও তৃণমূলের সাংসদ-মন্ত্রীরা গ্রেফতার হয়েছেন চিটফান্ড-কাণ্ডে। তৃণমূলকে এতটা কাঁপতে দেখা যায়নি। সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের গ্রেফতারিতে এবার যেন কম্পনের মাত্র রিখটার স্কেলে বেশিই হবে।
হবে নাই বা কেন? সুদীপ তো আর যে সে নেতা নন। দীর্ঘদিনের সাংসদ তিনি। তৃণমূলের লোকসভার নেতা। তিনিই তো জাতীয় রাজনীতিতে পয়লা নম্বর মুখ। সেই তিনিই গ্রেফতার। একেবারে ঢুকে পড়লেন কুণাল ঘোষ, মদন মিত্র, তাপস পালদের দলে। ফলে জাতীয় রাজনীতিতে তৃণমূল অভিভাবকহীন হয়ে পড়ল। এখন তাঁর স্থলাভিষিক্ত কে হবেন, তা-ই লাখ টাকার প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বুধবার তাই তড়িঘড়ি বৈঠকে বসছে তৃণমূল কংগ্রেসের কোর কমিটি। সুদীপের বদলি খুঁজতে হিমশিম খেতে হচ্ছে তৃণমূলকে। সংসদীয় রাজনীতিতে সুদীপের অভিজ্ঞতা দীর্ঘদিনের। তাই তো তাঁকেই ফ্রন্টফুটে রেখে জাতীয় রাজনীতিতে লড়াই চালাচ্ছিল। সম্প্রতি নোট-আন্দোলনে রাহুল গান্ধীর পাশে তাঁকেই মূখ্য ভূমিকায় দেখা গিয়েছে। জাতীয় রাজনীতিতে দলের মুখ ছিলেন তিনিই।
সবথেকে বড় কথা, দলে মুকুল রায়ের গুরুত্ব কমার পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিশ্বস্ত সৈনিক হিসেবে সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় ছিলেন এক নম্বর সৈনিক। বহু যুদ্ধ এক সঙ্গে লড়েছেন। দলের প্রতিটি পদক্ষেপে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেন। একেবারে নেত্রীর ডানহাত বলতে যা বোঝায়, সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় বর্তমানে জাতীয় রাজনীতির ক্ষেত্রে তৃণমূলে সেই ভূমিকা পালন করে চলেছিলেন।
এখন তিনিই গ্রেফতার। অনেকটাই শূন্যস্থান তৈরি হয়েছে তৃণমূলে। আসলে সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় শুধু একজন সাংসদ নন। সংসদীয় রাজনীতিতে সেই ইউপিএ জমানা থেকেই তাঁর প্রভাব-প্রতিপত্তি জারি ছিল। একসময়ে ছিলেন তৃণমূলের চিফ হুইপ। তারপর ইউপিএ মন্ত্রিসভায় কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী হয়েছিলেন। বিশেষ করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জাতীয় রাজনীতি ছাড়ার পর সুদীপের গুরুত্ব বাড়ে জাতীয় রাজনীতিতে। মমতার তাঁর হাতেই দলের ব্যাটন তুলে দেন।
তাই সুদীপ বিহনে দিল্লির রাজনীতিতে তৃণমূল 'ফেসলেস' হয়ে পড়েছে। তাঁর গ্রেফতারি জাতীয় স্তরের রাজনীতিতে বড় ধাক্কা তৃণমূলের। উপায়ান্তর না পেয়ে এবার কোমর বেঁধেছে দল। এর আগে কোনও সাংসদ-মন্ত্রীর গ্রেফতারির পর এতটা দিশেহারা দেখায়নি তৃণমূলকে।












Click it and Unblock the Notifications