ইউক্রেন ফেরত পড়ুয়াদের পাশে দাঁড়াতে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ দাবি, চিঠিতে চার প্রস্তাব মমতার
ইউক্রেন ফেরত পড়ুয়াদের পাশে দাঁড়াতে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ দাবি, চিঠিতে চার প্রস্তাব মমতার
ইউক্রেন ফেরত পড়ুয়াদের সঙ্গে আলাপচারিতায় তাঁদের পাশের থাকার বার্তা দিয়েছেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁদের পড়াশোনার যাবতীয় বন্দোবস্ত করবেন বলে কথাও দিয়েছেন তিনি। সেই লক্ষ্যেই বুধবারই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় চিঠি লিখলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে। রাজ্যের মেডিকেল কলেজে তাদের পড়াশোনা শেষ করানোর অনুমতি চেয়ে তিনি কেন্দ্রের দ্বারস্থ হন।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ইউক্রেন ফেরত পড়ুয়াদের কথা দিয়েছেন, তাদের রাজ্যের মেডিকেল কলেজে পড়াশোনা শেষ করার সুযোগ করে দেবেন। তবে তার জন্য কেন্দ্রীয় সরকার ও ন্যাশনাল মেডিকেল কমিশনের অনুমোদন লাগবে। সেই কারণেই তিনি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে চিঠি লিখে অনুরোধ করেন অনুমতি প্রদানের জন্য। বিষয়টি যাতে বিশেষভাবে বিবেচনা করা হয়, সেই আর্জিও জানান তিনি।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে লেখা চিঠিতে চারটি প্রস্তাব দেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এক, ন্যাশনাল মেডিকেল কমিশন ইউক্রেন ফেরত পড়ুয়াদের ইন্টার্নশিপ করার সুযোগ করে দিক। সেইসঙ্গে ইন্টার্নরা যাতে সরকারি ভাতা পান সেটাও যেন এই পড়ুয়াদের জন্যও বিবেচিত হয়। দুই, যে সব পড়ুয়া ইউক্রেনে প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় বর্ষে পড়ছিলেন, তাদের দেশের সরকারি ও বেসরকারি মেডিকেল কলেজে সমমানের স্তরে ভর্তির সুযোগ দেওয়া হোক। যাতে মেডিকেল কলেজগুলি আসনসংখ্যা বাড়াতে পারে, তার ব্যবস্থ করার আর্জিও জানান তিনি।
ন্যাশনাল মেডিকেল কমিশনের নিয়ম অনুযায়ী যে সব পড়ুয়া প্রবেশিকা পরীক্ষা পাস করেন, তাঁরাই মেডিকেল কলেজগুলিতে ভর্তির সুযোগ পাবেন। কিন্তু মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তিন নম্বর প্রস্তাব, যুদ্ধবিধ্বস্ত ইউক্রেন থেকে প্রাণ হাতে করে ফেরা ছাত্রছাত্রীদের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে কঠিন পরিস্থিতি বিবেচনা করে, কিছু কিছু ক্ষেত্রে গাইডলাইন শিথিল করে তাঁদের পড়াশোনার ব্যবস্থা করা হোক।
আর প্রধানমন্ত্রীকে লেখা চিঠিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় চতুর্থ প্রস্তাব হিসেবে লিখেছেন, রাজ্যের মেডিকেল কলেজগুলি ইতিমধ্যেই পড়ুয়াদের ভর্তি নেওয়ার ব্যাপারে সম্মতি প্রদান করেছে। রাজ্য সরকার এই পড়ুয়াদের পড়াশোনার খরচ জোগাতেও সাহায্য করবে। এখন শুধু কেন্দ্রীয় সরকার ও ন্যাশনাল মেডিকেল কাউন্সিলের অনুমোদনের অপেক্ষা।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, ইউক্রেন থেকে বাংলার ৩৯১ জন পডুয়া ফিরে এসেছেন অনিশ্চির ভবিষ্যৎকে সঙ্গী করে। এখন আমাদের উচিত তাদের পাশে দাঁড়ানো। তাঁরা একটা স্বপ্ন দেখে ইউক্রেনে পড়াশোনা করতে গিয়েছিলেন। তাদের প্রচুর অর্থ ব্যয় হয়েছে। এখন তাঁরা গভীর সংকটে, তাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে। এই জরুরি পরিস্থিতি কাটিয়ে উঠতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।












Click it and Unblock the Notifications