অনলাইনে মনোনয়ন-বিতর্কে সরব হাইকোর্ট, ভর্ৎসনার পর কী নির্দেশ নির্বাচন কমিশনকে
পঞ্চায়েত নির্বাচন যেমন আইন জট কাটিয়ে ঘুরে দাঁড়াতে পারছে না, তেমনই নির্বাচন কমিশনের তিরস্কৃত হওয়ারও শেষ হচ্ছে না।
পঞ্চায়েত নির্বাচন যেমন আইন জট কাটিয়ে ঘুরে দাঁড়াতে পারছে না, তেমনই নির্বাচন কমিশনের তিরস্কৃত হওয়ারও শেষ হচ্ছে না। প্রতিদিনই একটা না একটা কারণে হাইকোর্টে কমিশনকে অপদস্থ হতে হচ্ছে। এবার হাইকোর্ট কমিশনকে বিদ্ধ করল অনলাইন মনোনয়ন-প্রশ্নে। হাইকোর্ট এবার সিপিএমের মেলের মাধ্যমে করা মনোনয়নের বিস্তারিত জানতে চাইল।

বুধবার কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি সিপিএমের করা অনলাইন মনোনয়ন সংক্রান্ত একটি মামলায় কমিশনের আইনজীবীকে ভর্ৎসনা করেন। কমিশনের আইনজীবী অনলাইন মনোনয়নে আপত্তি জানালে ভর্ৎসনা করেন বিচারপতি। তিনি বলেন, কবে, কখন, কতগুলি মনোনয়ন জমা পড়েছিল মেলের মাধ্যমে তা তিনি রিপোর্ট আকারে পেশ করতে বলেন।
তিনি এদিন আবেদনকারীদেরও বলেন, কবে অনলাইনে মনোনয়ন করা হয়েছিল, কতগুলি মনোনয়ন করা হয়েছিল, তা জানাতে হবে। তিনি খতিয়ে দেখবেন বিষয়টি। এ প্রসঙ্গে কমিশনের আইনজীবী দাবি করেছিলেন, হাইকোর্টেরই অন্য বেঞ্চ এই অনলাইন মনোনয়ন খারিজ করে দিয়েছেবন বিচারপতি।
তার পরিপ্রেক্ষিতে বিচারপতি বিশ্বনাথ সমাদ্দার বলেন, এটা তো আপনাকে নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে না। তিনি জানতে চাইছেন কখন, কবে, কতগুলি মনোনয়ন অনলাইনে পাঠানো হয়েছিল। আবেদন আদতে কতদূর সত্য। তাও কি আপনারা পারবেন না। এদিন একটি গুরুত্বহীন মামলায় এভাবে ভর্ৎসিত হল কমিশন।
উল্লেখ্য, বিচারপতি সুব্রত তালুকদার ভাঙড়ের আন্দোলনকারীদের হোয়াটসঅ্যাপে করা মনোনয়ন গ্রহণ করতে কমিশনকে নির্দেশ দেয়। কিন্তু সিপিএম পরদিন তাঁর এজলাসেই মেল করে পাঠানো মনোনয়ন গ্রহণ করার আর্জি জানায়। কিন্তু সেই আবেদন খারিজ করে হাইকোর্ট জানিয়ে দেয়, অনলাইনে মনোনয়ন গ্রহণ করা হবে কি না, সেটা পুরোপুরি কমিশনের সিদ্ধান্ত, সেখানে হস্তক্ষেপ করবে না হাইকোর্ট।
আর হোয়াটসঅ্যাপে মনোনয়ন বিশেষ পরিস্থিতিতে করা হয়েছে। তাই তা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর সঙ্গে অনলাইনে মনোনয়ন পেশের কোনও সম্পর্ক নেই। ওটা একেবারেই একটা পদ্ধতি, সেটা প্রয়োগ হবে কি না, তা স্থির করবে নির্বাচন কমিশন, হাইকোর্ট নয়। তবে এদিন বিচারপতি বিশ্বনাথ সমাদ্দারের বেঞ্চ আশার আলো দেখাল সিপিএমকে।












Click it and Unblock the Notifications