কলকাতার ‘নস্টালজিয়া’ ট্রামকে বাঁচাবে কলকাতাই, তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে পথে নামল সিপিএম
বামফ্রন্ট সরকারের সময় প্রতি বছর ট্রামের আধুনিকীকরণের জন্য বাজেট বরাদ্দ করা হত। তৃণমূল ক্ষমতায় আসার প্রাক্কালে ২০১১ সালে কলকাতায় ৩৭টি রুটে ট্রাম চালানো হত। ২০২৩ সালে মাত্র ২টি রুটে ট্রাম চালানো হয়।
কলকাতার 'নস্টালজিয়া' ট্রামকে বাঁচাতে হবে। ধরে রাখতে হবে ঐতিহ্যকে। ঐতিহ্য রক্ষার দাবিতে এবার পথে নামল সিপিএম। তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে ট্রাম বন্ধ করার চক্রান্তের অভিযোগ তুলে সিপিএমের দাবি, কলকাতার ঐতিহ্য ট্রামকে বাঁচাবে কলকাতাই। ইতিহাস তুলে ধরে সেই ব্যাখ্যা করেন সিপিএমের নেতারা।

ঘোড়ায় টানা ট্রাম চালু ১৪০ বছর আগে
১৮৭৩ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি শহর কলকাতায় ট্রাম চালু হয় শিয়ালদহ থেকে আর্মেনিয়ান ঘাট পর্যন্ত। সেদিনের ঘোড়ায় টানা ট্রাম মূলতঃ পণ্য পরিবহণের জন্য শুরু করা হলেও প্রথম দিন থেকেই তা যাত্রী পরিবহণও শুরু করে। এরপর ১৮৮০ সালে লন্ডনে ক্যালকাটা ট্রাম ওয়েজ কোম্পানি লিমিটেড গঠিত হয়। এশিয়ার প্রথম বিদ্যুৎ চালিত ট্রাম চালু হয় ১৯০০ সালে কলকাতার ধর্মতলা থেকে খিদিরপুর পর্যন্ত।

ট্রাম কোম্পানিকে সরকারের অধিগ্রহণের দাবি
দেশের স্বাধীনতা লাভের পর লাভজনক ট্রাম কোম্পানিকে সরকারের অধিগ্রহণের দাবি জানায় শ্রমিক সংগঠনগুলি। বিধানসভার মধ্যে ট্রাম অধিগ্রহণের দাবির পক্ষে জ্যোতি বসুর নেতৃত্বে বামপন্থী বিধায়করা একই দাবি জানাতে থাকেন। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী বিধান রায় ট্রাম কোম্পানির মালিকদের সঙ্গে একটি চুক্তি করেন ১৯৫১ সালে। যা ট্রামওয়েজ অ্যাক্ট ১৯৫১ নামে পরিচিত।

বামফ্রন্ট সরকারের সময় গঠিত হয় ক্যালকাটা ট্রামওয়েজ কোম্পানি
এই আইন বলে পশ্চিমবঙ্গ সরকার ট্রামওয়েজের সকল স্বত্বাধিকার ১লা জুন ১৯৭২ বা তার দুই বছরের নোটিশে অধিগ্রহণ করে। এই আইন বলে ১৯৭৮ সালে বামফ্রন্ট সরকারের সময় গঠিত হয় ক্যালকাটা ট্রামওয়েজ কোম্পানি (১৯৭৮) লিমিটেড (ক্যালকাটা ট্রামওয়েজ কোম্পানি বা সিটিসি)। এটি পশ্চিমবঙ্গ সরকার অধিগৃহীত একটি সংস্থা।

ট্রাম পরিষেবা বাড়ে, যাত্রী পরিষেবার গতিও বাড়ে
অধিগ্রহণ তো হল, কিন্তু সিটিসি তখন টানা দু-দশক ধরে বিনিয়োগহীন এক সংস্থা! তখন দরকার নতুন বিনিয়োগ। বিশ্বব্যাঙ্ক ও রাজ্যের বামফ্রন্ট সরকারের সাহায্যে ৪২ কোটি টাকা নতুন বিনিয়োগ সংস্থায় আসে। ১৬১টি নতুন ট্রাম কেনার সঙ্গে ২৫টি গাড়ি সংস্থায় তৈরি হয়। লাইন, সাব-স্টেশন, ওভারে হেড তার পরিবর্তনের মধ্যে দিয়ে সংস্থার কাজে গতি আসে। ট্রাম পরিষেবা বাড়ে, যাত্রী পরিষেবার গতিও বাড়ে।

রাস্তার ভগ্নদশার জন্য কর্পোরেশন দায়ী না, দায়ী ট্রাম কোম্পানি!
বামফ্রন্ট সরকারের সময় প্রতি বছর ট্রামের আধুনিকীকরণের জন্য বাজেট বরাদ্দ করা হত। বামফ্রন্ট পরিচালিত কলকাতা কর্পোরেশনও ট্রাম লাইন রক্ষার্থে যথাযথ ভূমিকা পালনের চেষ্টা করত। আবার উল্টোদিকে তৃণমূল-বিজেপি পরিচালিত কলকাতা কর্পোরেশনের মেয়র ট্রাম রাস্তাগুলিতে বোর্ড টাঙিয়ে ঘোষণা করেছিল- রাস্তার ভগ্নদশার জন্য কর্পোরেশন দায়ী না, দায়ী ট্রাম কোম্পানি!

ট্রামের আধুনিকীকরণ, বাম সরকাররে উদ্যোগ
২০০৭-০৮ সালে কলকাতার ট্রাম রাস্তা সারানো জন্য প্রায় ১০০ কোটি টাকা অতিরিক্ত বরাদ্দ করা হয় রাজ্যের বামফ্রন্ট সরকারের পক্ষ থেকে। ২০০৫-১০ বছরে বামফ্রন্টের পুরবোর্ড কলকাতার ট্রামের উন্নয়নে উদ্যোগ নেয়। ফলশ্রুতিতে ট্রাম রাস্তা কংক্রিটের হয়। রাস্তার গতি বাড়ে। চালু হয় আধুনিক ট্রাম। এসি ট্রামও নামে রাস্তায়।

নতুন তৃণমূল কংগ্রেসের সরকার গঠনের পর ট্রাম
তৃণমূল ক্ষমতায় আসার প্রাক্কালে ২০১১ সালে কলকাতায় ৩৭টি রুটে ট্রাম চালানো হত। ২২০টি গাড়ি মজুত ছিল, যার মধ্যে প্রতিদিন চলত ১০০-১১০টি। ৭০ থেকে ৭৫ হাজার যাত্রী ছিল প্রতিদিন। প্রায় ৭৩০০ স্থায়ী কর্মী ছিলেন তখন। ২০১১ সালের মে মাসে রাজ্য সরকারের বদল ঘটে। নতুন তৃণমূল কংগ্রেসের সরকার গঠনের ২ দিনের মধ্যে জোকা-বেহালা ট্রাম রুট বন্ধ করা এবং এক রাতের মধ্যে ট্রাম লাইন তুলে ফেলার মধ্যে দিয়েই প্রকাশ ঘটে বর্তমান রাজ্য সরকার ট্রাম নিয়ে কোন পথে আগামীদিনে চলবে।

বর্তমান রাজ্য সরকার ট্রাম নিয়ে সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছে
২০২৩ সালে মাত্র ২টি রুটে ট্রাম চালানো হয়। মজুত গাড়ির সংখ্যা মাত্র ২০টি, যার মধ্যে প্রতিদিন চলে মাত্রা ১১-১২টি! যাত্রী সংখ্যা খুব স্বাভাবিকভাবেই কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ৩ থেকে ৫ হাজারে! স্থায়ী কর্মীর সংখ্যা কমেছে দ্রুত হারে। অথচ এখনও প্রায় ৭৫-৮০টি ট্রাম এমন অবস্থায় আছে, একটু সদিচ্ছা থাকলেই সেগুলিকে নিয়মিত চালানো সম্ভব। কিন্তু করবে কে? বর্তমান রাজ্য সরকার প্রকাশ্যে বলছে ট্রামের লাইনের উপর পিচ ঢেলে দেওয়া হবে। বিভিন্ন রুটে ট্রামের ওভার হেড তার খুলে নেওয়া হচ্ছে। শোনা যাচ্ছে ৩৭টি ট্রামকে ছু়ড়ে ফেলার সিদ্ধান্ত এ মাসেই প্রশাসন নিয়েছে!

পৃথিবীর বড় বড় শহরে ট্রাম চলছে, তাহলে এখানে নয় কেন?
ট্রাম কমানো এবং তুলে দেওয়ার পিছনে সরকার য়ে কারণগুলি জানিয়েছে, তা হল- এক মুখ গতির যান চলাচল। যানজট করে এমন যান কমানো। গতি বাড়ানোর জন্য সারা বিশ্বে ট্রামের আধুনিকীকরণ হয়েছে। আমাদের এখানেও কিছুটা হয়েছিল বামফ্রন্টের পুরবোর্ডের আমলে। পৃথিবীর বড় বড় শহরে ট্রাম চলছে। লন্ডন, নিউইয়র্ক, হংকং, টোকিও, মেলবোর্ন, ওয়াসিংটন ডিসি, প্যারিস, বার্লিন সর্বত্র ট্রাম চলছে। যাত্রীও বাড়ছে প্রতিদিন। তবে এখানে হবে না কেন?

কলকাতার ট্রামকে বাঁচাবে কলকাতাই, বিশ্বাস সিপিএমের
সিপিএমের পক্ষ থেকে প্রশ্ন তোলা হয়েছে, বাইপাসে, যাদবপুরে, বেলেঘাটায়, সেন্ট্রাল এভিনিউতে তো ট্রাম চলে না। তাহলে এই সব জায়গায় যানজট কেন? কলকাতায় অনেক রাস্তায় ট্রাম বন্ধ হয়েছে, তাতে কি যানজট কমেছে? না, কলকাতায় যানজট এতটুকু কমেনি। বরং বেড়েছে। তাই আমাদের বিশ্বাস, কলকাতার ট্রামকে বাঁচাবে কলকাতাই।
-
আরও একটি সাপ্লিমেন্টারি ভোটার তালিকা প্রকাশ করল নির্বাচন কমিশন, আর কত নাম নিষ্পত্তি হওয়া বাকি? -
ভবানীপুর ও নন্দীগ্রামে উত্তাপ চরমে, শুভেন্দুর বিরুদ্ধে ভয়ের রাজনীতির অভিযোগে মনোনয়ন বাতিলের দাবি তৃণমূলের -
যুদ্ধ নয়, আলোচনায় সমাধান! হরমুজ ইস্যুতে বৈঠক ডাকল ব্রিটেন, যোগ দিচ্ছে ভারত -
বাংলায় ভোট পরবর্তী হিংসা রুখতে অনির্দিষ্টকালের জন্য থাকবে কেন্দ্রীয় বাহিনী -
'মালদহ কাণ্ডের মাস্টারমাইন্ড' মোফাক্কেরুল ইসলাম গ্রেফতার, পালানোর সময় বাগডোগরা থেকে ধৃত -
দাগি নেতাদের নিরাপত্তা কাটছাঁট কতটা মানল পুলিশ? স্টেটাস রিপোর্ট চাইল নির্বাচন কমিশন -
পুর-নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় ভোটের আগে তৃণমূলের দুই হেভিওয়েট নেতাকে ইডির তলব -
ভোটের আগেই কমিশনের কড়া নির্দেশ! অনুমতি ছাড়া জমায়েত নয়, নিয়ম ভাঙলেই গ্রেফতার, রাজ্যজুড়ে জারি কঠোর নির্দেশ -
এপ্রিলে শক্তিশালী ত্রিগ্রহী যোগ, শনি-সূর্য-মঙ্গলের বিরল মিলনে কাদের থাকতে হবে সতর্ক? -
অমিত শাহের রাজ্যে থাকার ঘোষণায় তীব্র কটাক্ষ মমতার, বললেন, যত বেশি থাকবে, তত ভোট কমবে -
পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধ! MRI Scan-এর খরচ আকাশছোঁয়া হতে পারে, বিপাকে পড়তে পারেন রোগীরা -
যুদ্ধ পরিস্থিতির মাঝেই বড় রদবদল! মার্কিন সেনা প্রধানকে সরাল ট্রাম্প প্রশাসন, কারণ কী, জল্পনা তুঙ্গে












Click it and Unblock the Notifications