স্বাস্থ্য পরিষেবায় নজরদারিতে হেলথ রেগুলেটরি কমিশন বিল আনছেন মুখ্যমন্ত্রী
বেসরকারি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে তুলোধোনা করে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্বাস্থ্য পরিষেবায় নজরদারিতে হেলথ রেগুলেটরি কমিশন বিল আনার কথা ঘোষণা করলেন।
কলকাতা, ২২ ফেব্রুয়ারি : আগে রোগীকে স্যালাইন-ইঞ্জেকশন দিন, তারপর পয়সা গুণবেন। বেসরকারি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে এই ভাষায় তুলোধনা করে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্বাস্থ্য পরিষেবায় নজরদারিতে হেলথ রেগুলেটরি কমিশন বিল আনার কথা ঘোষণা করলেন। আগামী বিধানসভা অধিবেশনেই তিনি এই সংক্রান্ত বিল আনবেন। এই কমিশন হাসপাতালে মনিটরিং করবে।[এদিন রাজ্য সরকারের তরফে যে অভিযোগগুলি তোলা হয় নার্সিংহোমের বিরুদ্ধে]
মুখ্যমন্ত্রী এদিন হেলথ রেগুলেটরি কমিশন গঠনের কথা ঘোষণা করে বলেন, এই কমিশনের মাথায় থাকবেন একজন বিচারপতি। মোট দশজন থাকবেন কমিশনে। হাসপাতালের প্রতিনিধি যেমন থাকবেন, তেমনই সাধারণ মানুষের প্রতিনিধিও থাকবেন। আগামী অধিবেশন শুরু হচ্ছে ১ মার্চ। ৩ মার্চই বিধানসভায় এই বিলের প্রস্তাব করা হবে।[মানুষের জীবন নিয়ে ব্যবসা করা যাবে না, নার্সিংহোম কর্তাদের কড়া বার্তা মুখ্যমন্ত্রীর]

প্রসঙ্গত মুখ্যমন্ত্রী বলেন, আমি চাই সরকারি হাসপাতাল ও বেসরকারি হাসপাতাল উভয়েই মানবিক দৃষ্টি নিয়ে কাজ করুক। আমি চাই চিকিৎসার মডেল হোক বাংলা। এজন্য তিনি কর্তৃপক্ষ ও সাধারণ মানুষ উভয়কেই বার্তা দেন এদিন। তিনি যেমন আইন নিজের হাতে নেওয়ার সমালোচনা করেন, তেমনি বেসরকারি হাসপাতালগুলিতে যে প্রচুর পরিমাণ বিল হচ্ছে, তা স্পষ্ট করে দেন।
চিকিৎসাকে মানবিক দৃষ্টি দিয়ে দেখার অনুরোধ করে মুখ্যমন্ত্রী এদিন জানান, আলুর দোকানে মানুষ দরদাম করে, কিন্তু হিরে কিনতে গেলে মানুষ তা করে না। তাই ছোটোখাটো সাহায্য করলে বিপুল ক্ষতি হয়ে যাবে না। রাজ্যে এখন সুপার স্পেশালিটির রমরমা চলছে। কিন্তু সমস্ত রোগেই সুপার স্পেশালিটির প্রয়োজন হয় না। অনেক বড় হাসপাতালেও ভুল চিকিৎসা হয় বলে তিনি অভিযোগ করেন। আবার জ্বর জ্বালা হলেও গুচ্ছের পরীক্ষার নির্দেশ দিয়ে দেন। এইসব ব্যাপারে লাগাম পরাতে চান মুখ্যমন্ত্রী। হেলথ রেগুলিটরি কমিটি মূলত এই বিষয়গুলি দেখবেন। প্রতিমাসে রিপোর্ট দেবেন মুখ্যমন্ত্রীকে।
সেইসঙ্গে প্রত্যেক হাসপাতালে ই রেকর্ড সিস্টেম চালু করতে নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। জেনেরিক মেডিসিন প্রেসক্রাইব করার পাশাপাশি খরচ কমাতে ফেরা প্রাইস ডায়গনস্টিক সেন্টার ও ওষুধের দোকান চালুর প্রস্তাবও দিয়েছেন তিনি। সাধারণ মানুষের জন্য বাজেট হাসপাতাল করার প্রস্তাবের পাশাপাইশ প্যাকেজের পরও প্লাস প্যাকেজ নিয়ে সরব হন মুখ্যমন্ত্রী। মুখ্যমন্ত্রীর সাফ কথা, সরকার যখন জমি দিচ্ছে, তখন গরিবকে সাহায্য করতে হবে। একশো শতাংশ মুনাফার লোভ ত্যাগ করার পরামর্শ দেন মুখ্যমন্ত্রী।












Click it and Unblock the Notifications