মোদী পাঠালেন বাংলাভাষী ‘সৈনিক’, মিশন ২০১৯-এর লক্ষ্যে ভিত গড়ছে বিজেপি
১৯৯৮ থেকে ভারতে কংগ্রেসের পাশাপাশি বড় শক্তি হয়ে উঠলেও বাংলায় সে অর্থে ঘাঁটি গাড়তে পারেনি বিজেপি। অটল জমানার পর মোদী জমানায় এসে শেষ চেষ্টায় নেমেছে বিজেপি।
ত্রিপুরা জিতেই বাংলাকে পাখির চোখ করেছিল বিজেপি। স্লোগান তুলেছিল- এবার বাংলা পারলে সামলা। কিন্তু বিজেপি জানে বাংলা বড় শক্ত ঠাঁই। তাই ১৯৯৮ থেকে ভারতে কংগ্রেসের পাশাপাশি বড় শক্তি হয়ে উঠলেও বাংলায় সে অর্থে ঘাঁটি গাড়তে পারেনি বিজেপি। অটল জমানার পর মোদী জমানায় এসে শেষ চেষ্টায় নেমেছে বিজেপি।

ত্রিপুরার ধাঁচে ‘অপারেশন বাংলা’
ত্রিপুরার মতো বাংলাতেও বিজেপি গোপন অপারেশন চালাচ্ছে। বাংলায় পদ্মফুট ফোটাতে মোদী-শাহরা নিজের লোককে পাঠিয়েছেন। ত্রিপুরা জয়ে যেভাবে নেপথ্য নায়ক হিসেবে কাজ চালিয়ে গিয়েছিলেন সুনীল দেওধর, বাংলায় তেমনই অরবিন্দ মেননকে পাঠিয়েছেন বিজেপি সভাপতি। বাংলার পর্যবেক্ষক কৈলাশ বিজয়বর্গীয় যখন নিজের রাজ্যের ভোট নিয়ে ব্যস্ত তখন অরবিন্দ মেনন রাজ্যে এসে শুরু করে দিয়েছেন কাজ।

ত্রিপুরা জয়ে বিরাট ভূমিকা দেওধরের
ত্রিপুরায় বিজেপির ‘ব'ও ছিল না। অথচ মাত্র এক বছরে শাসন ক্ষমতায় বিরাজ করছে বিজেপি। তার জন্য বিপ্লব দেব-রা নন, মূল ভূমিকা পালন করেছেন সুনীল দেওধরের মতো বিজেপির নেপথ্য কারিগররা। তেমনই বাংলাতেও এমন একজনকে নিয়োগ করা হয়েছে, যিনি স্বল্প সময়ে আমূল বদলে দিতে পারেন ছবিটা।

কোন জাদুদণ্ডে এ সম্ভব
সুনীল দেওধর যেমন ত্রিপুরাকে বদলে দিয়েছেন, তেমনই বাংলায় বদল আনতে অরবিন্দ মেননকে পাঠিয়েছে বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। এই অরবিন্দকে দেখে চমকে যাচ্ছেন বাংলার বিজেপি নেতৃত্ব। মালওয়ালি হলে কী হবে, ইনি বাংলাটা বলেন ঝরঝরে। শুধু কি বলা, বাংলা লিখতে পড়তেও স্বচ্ছন্দ মেনন। এমন কারিগরকে পেয়ে বঙ্গ বিজেপিও বেজায় খুশি।
|
বাংলা জানা নেতা বঙ্গ বিজেপির দায়িত্বে
সাংগঠনিক ক্ষমতা তো আছেই, সেইসঙ্গে বাংলাটা দারুন জানেন মেনন। তাই মেননকেই এবার বাংলা জয়ের লক্ষ্যে পাঠিয়েছেন অমিত শাহ। তাঁর বাংলা ভাষায় পারদর্শিতা বাংলার বুকে কাজে লাগাতে চাইছে বিজেপি। কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের কথা মতোই তিনি কাজ করতে শুরু করে দিয়েছেন। ২০১৯-এর লক্ষ্যে সর্বপ্রকার শক্তি নিয়োগ করে ঝাঁপাতে চাইছে বিজেপি।
|
বাংলায় টুইট করছেন মেনন
বাংলার দায়িত্ব পাওয়ার পরই কালক্ষেপ না করে কাজ করতে শুরু করে দিয়েছেন মেনন। তিনি এখন থেকেই বাংলায় টুইট করছেন। সম্প্রতি সাঁতরাগাছি স্টেশনে পদপিষ্টের ঘটনা ও লক্ষ্মীরপুজোর জন্য শুভেচ্ছা প্রদান নিজের টুইটার হ্যান্ডেলে বাংলায় লিখেছেন মেনন।
|
সংঘের ভাবদর্শে তৈরি মেনন
সংঘের হয়ে দেশের বহুপ্রান্তে তিনি ছুটে বেড়িয়েছেন। মধ্যপ্রদেশে বিজেপির সাধারণ সম্পাদক পদে ছিলেন দীর্ঘদিন। বারণসীতে ছিলেন সেই ছোটবেলা থেকে। মাতৃভাষা মালয়ালম হলেও, তিনি বিশেষ পারদর্শী হিন্দি ও ভোজপুরিতে। তারপর বাংলাও তিনি জানেন। আর ইংরেজি তো আছেই। অর্থাৎ পাঁচটি ভাষায় পারদর্শী মেনন তো বিজেপির তুরুপের তাস হবেই।

বাংলা শিখলেন কোথায়
বারাণসীতে থাকাকালীনই তিনি বাংলা শিখেছেন। বারাণসীতে অনেক বাঙালি থাকেন। আর বিভিন্ন ভাষা শেখার একটা আগ্রহ তাঁর ছিল অনেক আগে থেকে। সেই ছোটবেলায় তিনি শিখেছিলেন বাংলা ভাষা। তা নিয়ে চর্চাও করতেন। আর আজ তা কাজে লাগছে।

বাঙালি খাবার খাচ্চেন মেনন
১১ অক্টোবর বাংলায় আসার পর থেকেই বাঙালি খাবার খাচ্ছেন মেনন। বাংলা খাবারের প্রতি তাঁর বিশেষ টান রয়েছেন। দক্ষিণ ভারতীয় খাবার তিনি খাচ্ছেন না, কলকাতায় যতবার আসছেন বাঙালি খাবারের প্রতিই তাঁর ঝোঁক। ভাত-ডাল-আলু আর ঝিঙে পোস্তে রসনাতৃপ্তি করছেন। বাংলার দায়িত্বে আসার পর বাঙালি হয়ে উঠতে চাইছেন তিনি। বাংলার সঙ্গে আত্মার যোগ ঘটাতে চাইছেন।












Click it and Unblock the Notifications