ধর্মঘটে সরকারি কর্মীদের উপস্থিতি বাধ্যতামূলক, বিজ্ঞপ্তি দিয়ে জানাল নবান্ন
ধর্মঘটে সরকারি কর্মীদের উপস্থিতি বাধ্যতামূলক, বিজ্ঞপ্তি দিয়ে জানাল নবান্ন
রাজ্যে রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর থেকেই ধর্মঘটের বিরোধীতা করে এসেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ফলে যতবারই বাংলায় বনধ ডাকা হয়েছে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। চাপ দিয়েই হোক কিংবা অতিরিক্ত যানবাহন চালিয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করেছেন তিনি। কর্মনাশা বনধকে যে কখনই রাজ্য সরকার সমর্থন করে না তা বারবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মন্তব্যে উঠে এসেছে। এবার ফের একবার কর্মনাশা বনধকে ব্যর্থ করতে কড়া বিজ্ঞপ্তি জারি করল নবান্ন।

১২ ঘণ্টার ধর্মঘটে সরকারি কর্মচারীদের উপস্থিতি বাধ্যতামূলক
শুক্রবার ধর্মঘটের ডাক দেওয়া হয়েছে। পুলিশি লাঠিচার্জের বিরুদ্ধে ১২ ঘন্টার ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে বামেরা। এই অবস্থায় সরকারি কর্মচারীদের উপস্থিতি বাধ্যতামূলক করল নবান্ন। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় এই মর্মে বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে নবান্নের তরফে। নবান্নের তরফে দেওয়া বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে যে, আগামিকাল শুক্রবার সরকারি দফতরের সমস্ত আধিকারিক থেকে কর্মীকে সকলকে নির্দিষ্ট সময়ে হাজিরা দিতে হবে। হাজিরা না দিলে বেতন কাঁটা যাবে বলে বিজ্ঞপ্তি জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে আগামিকাল শুক্রবার ধর্মঘটের দিনে কোনও ক্যাসুয়াল লিভ কিংবা অর্ধদিবস ছুটি নেওয়া যাবে না। তবে কিছু ক্ষেত্রে ছাড় দেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।

কিছু ক্ষেত্রে ছাড় দেওয়া হয়েছে
তবে কিছু ক্ষেত্রে ছাড় দেওয়া হয়েছে। কিছু ক্ষেত্রে ছাড় দেওয়া হয়েছে সরকারি কর্মচারী থেকে আধিকারিকদের। যেমন যে সমস্ত কর্মী, আধিকারিকরা বেশ কয়েকদিন ধরে ছুটিতে আছেন তাঁদের ছুটি মঞ্জুর হবে। এছাড়াও যারা মেটারনিটি লিভ অর্থাৎ মাতৃত্বকালীন ছুটিতে আছেন তাঁদের ছুটি মঞ্জুর করা হবে। পরিবারে নিকট পরিজনের মৃত্যু হলে বা সেই সংক্রান্ত কোনও ছুটি নেওয়া থাকলে তাহলে ধর্মঘটে অফিস না আসলেও হবে। করোনা কিংবা অন্য কোনও অসুস্থ হলে বা অসুস্থতার জন্য ছুটিতে রয়েছেন ১১ ফেব্রুয়ারির আগে থেকে এবং হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকলে ছুটি গ্রাহ্য হবে। এই সমস্ত কারণের বাইরে কোনও কারণে ছুটি নিলে, সেক্ষেত্রে বেতন কাটা যাবে বলে নবান্নের তরফে দেওয়া বিজ্ঞপ্তিতে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।

খোলা থাকবে স্কুল
বামেদের ডাকা ধর্মঘটে সমস্ত স্তরের মানুষকে এগিয়ে আসার আহবান জানানো হয়েছে। কিন্তু দীর্ঘ একবছর পর শুক্রবার থেকেই খুলছে স্কুল। এই অবস্থায় ধর্মঘটে স্কুল খোলা থাকবে না তা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয় অভিভাবকদের মধ্যে। কিন্তু বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায় অবশ্য জানিয়ে দিলেন, বনধ সত্ত্বেও পূর্ব ঘোষণা মতোই শুক্রবার থেকে স্কুল খুলবে৷ যেভাবে স্কুল খোলার কথা বলা হয়েছে সেভাবেই স্কুল খুলবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী।

সিদ্ধান্ত বদল করব না।
সন্ধ্যায় সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়। তিনি জানান, সামনেই মাধ্যমিক এবং উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা। দীর্ঘদিন স্কুল বন্ধ ছিল। ক্লাস হয়নি। এই অবস্থায় মধ্যামিক- উচ্চ মাধ্যমিকের ছাত্রছাত্রীদের কী হবে, তাদের প্র্যাক্টিকাল ক্লাস কীভাবে হবে, এসব না ভেবে ধর্মঘট ডাকা হয়েছে। ফলে এই মুহূর্তে কিছুতেই নিজেদের সিদ্ধান্ত বদল করা সম্ভব নয় বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী। একই সঙ্গে পার্থবাবু জানিয়েছেন, আগের নির্দেশিকা অনুযায়ী আগামিকাল শুক্রবার থেকে রাজ্যের সর্বত্র স্কুল খোলা হবে বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী। তবে স্বাস্থ্যবিধি মেনে স্কুল কর্তৃপক্ষ যে ভাবে ছাত্রছাত্রীদের পঠনপাঠনের শুরু করবেন, তাতে সব রকম সাহায্য করতে আমরা তৈরি বল জানান পার্থ চট্টোপাধ্যায়।

৬টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত রাজ্যজুড়ে ধর্মঘট
বামেদের নবান্ন অভিযান ঘিরে বৃহঃষ্পতিবার সকাল থেকেই কার্যত রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় কলকাতার রাজপথের বিভিন্ন প্রান্ত। কিন্তু এদিনের মিছিলে শুরুতেই পুলিশের বিরুদ্ধে বিনা প্ররোচনায় নির্মম ভাবে লাঠিচার্জ, জল কামান চালানোর অভিযোগ উঠেছে। যা নিয়ে সরগরম রাজ্য-রাজনীতি। নবান্ন অভিযানে পুলিশি নির্যাতন ছাড়াও প্যারাটিচার,টেট, মাদ্রাসা শিক্ষকদের উপর কাপুরুষোচিত আক্রমনের বিরুদ্ধে দোষী পুলিশ কর্মীদের শাস্তির দাবীতে আগামীকাল শুক্রবার ১২ ফেব্রুয়ারি সকাল ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত রাজ্যজুড়ে ধর্মঘট ডাক দিল বামেরা। এদিন সংবাদ সম্মেলনে একথা জানান সিপিআইএম নেতা।












Click it and Unblock the Notifications