সুকান্তের মোবাইল নম্বর দিলেন অভিষেক, একশো দিনের টাকা পেতে ফোন করতে বললেন
সুকান্ত মজুমদারকে ফোন করে টাকা চান। তৃণমূলের ধরনা মঞ্চ থেকে এই বার্তা গেল সাধারণ মানুষের মধ্যে। কেন্দ্রীয় সরকার বাংলার ১০০ দিনের কাজের টাকা আটকে রেখেছে। প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনার টাকাও সরকার দিচ্ছে না। তৃণমূলের ধরনা কর্মসূচি নিয়ে বিজেপির তরফ থেকে কটাক্ষ করা হচ্ছিল। এবারে মঞ্চ থেকে বিজেপির রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদারের মোবাইল নম্বর দেওয়া হল।
রাজভবনের সামনে শনিবার তৃতীয় দিনের ধরনা কর্মসূচি চলছে। তৃণমূলের তিন প্রতিনিধি দার্জিলিং গিয়েছেন রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোসের সঙ্গে দেখা করতে। কলকাতায় রাজভবনের বাইরে মঞ্চে বসে রয়েছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ও তৃণমূল নেতৃত্ব।এই ধরনা কর্মসূচি নিয়ে রীতিমতো খোঁচা দিয়েছেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার। এবার পাল্টা দিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।

বাংলার প্রাপ্য টাকা আনতে হবে। কেন্দ্রকে এই টাকা দিতে হবে। এই দাবি তৃণমূলের পক্ষ থেকে জোরালো হচ্ছে। বিজেপি দাবি করছে ১০০ দিনের কাজে দুর্নীতি হয়েছে বাংলায়। সে কারণেই টাকা আটকে আছে। কেন্দ্রীয় গ্রামোন্নয়ন প্রতিমন্ত্রী কলকাতায়। মন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করতে তৃণমূল নেতারা বিজেপি কার্যালয়ে আসতে পারেন। এই বক্তব্য সুকান্ত মজুমদার রেখেছেন। এরপরেই ধরনা মঞ্চ থেকে অন্য ভূমিকা নেওয়া হল। এবার সুকান্ত মজুমদারের কাছে টাকা চাওয়া হবে। এই বার্তা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ে থেকে এসেছে।
তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক জানান, সুকান্ত মজুমদারের থেকে টাকা চাওয়া যেতে পারে। যারা কেন্দ্রীয় সরকারের প্রকল্পের টাকা পান, তারা ফোন করুন বিজেপির রাজ্য সভাপতিকে। পাওনা টাকা তার কাছে আবেদন করুন। তবে কেউ ফোন করে কুকথা যেন না বলেন। বারবার সেই বার্তা অভিষেক দিয়েছেন।
তিনি বলেন, " আপনারা সকলে এই নম্বরে ফোন করে বলুন, আপনার এত ক্ষমতা, আপনি বললেই টাকা চলে আসবে। তাহলে আপনি দয়া করে টাকাটা আনিয়ে দিন। দুই বছর ধরে আমাদের বেতন আটকে আছে।" ২০ লক্ষ মানুষ ১০০ দিনের কাজের টাকা থেকে বঞ্চিত রয়েছেন বাংলায়।
এই ২০ লক্ষ মানুষ কি তাহলে বিজেপির রাজ্য সভাপতিকে ফোন করবেন? এই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। মঞ্চে তৃণমূল নেতা রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায় উপস্থিত ছিলেন। বিধানসভা নির্বাচনের আগে রাজীব বিজেপিতে যোগ দিয়েছিলেন। পরে আবার ফিরে আসেন তৃণমূল কংগ্রেসে। অভিষেক তার কাছে সুকান্ত মজুমদারের মোবাইল নম্বর আছে কী না জানতে চান।
রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায় দুটি নম্বর জানান। তবে সেটি সুকান্ত মজুমদার ব্যবহার করছে কী না, সেই সম্পর্কে তিনি নিশ্চিত নন। এই ঘটনায় রাজনৈতিক মহলে যথেষ্ট চর্চা শুরু হয়েছে। সাধারণ মানুষের মধ্যে এভাবে মঞ্চ থেকে নেতাদের মোবাইল ফোন নম্বর দেওয়া! অতীতে এই ঘটনা কি ঘটেছে? সেই প্রশ্ন উঠেছে।
১০০ দিনের কাজের টাকা নিয়ে রাজ্য বিজেপিও একাধিক মন্তব্য করেছে। সুকান্ত মজুমদারকে এবার পাল্টা দিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। এবার ওই দুই মোবাইল নম্বরে কতজন ফোন করবেন টাকার জন্য? চর্চা থাকছেই।












Click it and Unblock the Notifications