বিজেপির ২০ বিধায়ক তৃণমূলমুখী! ‘বোতাম টিপলেই বিরোধী দলনেতার তকমা যাবে শুভেন্দুর’
বিজেপির ২০ বিধায়ক তৃণমূলমুখী! ‘বোতাম টিপলেই বিরোধী দলনেতার তকমা যাবে শুভেন্দুর’
একুশের বিধানসভা নির্বাচনে পর্যুদস্ত হওয়ার পর বিজেপির রক্তক্ষরণ হয়েই চলেছে। একে একে অনেক বিধায়ক তৃণমূলে যোগ দিয়েছেন। ফলে বিজেপির শক্তিক্ষয়ও হয়েছে বিধানসভায়। শুক্রবার ইডি জেরার মুখোমুখি হয়ে ফেরার পর অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় শুভেন্দু অধিকারীকে নিশানা করতে গিয়ে বললেন, বোতাম টিপলেই বিরোধী দলনেতার তকমা হারাবেন তিনি।

শুভেন্দু অধিকারী বিরোধী দলনেতা থাকবেন না!
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে তৃতীয়বার তলব করেছিল ইডি। এদিন কয়লা পাচারকাণ্ডে ইডির সিডিও কমপ্লেক্সের অফিসে টানা সাড়ে ৬ ঘণ্টা জেরা করা হয় অভিষেককে। তারপর ইডির জেরা থেকে বেরিয়ে একে একে বিজেপি, অমিত শাহ, নিশীথ প্রামাণিক ও শুভেন্দু অধিকারীকে নিশানা করেন অভিষেক। তাঁর বিরুদ্ধে পাচারকাণ্ডে ফেরার অভিযুক্তের সঙ্গে ফোনে কথা বলার অভিযোগ আনেন। একইসঙ্গে তিনি রাজনৈতিকভাবেও নিশানা করে জানান, শুভেন্দু অধিকারী বিরোধী দলনেতা থাকবেন না তিনি যদি দরজা খুলে দেন।

বোতাম টিপলেই ২০ জন বিধায়ক তৃণমূলে যোগ দেবে!
শুভেন্দু অধিকারীকে একহাত নিয়ে অভিষেক এদিন বলেন, বোতাম টিপলেই ২০ জন বিধায়ক তৃণমূলে যোগ দেবে। আর তাহলেই শুভেন্দু অধিকারীর বিরোধী দলনেতার তকমা হারাবেন। তিনি আগেই বলেছিলেন, তৃণমূল দরজা বন্ধ করে রেখেছে। কিন্তু দরজা খুললেই বিজেপি ভেঙে খান খান হয়ে যাবে। বিজেপির সঙ্গে কতজন বিধায়ক থাকবে, তা একটা প্রশ্ন।

৫০-এ নীচে নেমে যাবে বিজেপির বিধায়ক সংখ্যা!
আর এদিন তিনি স্পষ্ট করেই বলে দিলেন তিনি যদি একটা বোতাম টেপেন অর্থাৎ দরজাটা খুলে দেন তবে বিজেপির ২০ জন বিধায়ক তৃণমূলে যোগ দেবে। সে ক্ষেত্রে ৫০-এ নীচে নেমে যাবে বিজেপির বিধায়ক সংখ্যা। এবং আরও অনেকেই বিজেপি ছাড়বেন। তখন হয়তো বিরোধী দলনেতার তকমাটাও হারাবেন শুভেন্দু অধিকারী।

একুশের নির্বাচন ফুরনোর পর থেকেই ভাঙন বিজেপিতে
এবার একুশের বিধানসভা নির্বাচনে বাংলায় পরিবর্তনের স্বপ্ন নিয়ে ভোটযুদ্ধে শামিল হয়েছিল বিজেপি। বিজেপি ২০০ আসনের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে খেলতে নেমে মাত্র ৭৭-এই আউট হয়ে যায়। তৃণমূল ২১৩ আসনে জিতে ক্ষমতায় আসে ফের। কিন্তু বিজেপি এই ৭৭ জন বিধায়ককেও ধরে রাখতে পারেনি। একুশের নির্বাচন ফুরনোর পর থেকেই ভাঙন ধরে যায় বিজেপির পরিষদীয় দলে। এক এক করে ভাঙতে থাকে বিজেপি।

৭৭ থেকে কমে বিজেপি ৭০ এক বছরের মধ্যেই
একুশের নির্বাচনে জিতে তৃণমূল টানা তৃতীয়বারের জন্য ক্ষমতায় আসার পরই বিজেপি ছেড়ে দেন মুকুল রায়। তিনি পুত্র শুভ্রাংশুকে নিয়ে ফের তৃণমূলে যোগ দেন। আর তারপরই মুকুল রায়ের অনুগামী হয়ে চার বিধায়ক বিজেপি ছাড়েন। তন্ময় ঘোষ, বিশ্বজিৎ কুণ্ডু, সৌমেন রায় ও কৃষ্ণ কল্যাণী যোগ দেন তৃণমূল কংগ্রেস। আর দুই বিজেপির বিধায়ক নির্বাচিত হওয়ার পরই পদত্যাগ করেছিলেন। সেই দুই শূন্য আসনে জয়ী হয় তৃণমূল। অর্থাৎ বিজেপি কমে হয় ৭০।

তাহলে বিজেপির বিধায়ক সংখ্যা কমে দাঁড়াবে ৪৯!
সম্প্রতি বিজেপির সাংসদ অর্জুন সিংও দল ছাড়েন। তিনিও যোগ দেন তৃণমূলে। ফলে অর্দুন পুত্র পবন সিংও কার্যত বিজেপির পরিষদীয় টিম থেকে বাদ পড়েন। যদিও তিনি অফিসিয়ালি যোগ দেননি তৃণমূলে। অর্জুন সিং বলেছিলেন, বাবা যখন তৃণমূলে ফিরেছে, ছেলে কি আর অন্য কোথাও থাকতে পারে। তারপর থেকে পবন সিংকে বিজেপি তাঁদের বিধায়ক হিসেবে মান্যতা দেয় না। কোনও বৈঠকেও ডাকে না, তিনিও যান না। এর ফলে বিজেপি ৬৯ হয়েই আছে। অভিষেকের কথামতো ২০ জন তৃণমূলে যোগ দিলে বিজেপির বিধায়ক সংখ্যা কমে দাঁড়াবে ৪৯!












Click it and Unblock the Notifications