আজও হাসপাতাল ফেরায় রোগীকে! মুখ্যমন্ত্রীর দরজায় কড়া নেড়ে ১২ ঘণ্টা পর ভর্তি
রাত দেড়টা নাগাদ সটান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কালীঘাটের বাড়িতে রোগীকে নিয়ে হাজির হন পরিজনেরা। মুখ্যমন্ত্রী নিরাশ করেননি।
রাতভর হাসপাতালের দরজা দরজায় ঘুরে নিরাশ হয়ে মুমূর্ষু রোগীকে নিয়ে সটান মুখ্যমন্ত্রীর দরজায় হাজির হয়েছিলেন রোগীর পরিবার। নিরাশ করলেন না 'মা-মাটি-মানুষ'-এর মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। উত্তরবঙ্গ থেকে আসা রোগীকে রাজ্যের একমাত্র সুপার স্পেশালিটি হাসপাতাল এসএসকেএমে ভর্তির ব্যবস্থা করলেন তিনি।

১২ ঘণ্টা আগে যে হাসপাতাল দরজা দেখিয়ে দিয়েছিল রোগীর পরিবারকে, সেই হাসপাতালই সাদরে আপ্যায়ন করে ভর্তির ব্যবস্থা করল ওই রোগীর। মমতার একটা ফোনেই সমস্ত জট কেটে গেল। কিন্তু প্রশ্ন থেকেই গেল, কেন বারবার এমন হয়? কেন হাসপাতাল মুমূর্যু রোগীকেও ভর্তি নেয় না, ফেরৎ পাঠিয়ে দেয়?
গায়ের উপর গাছের গুঁড়ি পড়ে গুরুতর জখম জলপাইগুড়ির ধূপগুড়ির বাসিন্দা শাহবুল আলমকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় পরিজনরা কলকাতায় এনেছিলেন। প্রথমেই রোগীকে নিয়ে গিয়েছিলেন এসএসকেএমে। কিন্তু রাজ্যের একমাত্র সুপার স্পেশালিটি হাসপাতাল জানিয়ে দেয়, তাঁদের হাসপাতালে কোনও বেড নেই। আর ভর্তি নেওয়া যাবে না।
এরপর এনআরএস, শম্ভুনাথ পণ্ডিত ও ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় শাহবুলকে। কিন্তু কোথাও তাঁকে ভর্তি নেওয়া হয়নি। শেষপর্যন্ত রাত দেড়টা নাগাদ সটান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কালীঘাটের বাড়িতে রোগীকে নিয়ে হাজির হন পরিজনেরা। মুখ্যমন্ত্রী নিরাশ করেননি। তৎক্ষণাৎ মুখ্যমন্ত্রীর অফিসের এক ফোনে বেডের ব্যবস্থা হয়ে যায়।
বুধবার গাছের গুঁড়ি পড়ে শরীরের নিম্নাংশ অসাড় হয়ে যায়। প্রথমে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে গেলে তাঁকে রেফার করা হয় উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। সেখানেও সুবিধা না হওয়ায় কলকাতায় রেফার করা হয়। বিকেল পাঁচটা নাগাদ কলকাতায় পৌঁছেও রোগীকে ভর্তি করাতে রাত দেড়টা বেজে যায়। রাজ্যের সরকারি হাসপাতালের করুণ চিত্র ফের এদিন সামনে এসে গেল। তবে মুখ্যমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে ভোলেনি রোগীর পরিজনরা।












Click it and Unblock the Notifications