২০২০ সাল 'করোনার বছর' হিসাবেই চিহ্নিত থাকবে! ফিরে দেখা মারণ গ্রাসের সামনে মানবজাতির লড়াইয়ের কাহিনি
২০২০ সাল 'করোনার বছর' হিসাবেই চিহ্নিত থাকবে! ফিরে দেখা মারণ গ্রাসের সামনে মানবজাতির লড়াইয়ের কাহিনি
কার্যত করোনার কাছে এক অসহায় আত্মসমর্পণের ছবি ২০২০ সাল জুড়ে দেখা গিয়েছে। মূলত ২০২০ সাল চিরকালই বিশ্বে করোনার বছর হিসাবে পরিগণিত হবে। এই অভিশপ্ত বছরে করোনার জেরে যেমন একের পর এক প্রাণহানী হয়েছে, তেমনই বহু মানুষের আর্থিক কষ্ট থেকে জীবনধারণ সংকটে পড়ে যায়। একনজরে দেখা যাক ২০২০ সালের করোনার টাইমলাইন।

করোনার প্রথম খবর!
২০২০ সালের মার্চ মাসের একটি রিপোর্ট অনুযায়ী, করোনার প্রথম খবর চিনের হুবেই প্রদেশে আসে। তারিখ ছিল ১৭ নভেম্বর ২০১৯। যদিও করোনা নিয়ে চিনের উহান শহরের নামই প্রথমে শোনা যায়, তবে 'সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট' বলছে করোনার প্রথম খবর আসে হুবেই প্রভিন্স থেকে। যদিও পেশেন্ট জিরো নিয়ে এখনও জল্পনা থেকে যাচ্ছে।

ছড়াতে থাকে রোগ!
চিনের হুবেইতে ১৭ নভেম্বর এক বর্ষীয়ান দম্পতি ভর্তি হন। অদ্ভুত ধরনের এক নিউমোনিয়া নিয়ে তাঁরা ভর্তি হয়েছিলেন। চিকিৎসকরা কিছুতেই পরীক্ষা নীরিক্ষা করে পরিস্থিতি আয়ত্তে আনতে পারছিলেন না। এরপর ২০০৩ সালের সার্সের লক্ষণ কিছুটা উঠে আসতে থাকে রোগীদের শরীর থেকে।

ফোকাসে উহান ও চিনের বার্তা
এরপর উহান সেন্টার ফর ডিজিস কন্ট্রোস বিষয়টিকে হাতে নেয়। এরপর উহানেও এমনই ঘটনার কথা জানা যায়। রোগীদের নিউমোনিয়া ধরে চিকিৎসা শুরু করেও হাল ছাড়তে থাকেন একের পর এক চিকিৎসক।

ডিসেম্বরে রোগের খবর প্রকাশ্যে
২০১৯ এর শেষ দিনে চিন জানাতে বাধ্য হয় যে উহানে কয়েকটি ভাইরা নিউমোনিয়ার ঘটনা ঘটেছে। যার নেপথ্যের রহস্য ধরা যাচ্ছে না। উহানের সামুদ্রিক প্রাণী বিক্রির বাজার ফোকাসে আসে। একদিকে ততদিনে মানুষ থেকে মানুষের মধ্যে করোনা ছড়ায়। উহানের ভাইরোলজি সেন্টার বিশ্বের নজরে আসতে থাকে। ততদিনে দেশ থেকে দেশান্তরে করোনার প্রকোপের খবর ছড়াতে শুরু করে।

বিশ্বে ধুন্ধুমার পরিস্থিতি
এরপর চিনে ক্রমাগত দাবানলের মতো বাড়তে থাকে করোনার প্রভাব। সেই বার্তা যায় বিভিন্ন দেশে। একাধিক ইউরোপীয় দেশ যখন ভাবছে , এই রোগ নিয়ে তারা কোনপথে হাঁটবে, তখন থেকেই ইউরোপে ঢুকতে শুরু করে করোনা। ফেব্রুয়ারি নাগাদ, ইরান থেকে ইতালি, স্পেন ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় করোনার জেরে। এরপর করোনার ভারত প্রবেশ।

ভারতে প্রথম করোনায় মৃত্যু
মার্চের ১৪ তারিখের মধ্য়ে ভারতে পর পর ২ জনের করোনায় মৃত্যুর কথা জানা যায়। এঁদের মধ্যে একজন দক্ষিণভারতের কর্ণাটকে, অন্যজন দিল্লিতে। ভারতের প্রথম করোনায় মৃত ব্যক্তি কর্ণাটকের। তারপর থেকেই দেশে আতঙ্ক বাড়তে থাকে। প্রতিদিন একজন, দুজন করে মানুষের মৃত্যু সংবাদ আসে। ভয় ধরে গোষ্ঠী সংক্রমণের।

ভারতে লকডাউন
এরপর ২৪ মার্চ মঙ্গলবার মধ্যরাত থেকে দেশব্যাপী লকডাউনের ঘোষণা করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী মোদী। তিনি বলেছিলেন, যে প্রতিটি রাজ্য প্রতিটি জেলা এবং প্রতিটি গ্রাম আগামী ২১ দিনের জন্য লকডাউন থাকবে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী সেদিন রাত ৮টায় জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণের পরই মুদি দোকানগুলিতে লম্বা লাইন পড়ে যায়।

সবেচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত আমেরিকা, চিন-মার্কিন সংঘাত
করোনার জেরে একটা সময় প্রায় ১ লাখের কাছাকাছি মানুষ দৈনিক আক্রান্ত হন আমেরিকায়। এমন পরিস্থিতিতে তখনএ লকডাউন না ঘোষণা করে চিনের স্ঙ্গে সংঘাতের রাস্তায় হাঁটেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প।

২৮ এপ্রিল হুয়ের বড় ঘোষণা
হুয়ের কর্তা টেড্রস গ্যাব্রিয়েসস দাবি করেছেন , এখনই বিশ্ব ছেড়ে যাবে না করোনা ভাইরাস। এই ভাইরাসের দংশন শেষ হতে এখনও অনেক বছর সময় লাগবে। তিনি বলেন , 'আমাদের সামনে এখন অনেক লম্বা রাস্তা রয়েছে এই বিষয়ে কাজ করার জন্য।'

ভারতে দৈনিক ১ লাখের কাছাকাছি আক্রান্ত
প্রায় ২৮ জুন নাগাদ, ভারতে করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা দৈনিক হারে ৫০ হাজার ছাপিয়ে যায়। আতঙ্কে চলতে থাকেন মানুষ অপেক্ষা শুরু হয় ভ্যাকসিনের। এদিকে,ততদিনে ভারত বিশ্বের করোনা আক্রান্ত দেশের তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে উঠে আসে। বর্তমানে যে মোট সংখ্যাটি ৯০ লাখ পার করেছে।

করোনার জন্মদিন ও ভ্যাকসিনের প্রতীক্ষা
২০২০ সালে করোনা ভাইরাসের জন্মদিন হিসাবে ১৭ নভেম্বরকে বেছে নেও.া হয়েছে। সেদিন ই প্রথম চিনে করোনার প্রাদুর্ভার শুরু হয় বলে খবর। এরপর ডিসেম্বরের প্রথমেই ভারতের প্রধানমন্ত্রী জানান কয়েক সপ্তাহেই ভ্যাকসিন আসবে। কাদের আগে দেওয়া হবে তাও জানান দিয়ে দিয়েছে সরকার। ফলে এবার অপেক্ষা করোনা লড়াই জিতে নেওয়ার।












Click it and Unblock the Notifications