২০০ স্কোয়ার ফুটের থেকেও ছোট্ট পরিসর, হংকংয়ে জনপ্রিয় হচ্ছে কফিন হোম
২০০ স্কোয়ার ফুটের থেকেও ছোট্ট পরিসর, হংকংয়ে জনপ্রিয় হচ্ছে কফিন হোম
হংকং। অনেকের কাছেই স্বপ্নের নগরী। বড় বড় অট্টালিকা। ঝাঁ চকচকে রাস্তা। এই জৌলুসের মাঝেই লুকিয়ে রয়েছে আরেক অন্ধকার। চরম দারিদ্র। ভারতের মত দেশে খোলা আকাশের নিচে শ্বাস নিতে পারেন গরিব মানুষ। হয়তো তাঁদের অনেকের মাথার ছাদ নেই কিন্তু হংকংয়ের মত পরিস্থিতি তৈরি হয়নি। সেখানে একটি কফিনের পরিসরের মত জায়গায় দিন কাটাতে হয় অসংখ্য মানুষকে। দিন কাটাতে হয় বললে ভুল হবে সেই সংকীর্ পরিসরে দিন কাটাতে বাধ্য হন অসংখ্য মানুষ। তার এক মাত্র কারণ দারিদ্র্য। হংকংয়ে এক ফালি জায়গায়র দাম শুনলে চমকে উঠবেন সকলে।

চরম গৃহ সংকট
ঝাঁ চকচকে অত্যাধুনিক শহর হলে কী হবে হংকংয়ের মত শহরে বেঁচে থাকতে হলে বা মাথায় ছাদ রাখতে হলে প্রতিমাসে কয়েক লক্ষ টাকা খরচ করতে হয়। তার একমাত্র কারণ জনসংখ্যা। হংকংয়ের জনসংখ্যা গোটা দেশের আয়তনের থেকে অত্যধিক বেশি। প্রায় জন বিস্ফোরণ হওয়ার পরিস্থিতি হয়েছে সেখানে। বিভিন্ন দেশের, বিভিন্ন ভাষাভাষির মানুষ সেখানে বাস করেন। ভারতীয়রাও থাকেন সেখানে। হংকং- এখনও চিনের উপনিবেশের মধ্যে পড়ে। সেখানে সরাসরি বেজিং শাসন না করলেও চিনের আধিপত্য রয়েছে।

কাদের বাস হংকংয়ে
মূলক চিনা রিফিউজিরাই হংকংয়ের আদি বাসিন্দা। ব্রিিটশ শাসিত চিন থেকে পালিয়ে এসে হংকংয়ে আশ্রয় নিয়েছিল তাঁরা। তারপর থেকে হংকংয়ের বাসিন্দা হয়ে গিয়েছেন তাঁরা। চিনা রিফিউজিদের জন্য একটি শেল্টার তৈরি করে দিয়েছিল সরকার। তাতে প্রত্যেকের জন্য ১২০ স্কোয়ার ফুট জায়গা বরাদ্দ করা হয়। ৩০০ পরিবার ৬টি শৌচাগার ব্যবহার করত। কিন্তু তাই নিয়ে কেউ কখনও অভিযোগ জানায়নি। বলা ভাল কোথায় অভিযোগ জানাবেন তাঁরা সেটাই বুঝে উঠতে পারেননি। অভিযোগ জানানোর মত বা তাঁদের কথা শোনার মত কেউ ছিল না সেসময়। ব্রিটিশ শাসন থেকে বেরিয়ে চিনা শাসনের রয়েছে হংকং কিন্তু পরিস্থিতি সেই আগের মতই রয়ে গিয়েছে।

কফিন বাড়ি
হংকং সময়ের সঙ্গে সঙ্গে রকেট গতিতে এগিয়েছে ঠিকই কিন্তু একটা শ্রেণি এখনও প্রতিমূহুর্তে বাঁচার লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে। চরমবাসস্থান সংকটের মধ্যেই রয়ে গিয়েছে হংকং। বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়েত আসা ছাত্রছাত্রী থেকে শ্রমিক সকলেই মাথার ছাদ পাবার জন্য লড়াই করে চলেছেন। হংকংয়ের চিনা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে আসা এক ছাত্র জানিয়েছেন শহরের মাঝে থাকার জন্য তিনি বেছে নিয়েছেন ২০০ স্কোয়ারফুটের একটি জায়গা। সেখানেই নিজের সংসার গুছিয়ে নিয়েছেনতিনি। ছোট্ট খাট, রান্নার জায়গা থেকে শুরু করে বাথরুম সবই রয়েছে সেখানে। শুধু বন্ধবী এসে সমস্যা পড়তে হয়। এরকম ভাবেই অসংখ্য মানুষ বাস করছেন হংকংয়ের তার একমাত্র কারণ খরচ। হংকংয়ে এই ২০০ স্কোয়ার ফুটের জন্য যে টাকা ভাড়া দিতে হয় তাঁতে তা শুনলে চমকে উঠবেন যেকেউ। কফিনের আয়তনের বাড়িতে থাকেন অনেকে।

চরম জনঘনত্ব
হংকংয়ের আরেকটি বড় সমস্যা হল জনঘনত্ব। সর্বাধিক জনঘনত্ব নিয়ে তৈরি হয়েছে এক একটি এলাকা। হংকংয়ের কুনলুন হচ্ছে সর্বাধিক জনঘনত্ব পূর্ণ এলাকা। সেখানে প্রতি স্কোয়ার কিলোমিটারে ৮৯,০০০ মানুষ বাস করেন। ম্যান হ্যাটনে সেই সম পরিমান এলাকায় মাত্র ২৭,৬০০ লোক বাস করে থাকেন। কাজেই হংকংয়ের এই শহরে কফিনের পরিসরের একটি ঘর পেতে হলে দীর্ঘ লাইন দিতে হয়। অর্থাৎ চাইলেই আপনি সেখানে বাড়ি কিনতে পারবেন না। আপনার আগে হয়তো ওই একটি ঘরের জন্য ৬ বছরের বেশি সময় অপেক্ষা করতে হবে। এমনই কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে থাকতে হয় তাঁদের।

খাঁচা বাড়ি
হংকংয়ের আরেকটি জনপ্রিয় থাকার জায়গা হল খাঁচা বাড়ি। কম আয়ের বাসিন্দারা এই খাঁচা বাড়ি এবং কফিন বাড়ি কিনে থাকেন। খাঁচার মত লোহা দিতে তৈরি বাড়িতে কেনও মতে ঘুমনোর জায়গা রয়েছে। একটি ঘরের মধ্যে এক একাধিক খাচা তৈরি করে দেওয়া হয়েছে। তাতেই বাস করেন মানুষ। মাত্র ১০০ স্কোয়ারফুট জায়গার মধ্যেই ঠাসাঠাসি করে থাকতে হয় তাঁদের।
প্রতীকী ছবি












Click it and Unblock the Notifications