পুলওয়ামা হামলার পিছনে ছিল পাকিস্তানই, মুখ ফসকে সত্যি বলে ফেললেন পাক বায়ুসেনা আধিকারিক, দেখুন ভিডিও

দীর্ঘদিন ধরে অস্বীকার করার পর, পাকিস্তানের সেনাবাহিনী অবশেষে ২০১৯ সালের পুলওয়ামা জঙ্গি হামলায় তাদের ভূমিকা স্বীকার করেই ফেলল। যার ফলে জম্মু ও কাশ্মীরে যে ৪০ জন সিআরপিএফ জওয়ান শহিদ হন, তা যে পাকিস্তানের কাজ তা এবার সরাসরি প্রমাণিত হয়ে গেল। পাকিস্তান বিমান বাহিনীর এয়ার ভাইস মার্শাল ঔরঙ্গজেব আহমেদ মুখ ফসকে এদিন তা স্বীকার করে ফেলেছেন। তিনি এক সংবাদ সম্মেলনে ওই আক্রমণকে "কৌশলগত প্রতিভার প্রদর্শন" হিসাবে প্রশংসা করেন। এই স্বীকারোক্তি কেবল পুলওয়ামা ঘটনার পিছনের সত্যকেই শুধু উন্মোচিত করল না, বরং ২২ এপ্রিল পহেলগাঁওয়ে ঘটে যাওয়া হামলা সহ অন্যান্য হামলায় পাকিস্তান যে দোষী তাও ফের প্রমাণ করে দিল।

লেফটেন্যান্ট জেনারেল আহমেদ শরীফ চৌধুরীসহ গুরুত্বপূর্ণ সেনা ব্যক্তিত্বদের উপস্থিতিতে ঔরঙ্গজেব আহমেদের এই স্বীকৃতি পাকিস্তানের জঙ্গি কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার বিষয়ে প্রত্যক্ষ প্রমাণ। সংবাদ সম্মেলনে আহমেদের বক্তব্যের সময় সেখানে নৌবাহিনীর মুখপাত্র এবং আইএসপিআরের মহাপরিচালক লেফটেন্যান্ট জেনারেল চৌধুরীসহ উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

পুলওয়ামা হামলায় জড়িত থাকার কথা পাকিস্তানের ব্যাপক আন্তর্জাতিক তদন্ত এবং চাপের মুখোমুখি হয়েও ক্রমাগত অস্বীকার করেছে। জৈশ-ই-মহম্মদ (জেইএম) জঙ্গিগোষ্ঠীর একজন আত্মঘাতী বোমা হামলাকারীর দ্বারা পরিচালিত এই হামলায় সিআরপিএফ কনভয় লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছিল। যার ফলে উল্লেখযোগ্য হতাহতের ঘটনা ঘটে। ভারত জৈশ-ই-মহম্মদের সাথে বোমা হামলাকারীর যোগসূত্রের প্রমাণ উপস্থাপন করার পরে এবং অপারেশন সিঁদুরের সময় ভারতের প্রতিশোধমূলক বিমান হামলায় বাহওয়ালপুরে জৈশ-ই-মহম্মদের সদর দপ্তর ধ্বংস করার পরেও পাকিস্তান সবকিছু অস্বীকার করেছিল। এই অভিযানে বালাকোটে জৈশ-ই-মহম্মদের একটি প্রশিক্ষণ শিবিরও লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছিল। যার ফলে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধি পায় এবং বিমান সংঘর্ষের ফলে ভারতীয় বিমান বাহিনীর পাইলট উইং কমান্ডার অভিনন্দন বর্তমানকে আটক এবং পরে মুক্তি দেওয়া হয়।

পুলওয়ামা হামলার পর পাকিস্তানের সামরিক তৎপরতা বৃদ্ধি পায়। যার মধ্যে রয়েছে ড্রোন হামলা এবং ভারতীয় ভূখণ্ডে প্রজেক্টাইল গুলিবর্ষণ। যার ফলে ভারত প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপ নেয়। এই ঘটনাগুলি দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা এবং সংঘাতের ক্রমবর্ধমান চক্রকে তুলে ধরে। ঔরঙ্গজেব আহমেদের স্বীকারোক্তি এখন পাকিস্তানের পূর্ববর্তী দাবির উপর দীর্ঘ ছায়া ফেলে দিল এবং ভারতের অবস্থানকে মজবুত করল।

পাকিস্তানের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান পুলওয়ামা হামলার নিন্দা করেছিলেন। কিন্তু তিনি দৃঢ়ভাবে বলেছিলেন যে, পাকিস্তানি সেনাবাহিনী এতে জড়িত ছিল না। জৈশ-ই-মহম্মদের হামলার কথা প্রকাশ্যে স্বীকার করা এবং বোমা হামলাকারীকে এই গোষ্ঠীর সাথে যুক্ত করার জন্য উপস্থাপিত নথিপত্র সত্ত্বেও, ইসলামাবাদ ভারতের কাছ থেকে প্রমাণ দাবি করেছিল। দীর্ঘদিন ধরে এই অস্বীকৃতি বিতর্কের বিষয় হয়ে দাঁড়ায়।

"যদি পাকিস্তানের আকাশসীমা, স্থল, জলসীমা, অথবা তার জনগণ হুমকির সম্মুখীন হয়, তাহলে কোনও আপস করা যাবে না। আমরা আমাদের জাতির কাছে ঋণী।" পুলওয়ামায় হামলাকেও কৌশলগত অনবদ্য প্রয়াস মধ্যে দিয়ে স্পষ্ট যে পাকিস্তান কত বড় মিথ্যাচার এতদিন ধরে করে এসেছে।

পাকিস্তানের এই স্বীকারোক্তির কৌশলগত প্রভাব আঞ্চলিক গতিশীলতার বাইরেও বিস্তৃত, যা বিশ্বব্যাপী সন্ত্রাসবাদবিরোধী প্রচেষ্টা এবং কূটনৈতিক সম্পর্কের উপর প্রভাব ফেলবে। এই স্বীকারোক্তির সময় উচ্চপদস্থ সামরিক কর্মকর্তাদের উপস্থিতি, যার মধ্যে সুলতান বশিরউদ্দিন মহমুদের মতো বিতর্কিত ব্যক্তিত্বের যোগসূত্রও রয়েছে। যা পাকিস্তানের অবস্থানকে আরও জটিল করে তোলে। এই বিবৃতির মাধ্যমে স্বীকৃতি পুলওয়ামা হামলার পিছনের সত্য উন্মোচনের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলস্টোন হয়ে থাকল।

Notifications
Settings
Clear Notifications
Notifications
Use the toggle to switch on notifications
  • Block for 8 hours
  • Block for 12 hours
  • Block for 24 hours
  • Don't block
Gender
Select your Gender
  • Male
  • Female
  • Others
Age
Select your Age Range
  • Under 18
  • 18 to 25
  • 26 to 35
  • 36 to 45
  • 45 to 55
  • 55+