হাজির নতুন নয়া স্ট্রেন, ভ্যারিয়েন্টে বিদেশে ছড়াচ্ছে আতঙ্ক
চলে এল নতুন ভ্যারিয়েন্ট। ওমিক্রন তো সারা বিশ্বকে ত্রস্ত করে রেখেছে। এর মধ্যেই জানা যাচ্ছে এসে গিয়েছে আবারও একটা নতুন ভ্যারিয়েন্ট। নাম স্টেলথ ভ্যারিয়েন্ট।

আবিষ্কার হল করোনাভাইরাসের স্ট্রেন ওমিক্রনের নয়া সাব-স্ট্রেন। ২০২১ সালের ডিসেম্বরে মাসেই এই নয়া সাব-স্ট্রেনের আবিস্কার করেন বিজ্ঞানীরা। এই সাব-স্ট্রেনের খোঁজ মিলতেই নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়েছে। এখন ব্রিটিশ স্বাস্থ্য আধিকারিকরা জানিয়েছেন যে নয়া বিএ.২ ভ্যারিয়েন্টটি নিয়ে গবেষণা চালু করেছেন। এই বিএ.২ ভ্যারিয়েন্টে মোট ৫৩ জন আক্রান্ত হয়েছেন। এমনটাই বলছেন ব্রিটেনের বিজ্ঞানীরা। হু এর বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, এই ওমিক্রনের তিনটি সাব-স্ট্রেন রয়েছে। এখনও পর্যন্ত গোটা বিশ্বে যত ওমিক্রন কেসের সিকোয়েন্সিং হয়েছে, তার মধ্যে থেকে দেখা গিয়েছে যে ৯৯ শতাংশই বিএ.১ সাব-স্ট্রেন। হু বলেছে বি.১.১.৫২৯ সম্পর্কে আরও গবেষণা চলছে। এই সম্পর্কে সবকিছু জানা যায়নি। এমনটাই বলছেন বিজ্ঞানীরা।
ডেনমার্ক, নরওয়ে এবং সুইডেনে মিলেছে বি.২ সাব-স্ট্রেন। ডেনমার্কের মোট ওমিক্রন আক্রান্তদের ২০ শতাংশ রোগী বি.২ আক্রান্ত। গত কয়েক এটি ৪৫ শতাংশ হয়ে গিয়েছে। সেখানে এক সপ্তাহে আক্রান্ত হয়েছেন ৩০ হাজার মানুষ। করোনা ঢেউতে এত সংক্রমণ আগের কোনও ঢেউতেই হয়নি। তাই ইউরোপের অন্যান্য দেশেও আতঙ্ক বাড়ছে নয়া এই সাব-স্ট্রেন নিয়ে। বিএ.২ দ্রুত ছড়ায়। তাই এই সম্পর্কে সতর্ক করেছেন ফ্রান্স এবং ভারতের বিজ্ঞানীরাও। তাঁরা বলছেন, এটি অন্য সাব-ভ্যারিয়েন্টকে ছাপিয়ে যেতে পারে।
এদিকে ওমিক্রন করোনার অন্য ভ্যারিয়েন্টের তুলনায় কম বিপদে ফেলছে। দেখা গিয়েছে সমস্ত দেশেই যারা এতে আক্রান্ত হচ্ছেন তাঁদের উপসর্গ থাকছে মৃদু। তবে নয়া গবেষণা আবার একটু অন্য কথা বলছে। বলা হচ্ছে শিশুদের ওমিক্রনের সমস্যা বেশি হতে পারে। অথচ দেখা গিয়েছে যারা বয়স্ক তাদের এই ওমিক্রন বেশি আক্রমন করছে। গবেষণা এও বলছে কিছু না হোক ডেল্টার থেকে ওমিক্রনে ছোটরা বেশি আক্রান্ত হচ্ছে। শিশুদের জন্য এটা বেশি সমস্যা বলে দাবি করছে গবেষণা। চিকিৎসকরা বলছেন এতে বাচ্চাদের শরীরে বেশি উপসর্গ দেখা যাচ্ছে। একটি পরিসংখ্যানের ভিত্তিতে এই কথা বলা হচ্ছে। শিশুরোগ বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, 'ওমিক্রনের উৎস্থল দক্ষিণ আফ্রিকা। সেখানকার পরিসংখ্যান বলছে, ৫ বছরের কমবয়সি শিশুদের উপর ওমিক্রন বেশি প্রভাব ফেলছিল। বিশেষ করে যে সব শিশু জটিল রোগাক্রান্ত অথবা যাদের ইমিউমিটি কম ওমিক্রন তাদের উপর বেশি প্রভাব ফেলছে। সেটা পূর্বের ভ্যারিয়েন্টে হয়নি।'
শিশুরোগ বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, ' ৫ বছরের কমবয়সি শিশুদের সমস্যা বেশি। তাদের সাবধানে রাখতে হবে। আমাদের দেশে অনেক জায়গাতেই অনেক শিশুর ইমিউমিটি কম। তাদের সমস্যা বেশি হতে পারে। তাই বাবা মাকে সতর্ক হতে হবে। সবার আগে বাবা মাকে ভ্যাকসিন নিতে হবে। এখন বাইরের কাউকে বাড়িতে না ডাকাই ভালো। ডাকলেও বেশি ভিড় যেন না হয়। এই বিষয়গুলি নজরে রাখতে হবে'।












Click it and Unblock the Notifications