আড়াই বছর এবং ৪৫টি প্রচেষ্টার পরে লেবানন পেল নতুন রাষ্ট্রপতি
লেবাননের সাংসদরা অবশেষে সেদেশের রাষ্ট্রপতি হিসেবে নির্বাচিত করলেন প্রাক্তন সেনানায়ক এবং প্রধানমন্ত্রী মিচেল আউনকে; ক্ষমতায় এসেই দেশকে সিরিয়ার আগুন থেকে রক্ষা করার প্রতিশ্রুতি দিলেন তিনি।
বেইরুট, ১ নভেম্বর : প্রায় আড়াই বছর ধরে লেবাননের রাষ্ট্রপতির পদটি ফাঁকা পড়ে থাকার পরে অবশেষে সেদেশের সংসদ একাশি বছর বয়সী মিচেল আউনকে সেই পদে নির্বাচিত করল।
লেবাননের প্রাক্তন সেনানায়ক, রাষ্ট্রপতি এবং প্রধানমন্ত্রী আউন ক্ষমতায় এসে প্রতিশ্রুতি দেন তাঁর দেশকে আঞ্চলিক আগুন থেকে রক্ষা করতে। "আঞ্চলিক আগুন" বলতে আউন যে প্রতিবেশী দেশ সিরিয়াতে চলতে থাকা রক্তক্ষয়ী গৃহযুদ্ধের কথা বলতে চেয়েছেন তা বুঝতে ভুল হয় না।

ফ্রি পেট্রিয়টিক মুভমেন্ট-এর নেতা আউন সিরিয়া-বিরোধী হিসেবেই পরিচিত।
অবশ্য আউনের এই রাষ্ট্রপতির গদিতে আরোহন খুব সহজে হয়নি। শিয়া ইসলামিক গোষ্ঠী হেজবোল্লাহ তাঁকে সমর্থন জানালেও আউনের প্রার্থীত্বের বিরোধিতা করে সুন্নি 'ফিউচার মুভমেন্ট'। শেষ পর্যন্ত একটি রফায় পৌঁছতে সফল হয় লেবাননের রাজনৈতিক মহল। আউনের রাষ্ট্রপতি হওয়ার পাশাপাশি ফিউচার মুভমেন্টের নেতা সাদ হারিরির লেবাননের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হওয়ার কথা শোনা যাচ্ছে।
আউনের নির্বাচনের আগে লেবাননের সাংসদরা ৪৫বার চেষ্টা করেছিলেন দেশের একজন রাষ্ট্রপতি খুঁজে বের করার কিনতু প্রতিবারই ব্যর্থ হয়। আর অতি গুরুত্বপূর্ণ একটি রাজনৈতিক পদ খালি পড়ে থাকার কারণে লেবাননের সরকারে দেখা দেয় অচলাবস্থা।
প্রতিবেশী সিরিয়ার গৃহযুদ্ধ এবং সেখান থেকে শয়ে শয়ে শরণার্থীদের আগমন লেবাননের প্রশাসনকে শক্ত চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলে। অবশেষে তাঁদের ৪৬তম প্রচেষ্টায় সফল হন সাংসদরা। ১২৮ আসন বিশিষ্ট কক্ষে ৮৩টি ভোট পেয়ে রাষ্ট্রপতি হন আউন।
লেবাননের জটিল নিয়ম মোতাবেক সেদেশের রাষ্ট্রপতিকে হতে হবে মারোনাইট, যাঁরা সেখানকার সবচেয়ে বড় খ্রিশ্চান সম্প্রদায়। এর আগে লেবাননের রাষ্ট্রপতি ছিলেন মিচেল সুলেমান যিনি ২০১৪ সালের মে মাসে মেয়াদ শেষ হওয়ার পরেই সরে দাঁড়ান। আর সেই থেকে পদটি খালি পরে রয়েছে। মাঝের আড়াই বছর রাষ্ট্রপতির সাময়িক দায়িত্ব সামলেছেন পশ্চিম এশিয়ার এই ছোট্ট দেশটির প্রধানমন্ত্রী তামাম সালাম।
১৯৮৮ থেকে ১৯৯০ সাল পর্যন্ত আউন লেবাননের রাষ্ট্রপতিত্ব এবং প্রধানমন্ত্রীত্বের কার্যভার সামলালেও তা ছিল বিতর্কিত। লেবাননে উপস্থিত সিরীয় বাহিনী তাঁকে দেশছাড়া করে এবং তিনি ফ্রান্সে আশ্রয় নেন। পরে আন্তর্জাতিক মহলের চাপেই সিরীয় বাহিনী চলে গেলে আউন দেশে ফেরেন।












Click it and Unblock the Notifications