বিদায় বেলায় ট্রাম্প প্রশাসনের খোঁচা চিনকে, বেজিংকে খেপিয়ে ওয়াশিংটনের নয়া পদক্ষেপ
বিদায় বেলায় চিনকে খেপিয়ে তুলতে উদ্যত হল মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেতৃত্বাধীন প্রশাসন। এদিন জিনজিয়াং প্রদেশের বিচ্ছনতাবাদী ইস্ট তুর্ক ইসলামিক মুভমেন্ট সংগঠনের উপর থেকে 'জঙ্গি' তকমা হটিয়ে দিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। এদিকে বেজিংয়ের এহেন পদক্ষেপের কড়া সমালোচনা করে বিবৃতি জারি করেছে চিন।

পম্পেওর ঘোষণা
২০ অক্টোবর মার্কিন সেক্রেটারি অফ স্টেট মাইক পম্পেও একটি অধ্যাদেশে সই করার মাধ্যমে জিনজিয়াং প্রদেশের বিচ্ছনতাবাদী ইস্ট তুর্ক ইসলামিক মুভমেন্ট সংগঠনের উপর থেকে 'জঙ্গি' তকমা সরিয়ে দেন। যদিও এই সংক্রান্ত ঘোষণা করা হয় বৃহস্পতিবার। এরপরই চিনের তরফে এই বিষয়ে কড়া প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করা হয়।

ইস্ট তুর্ক ইসলামিক মুভমেন্টের গঠন
ইস্ট তুর্ক ইসলামিক মুভমেন্ট সংগঠনটি ২০০৩ সালে হাসান মাশুম নামক এক উইঘুর মুসলিম গঠন করেছিল। পরে তাকে পাকিস্তানি সেনা গুলি করে মারে। একসময় এই বিচ্ছিনতাবাদী সংগঠনের সঙ্গে আল কায়েদা যোগ থাকার অভিযোগ উঠেছিল। এহেন সংগঠনের গা থেকে যে জঙ্গি তকমা হটানো শুধুমাত্র চিনকে খেপিয়ে তোলার প্রচেষ্টা, তা বলাই বাহুল্য।

উইঘুররা নিজেদের স্বাধীনতা ঘোষণার পর চিনা জুলুম
বিংশ শতাব্দির শুরুর দিকে উইঘুররা নিজেদের স্বাধীনতা ঘোষণা করে। ১৯৪৯ সালে চিনের সমাজতান্ত্রিক বিপ্লবের কিছুদিন পর চিনের কমিউনিস্ট সরকার উইঘুরদের বৃহত্তর চিনের সাথে যোগ দেয়ার প্রস্তাব জানায়। প্রস্তাব মেনে না নেয়ার পর থেকে শুরু হয় উইঘুর মুসলিমদের উপর নির্যাতন। তাদের ধর্মীয় শিক্ষা নিষিদ্ধ করা হয়। ধর্মীয় প্রার্থনালয় ভেঙে দেওয়া হয়।

চিনা অত্যাচার
উইঘুরদের সংখ্যা নিয়ন্ত্রণের এক মূল মন্ত্র হল তাদের জন্ম নিয়ন্ত্রণ করা। আর এই বিষয়ে চিনে সরকার বেশ কঠোর। দুইয়ের বেশি সন্তান থাকলে গরিব উইঘুরদের থেকে বড় পরিমাণে জরিমনা নেওয়া হয়। এর জেরে ১৯৪৯ সালে জিনজিয়াং এ যেখানে উইঘুর মুসলিমদের সংখ্যা ছিল ৯৫ শতাংশ, ১৯৮০ সালের মধ্যেই তা ৫৫ শতাংশে নেমে আসে। এছাড়া ২০১৮ সালের আগস্ট মাস পর্যন্ত প্রায় ১০ লক্ষ উইঘুরকে চিনের 'সন্ত্রাসবাদ' কেন্দ্রগুলিতে আটক রাখা হয়েছে।












Click it and Unblock the Notifications