কোভিড মহামারির জন্য মানসিক রোগীদের চিকিৎসায় ক্ষতি, হু–এর সমীক্ষায় বাড়ছে উদ্বেগ
কোভিড মহামারির জন্য মানসিক রোগীদের চিকিৎসায় ক্ষতি
করোনা ভাইরাস মহামারির জন্য বিশ্বের ৯৩ শতাংশ দেশে জরুরি মানসিক স্বাস্থ্য পরিষেবা ব্যাহত হচ্ছে, যেখানে এই পরিষেবার চাহিদা দিন দিন বাড়ছে বলে মনে করছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (হু)। এ সংক্রান্ত এক সমীক্ষা করে তার রিপোর্ট তারা সোমবার প্রকাশ করেছে। জুন থেকে অগাস্ট মাসের মধ্যে ১৩০টি দেশে এই সমীক্ষা করা হয়।

৩৫ শতাংশ পরিষেবায় বিঘ্ন
জরুরি হস্তক্ষেপের এক তৃতীয়াংশ (৩৫ শতাংশ) পরিষেবায় বিঘ্ন ঘটেছে বলে জানা গিয়েছে। যার মধ্যে দীর্ঘকালিন মানসিক অসুস্থতা, প্রলাপ বকা, প্রায়ই গুরুতর অন্তর্নিহিত অসুস্থতার লক্ষণ উল্লেখযোগ্য। এছাড়াও মানসিক অসুস্থতা, স্নায়ুবিদ এবং অন্য মানসিক অসুখের ওষুধ পেতে সমস্যা হয়েছে ৩০ শতাংশ ক্ষেত্রে। জরুরি চিকিৎসা ব্যবস্থা ছাড়াও গুরুতর মানসিক স্বাস্থ্য পরিষেবার চিকিৎসা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

বিভিন্ন স্বাস্থ্য পরিষেবা ব্যহত
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে প্রায় ৬০ শতাংশ মানুষই মহামারির কারণে মানসিক স্বাস্থ্য পরিষেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। যাদের মধ্যে ৭২ শতাংশ শিশু ও কিশোর-কিশোরী এবং ৭০ শতাংশ বয়স্ক মানুষ রয়েছেন। এছাড়াও মহিলাদের প্রসব সংক্রান্ত পরিষেবা ৬১ শতাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কাউন্সেলিং ও সাইকো থেরাপি পরিষেবা ব্যাহত হয়েছে ৬৭ শতাংশ ক্ষেত্রে। ৬৫ শতাংশের বেশি পরিষেবা হ্রাস পাওয়ার কারণে গুরুতর ক্ষতির রিপোর্ট সমীক্ষায় উঠে এসেছে। বহিরাগত চিকিৎসা বাধা পেয়েছে ৪৫ শতাংশ ক্ষেত্রে।

স্কুল ও কর্মক্ষেত্রে প্রভাব
এমনকী স্কুল-কর্মক্ষেত্রের মানসিক স্বাস্থ্য পরিষেবার ওপরও প্রভাব পড়েছে। হু-এর মতে মহামারির সময় প্রায় তিন চতুর্থাংশ স্কুল ও কর্মক্ষেত্রের মানসিক স্বাস্থ্য সেবার কাজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে আংশিকভাবে। দিল্লি এইমসের মনোবিদের অধ্যাপক রাজেশ সাগর এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘মহামারির প্রাথমিক দিকের বেশ কিছু সপ্তাহ খুবই বাজে গিয়েছে যখন নিয়মিত বর্হিবাভাগ রোগীদের জন্য বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল এবং চিকিৎসকের খোঁজ পাওয়া মানুষের কাছে কঠিনতর বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছিল। আগের মতো স্বতঃস্ফূর্তভাবে ওষুধও পাচ্ছিল না মানুষ। এই সমস্যা আরও তীব্রভাবে প্রভাব পড়েছিল যাঁরা শহরে থাকেন তা, কারণ যানবাহনও বন্ধ ছিল। বয়স্ক ও শিশুদের মধ্যে ইএ সমস্যা আরও ভয়াবহভাবে দেখা দেয়। যদিও আমরা অনলাইনে টিকিৎসা পরিষেবা খুলেছিলাম কিন্তু অনেকেই এই বিষয়ে অবগত ছিলেন না। তাই বলা যেতেই পারে রোগীদের জন্য এই মহামারি খুবই বাজে পরিস্থিতি দেখিয়েছে, বিশেষ করে যাঁরা মানসিকভাবে অসুস্থ। কিন্তু এখন পরিস্থিতি অনেক স্বাভাবিক।' বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার হিসেব অনুযায়ী উচ্চ আয়ের দেশগুলি ৮০ শতাংশ ক্ষেত্রে আর মধ্য আয়ের দেশগুলি ৫০ শতাংশ ক্ষেত্রে টেলি থেরাপি মোতায়েন করেছে।

মহামারির আগে ২ শতাংশের কম খরচ হত মানসিক স্বাস্থ্যে
এই সমীক্ষাটি মানসিক স্বাস্থ্য পরিষেবা উপলব্ধের মহামারির সর্বনাশা প্রভাব প্রদর্শন করে এমন তথ্য এই প্রথমবার সরবরাহ করেছে এবং এ ক্ষেত্রে তহবিল বৃদ্ধির ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। মহামারির আগে এই সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে যে দেশগুলি জাতীয় স্বাস্থ্য বাজেটে মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর ২ শতাংশের কম খরচ করত। কিন্তু এই মহামারি এই চাহিদাকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে। শোক, বিচ্ছিন্নতা, উপার্জন হ্রাস এবং ভয়-আতঙ্ক মানসিক স্বাস্থ্য পরিস্থিতিকে আরও উদ্দীপ্ত করেছে বা বিদ্যমান পরিস্থিতি আরও বাড়িয়ে তুলেছে। যার জন্য অনেকের মধ্যে মদ ও মাদকের নেশা, অনিদ্রা ও উদ্বেগ বেড়ে গিয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থ্যা করোনাভাইরাসের সংক্রমণের মধ্যেই জরুরি পরিষেবা চালু করার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দেশগুলিকে নির্দেশ দিয়েছে।












Click it and Unblock the Notifications