গালওয়ানের ঘটনার পর প্রথম চিনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই-র ভারত সফরে এলেন
গালওয়ানের ঘটনার পর প্রথম চিনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই-র ভারত সফরে এলেন
স্বাধীনতা লাভের পর থেকেই দেশের অন্যতম মাথাব্যথা চিন। কখনও পাকিস্তানের সঙ্গে হাত মিলিয়ে কাশ্মীর সমস্যা উস্কে দেওয়া, কখনও আবার সরাসরি ভারতের সঙ্গে সীমান্ত বিবাদ। বরাবর নয়াদিল্লিকে চাপে রেখেছে চিন। দু'বছর আগে লাদাখের গলওয়ান উপত্যকার রক্তাক্ত স্মৃতিও বেশ তাজা। এমতাবস্থায় ভারত-চিন সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করতে এদেশে সফরে এলেন চিনের বিদেশমন্ত্রী ওয়াং উই। শুক্রবার তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ করলেন ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শংকর।

দু'বছর আগে গালওয়ান সীমান্ত বিবাদ নিয়ে হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়েছিল ভারতীয়, চীনা সেনা। সেই হাতাহাতিতে রক্তপাতের পাশাপাশি শহিদ হয়েছিলেন দুই দেশেরই সেনা আধিকারিকরা। তারপর থেকে সীমান্ত বিবাদ সংঘর্ষে পরিণত না হলেও পরিস্থিতি উত্তপ্ত থেকেছে। বারংবার কূটনৈতিক সমাধান সূত্র খুঁজেছে দুই দেশ৷ এবার ফের একইভাবে মৈত্রীর পথ প্রশস্ত করতে চাইছে নয়াদিল্লি-বেজিং। সেই উদ্দেশ্যেই ২০১৯ এর পর এই প্রথমবার ভারতে এলেন চিনা বিদেশমন্ত্রী। হায়দরাবাদে জয়শংকরের সঙ্গে দেখা করেন তিনি।
আপাতদৃষ্টিতে দেখতে গেলে গলওয়ানের পর আর কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি ভারত-চীন সীমান্তে। তবে খতিয়ে দেখলে বোঝা যাবে, সেই ঘটনার পর থেকেই দুই দেশ তাদের সামরিক পেশিপ্রদর্শন করেছে সীমান্তে। দুই দেশই অস্ত্রসস্ত্র সাজিয়েছে পুরোদমে। একাধিকবার সেনা আধিকারিকরা বৈঠকে বসলেও বিবাদ দূর হয়নি। অন্যদিকে আত্মনির্ভর ভারতের ডাক দিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী৷ সেই ডাকে সাড়া দিয়ে ২০২০ থেকেই চিনা দ্রব্য বয়কট করছে ভারত। এর মাঝে বহু চিনা অ্যাপ ব্যান করেছে ভারত সরকারও। সবমিলিয়ে দুই দেশের সম্পর্ক খুব একটা ভাল অবস্থায় নেই। আর এই কারনেই গুরুত্ব বাড়ে ওয়াংয়ের ভারত সফরের।
বিশেষজ্ঞদের ধারনা, এই সফরের ফলে আরও কাছাকাছি আসবে দু'টি দেশ। সীমান্ত বিবাদ তো বটেই, বাণিজ্য তথা অন্যান্য বিষয়েও যে অবস্থান রয়েছে দুই দেশের৷ তা স্পষ্ট হবে একে অপরের কাছে। এভাবেই একাধিক সমস্যার সমাধানও করতে পারবে দু'টি দেশ।












Click it and Unblock the Notifications