তাইওয়ানের আকাশ সীমায় ফের চিনা যুদ্ধবিমান! শেষ ৪ দিনে ৩ বার একই ঘটনার পুনারবৃত্তিতে চাঞ্চল্য
সোমবার ফের একবার চিনের বিরুদ্ধে অবৈধ অনুপ্রবেশের অভিযোগ সরব হল তাইওয়ান। এর আগেও তাইওয়ানের আকাশ সীমায় অবৈধভাবে লালফৌজের যুদ্ধবিমান উড়ে গিয়েছে। তবে চিনের ন্যাশনাল ডে-র দিন আগ্রাসী বেজিংয়-এর এই কীর্তি ঘিরে রীতিমতো আলোচনা শুরু হয়েছে দক্ষিণ এশিয়ার বুকে। এই নিয়ে গত ৪ দিনে তিনবার তাইওয়ানের আকাশ সীমায় চিনা যুদ্ধবিমান প্রবেশ করল।

তাইওয়ানের তরফে কী জানানো হয়েছে?
এদিকে তাইওয়ানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রক জানিয়েছে , পরামণু ক্ষমতা সম্পন্ন ৩৪ টি জে ১৬ বিমান ও এইচ সিক্স বম্বার বিমান চিনের দিক থেকে তাইওয়ানের দিকে ধেয়ে যেতেই তা রেজিও সিগন্যালিং-এর মাধ্যমে ধরা পড়েছে। চিনের দিক থেকে এমন বিমান আসার ঘটনার তীব্র নিন্দা করে কার্যত তাইওয়ান নিজের অবস্থান জানান দিয়েছে চিনা আগ্রাসনের বিরুদ্ধে। উল্লেখ্য, গত কয়েক মাসে চিনের সঙ্গে তাইওয়ানের দূরত্ব যতটা বেড়েছে, ততটাই আমেরিকার সঙ্গে তাইওয়ানের সম্পর্ত মজবুত হয়েছে। এদিকে, চিনের সঙ্গে আমেরিকার সংঘাত ট্রাম্প আমলে জোরালে হতেই তাইওয়ান-মার্কিন ঘনিষ্ঠতা নিয়েও লালফৌজের চোখ রাঙানি দেখা যায়।

আগ্রাসন ও চিন
তাইওয়ানের তরফে জানানো হয়েছে, অবৈধভাবে চিনের যুদ্ধবিমান তাইওয়ানের আকাশসীমায় প্রবেশ করার ঘটনা একেবারেই আগ্রাসনের নামান্তর। চিনা আগ্রাসনের এই রূপকে তাইওয়ান ' লালফৌজের সেনা আগ্রাসন' বলে চিহ্নিত করেছে। এই ঘটনার জেরে যে দক্ষিণ এশিয়ার বুকে আঞ্চলিক স্তরের শান্তি বিঘ্নিত হবে,তা জানাতে ভোলেনি তাইওয়ান। কোনও মতেই তারা লালফৌজের এই আগ্রাসনকে মেনে নিচ্ছে না বলে জানিয়েছে।

তাইওয়ান কূটনীতি ও চিন
তাইওয়ানের ওপর দাপট বজায় রাখতে বারবারই উদ্যোগ নিয়েছে চিন। তাইওয়ান ইস্যুতে বারবার ভিন দেশের সঙ্গে কূটনৈতিক সংঘাতেও বেজিংকে জড়াতে দেখা গিয়েছে। গত জুন মাসেই চিনের ২৮ টি যুদ্ধবিমান চিনের আকাশ সীমায় পর পর ওড়ানো হয়েছে। যে ঘটনা নজর কাড়ে দক্ষিণ এশিয়ার। এরপর ফের একবার সেই একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি দেখা গেল দক্ষিণ এশিয়ার বুকে। এই বিমানগুলির মধ্যে চিনের বোমারু বিমানও ছিল বলে জানা গিয়েছে। সেই জায়গা থেকে তাইওয়ান সিপিটিপিপিতে আবেদন করায় পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে থাকে।

চিনা আগ্রাসন ও ন্যাটো
এদিতে, ন্যাটোর তরফে জানানো হয়েছে, চিন ক্রমাগত নিজের পারমানবিক শক্তির বিকাশ ঘটিয়ে আগ্রাসনের মেজাজ তুঙ্গে রাখছে। শুধু যে ভারতের লাদাখেই চিনা আগ্রাসন মাত্রাতিরিক্ত পর্যায়ে চলে গিয়েছে তা নয়। চিন সাগরকে কেন্দ্র করে বাকি দ্বীপপুঞ্জগুলির দখল নিয়েও একই রকমের দাপুটে পদক্ষেপে চিন কার্যত প্রবল রক্তচক্ষু দেখাতে শুরু করেছে দক্ষিণ এশিয়ায়। এমনই মত বিশেষজ্ঞদের। তাইওয়ান নিজেকে স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্র বলে দাবি করলেও, তাকে নিজের দখলে বলেই দাবি করে বেজিং। আর সেই দাবিকে কায়েম থাকতে, নয়া স্ট্র্যাটেজিতে শান দিচ্ছে চিন।












Click it and Unblock the Notifications