লাদাখ সীমান্তে নিশ্বাস ফেলছে ৫২ হাজার চিনা সেনা! শান্তির বার্তা দিয়েও প্যাংগংকে ঘিরে ১০ হাজার পিএলএ
শান্তির বার্তা দিলেও নিজেদের আসল রঙ দেখিয়ে প্যাংগং এলাকায় আরও সেনা মোতায়েন করল চিন। সম্প্রতি ভারতীয় সেনার এক রিপোর্ট থেকে জানা যাচ্ছে যে দক্ষিণ প্যাংগংয়ে নতুন করে ১০ হাজার সেনা মোতায়েন করেছে চিন। সেখানে আগের থেকেই ৬০০০ সেনা মজুত ছিল। এর জেরে লাদাখ সীমান্ত বরাবর চিনের সেনা বেড়ে দাঁড়াল ৫২ হাজারে।

নতুন করে উত্তেজনার পারদ চড়ে লাদাখে
অগাস্টের শেষ লগ্ন থেকে নতুন করে উত্তেজনার পারদ চড়ে লাদাখের প্যাংগং সো এলাকায়। সেখানে চিনা অনুপ্রবেশের ধারাবাহিক প্রচেষ্টা ভোঁতা করে দেয় ভারতীয় সেনা। পাল্টা প্যাংগং সংলগ্ন বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ চূড়া চলে আসে ভারতীয় সেনার অধীনে। আর এরপর থেকেই সেই চূড়াগুলো দখল করার জন্যে উঠে পড়ে লেগেছে চিনের সেনা।

কী কারণে মরিয়া চিন?
প্রসঙ্গত, ভারতীয় সেনার অধীনে প্যাংগংয়ের এই চূড়াগুলি হওয়ার কারণে চিনা গতিবিধি স্পষ্ট ধরা পড়ছে ভারতের চোখে। আর তাই তাদের লুকিয়ে লুকিয়ে অনুপ্রবেশের চেষ্টা বারবার বিফল করতে সক্ষম হয়েছে ভারত। পরিস্থিতি এতই গম্ভীর ছিল যে ৪৫ বছর পর লাদাখে সীমান্ত বরাবর গুলি চালায় দুই দেশের সেনা। ১০০ থেকে ২০০ রাউন্ড গুলি চলেছিল ২৯-৩০ অগাস্ট রাতের অন্ধকারে।

লাদাখ সীমান্তের কাছে চিনের ৫২ হাজার সেনা
এদিকে অগাস্টেও লাদাখ সীমান্তের কাছে চিনের ৩৫ হাজার সেনা মোতায়েন ছিল বলে জানা যায়, তবে মস্কোতে ভারত-চিন বিদেশমন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকের আগে চিনের অনুপ্রবেশের চেষ্টা বিফল হওয়ার পর থেকেই নড়েচড়ে বসেছে বেজিং। ভারতীয় সেনার হাতে তাদের হার মেনে নিতে না পেরে আরও যেন মরিয়া হয়ে উঠেছে লালফৌজ। আর তাই সেপ্টেম্বরে লাদাখের কাছে চিনের সেনা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫২ হাজারে।

বেজিংয়ের নির্দেশে লাদাখ সীমান্তে সেনা বৃদ্ধি
এই মরিয়া অবস্থা থেকেই বেজিংয়ের নির্দেশে লাদাখ সীমান্ত বরাবর আরও সেনা বাড়ানো হচ্ছে চিনের তরফে। মস্কোতে শান্তি ফিরানোর উদ্দেশে জয়শয়ঙ্করের সঙ্গে চিনা বিদেশমন্ত্রীর বৈঠকের পর, ৭ সেপ্টেম্বর নতুন করে ভারতীয় পোস্টের খুব কাছে চলে আসে চিন। সেদনিও শূন্যে ওয়ার্নিং শট হিসাবে গুলি চালানো হয় দুই দেশের সেনার তরফেই। ঘটনায় কোনও হতাহতের খবর না থাকলেও এতে পারদ চড়েছে সীমান্তে।

এলএসি নিয়ে শান্তির পথে হাঁটবে না চিন
প্যাংগং এলাকা জুড়ে বিভিন্ন পরিকাঠামোগত নির্মাণ জারি রেখেছে চিন। লাদাখের প্যাংগং হ্রদের কাছে গ্রিন টপের উপর থেকে চিনা সেনা দখলদারি সরাতে না চাওয়াতে ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক আরও তিক্ত হচ্ছে চিনের। প্যাংগং সোতে চিনা সেনারা ফিঙ্গার ৫ এ ফিরে এসেছিল, তবে তারা এখনও ফিঙ্গার ৪-এর রিজলাইন দখল করে রয়েছে। চিনা সেনারা ফিঙ্গার ৪ থেকে ফিঙ্গার ৮-এর মধ্যে ৮-কিলোমিটার দীর্ঘ এলাকাজুড়ে তাদের তৈরি কাঠামোগুলিকেই এলএসি বলে দাবি করে যাচ্ছে এখনও।

পংগংয়ে ট্যাঙ্ক মোতায়েন চিনের
শুধু সেনা নয়, প্যাংগংয়ে ট্যাঙ্ক স্কোয়াড্রনও মোতায়েন করেছে চিন। চিনের তরফে অন্তত ২০ থেকে ৩০টি ট্যাঙ্ক মোতায়েন করা হয়েছে দক্ষিণ প্যাংগং এলাকায়। ভারতীয় সেনার অধীনে থাকা গুরুত্বপূর্ণ চূড়াগুলি দখলের উদ্দেশ্যেই সেখানে সৈন্য বহর বাড়ায় পিএলএ। পুরদস্তুর যুদ্ধের জন্যে তৈরি হচ্ছে তারা। তবে মনে করা হয়েছিল মস্কোতে বিদেশমন্ত্রীদের বৈঠকের পর এই উত্তেজনা কিছুটা কমবে। তবে চিনের তরফে এই সেনা বহর কমানোর কোনও খবর এখনও মেলেনি।

হোতান বিমানঘাঁটিতে চিনা তৎপরতা
এছাড়া লাদাখের খুব কাছেই হোতান বিমানঘাঁটিতে জে-২০ বিমান মোতায়েন রেখেছে চিন। এই বিমানঘাঁটিটি ভারত-চিনের লাইন অফ অ্যাকচুয়াল কন্ট্রোলের সবথেকে কাছে অবস্থিত । মাত্র ১৩০ কিলোমিটার দূরত্বে। পিএলএ-র ওয়েস্টার্ন থিয়েটার কমান্ডের তরফে জানানো হয়েছে, ওই বিমানঘাঁটিতে আগেই জে-১০ ও জে-১১ যুদ্ধবিমান মোতায়েন ছিল। তাছাড়া সেখানে জে-৮ ও জে ১৬ ও মোতায়েন রয়েছে।












Click it and Unblock the Notifications