Earthquake: কেঁপে উঠল মায়ানমার, জোড়া ভূমিকম্পের জেরে ধ্বংসস্তূপে পরিণত বহুতল, ভাইরাল ভিডিও!
মায়ানমারে (Myanmar) পরপর দুটি ভূমিকম্প হয়েছে আজ শুক্রবার। এই ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানেই। শুধু মায়ানমারে নয়, এর প্রভাব অনুভূত হয়েছে ভারত, থাইল্যান্ডসহ দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন স্থানে। জোড়া ভূমিকম্পে (Back to back earthquakes) কার্যত ধ্বংস্তূপে পরিণত হয়েছে মায়ানমার। বাড়ছে মৃত্যুর সংখ্যাও। ভূমিকম্প বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুক্রবার মায়ানমারে জোড়া কম্পনের মাত্রা ছিল যথাক্রমে ৭.৭ এবং ৬.৪।
জনা যায়, প্রথম কম্পনটি হয় ভারতীয় সময় সকাল ১১টা ৫০ মিনিট নাগাদ। অন্যটি হয় ১২টা ২ মিনিট নাগাদ। প্রথমটির উৎসকেন্দ্র মায়ানমারের বার্মার ১২ কিলোমিটার উত্তরে অবস্থিত। আর দ্বিতীয়টির উৎসকেন্দ্র মায়ানমারের লকসকের ১৫১ কিলোমিটার পশ্চিমে।
ইউএসজিএস অনুসারে, ভূমিকম্পটি মায়ানমারের সাগাইং থেকে ১৬ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে ১০ কিলোমিটার গভীরে আঘাত হেনেছে। ব্লুমবার্গের মতে, থাইল্যান্ডের ব্যাঙ্ককে, স্থানীয় সময় দুপুর ১.২১ মিনিটে শক্তিশালী ভূমিকম্প অনুভূত হয় এবং ২০২৩ সালের পর থেকে এটি বিশ্বব্যাপী সবচেয়ে শক্তিশালী ছিল।

মায়ানমার এবং থাইল্যান্ডে (Thailand) ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এখনও নির্ধারণ করা হয়নি, তবে সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করা ভিডিওগুলিতে ব্যাঙ্ককে একটি নির্মাণরত বহুতল ভবন ধসে পড়তে দেখা গিয়েছে। আরও অনেক বিল্ডিংয়েরও ক্ষতি হয়েছে। কয়েক সেকেন্ডেই একেবারে মাটিতে মিশে যায় মায়ানমারের বহুতল বাড়ি। ব্যাঙ্ককের প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, বিল্ডিংগুলি কাঁপতে এবং অ্যালার্ম বেজে ওঠার সাথে সাথে মানুষ আতঙ্কে রাস্তায় বেরিয়ে আসে।
ভাইরাল ভিডিও-
"হঠাৎ করেই পুরো বিল্ডিং নড়তে শুরু করে, সাথে সাথেই চিৎকার এবং প্রচুর আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে," ব্যাঙ্ককের একটি মলে থাকা স্কটল্যান্ডের একজন পর্যটক জানান। তাঁরা আতঙ্কে অনেকেই এখনও বাড়ি ফেরেননি। তিনি আরও বলেন, "প্রথমে আমি শান্তভাবে হাঁটতে শুরু করেছিলাম, কিন্তু তারপর বিল্ডিংটি নড়তে শুরু করে। প্রচুর চিৎকার, আতঙ্ক, লোকেরা এস্কেলেটর দিয়ে ভুল পথে দৌড়াচ্ছিল, প্রচুর ধাক্কাধাক্কি এবং এমনকি মলের ভিতরেও ধাক্কাধাক্কি হয়েছে।"
সূত্রের খবর, ব্যাঙ্ককের সেন্ট্রাল ব্যাঙ্কের সামনে বহু মানুষ জড়ো হয়েছেন। পাশাপাশি সামরিক জুন্টা সরকার দেশের বিস্তীর্ণ এলাকায় জরুরি অবস্থা জারি করেছে। জুন্টার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, "মায়ানমারের ৬টি রাজ্য এবং প্রদেশে জরুরি অবস্থা জারি করা হচ্ছে। গৃহযুদ্ধের কারণে জুন্টা অনেক এলাকায় পৌঁছোতে পারেনি। যে সমস্ত এলাকা বিদ্রোহীদের দখলে, সেখানে ভূমিকম্পের ক্ষয়ক্ষতি কেমন, তা এখনও স্পষ্ট নয়।"
ব্যাঙ্ককের পুলিশ সূত্রে খবর, ৩০ তলা নির্মাণরত টাওয়ার ব্লক ধসের পর ধ্বংসস্তূপে আটকা পড়া মানুষদের সাহায্যের জন্য চিৎকার করতে তিনি শুনতে পেয়েছেন। তিনি বলেন, "আমি লোকজনকে সাহায্যের জন্য ডাকতে শুনেছি, আমাকে সাহায্য করুন। আমরা অনুমান করছি যে শত শত মানুষ আহত হয়েছে,তবে আমরা এখনও হতাহতের সংখ্যা নির্ধারণ করছি।" তিনি আরও বলেন, "আমি আশঙ্কা করছি যে অনেক প্রাণহানি ঘটেছে। আমরা এর আগে কখনও এত ভয়াবহ ভূমিকম্পের অভিজ্ঞতা পাইনি।"












Click it and Unblock the Notifications