Get Updates
Get notified of breaking news, exclusive insights, and must-see stories!

Pakistan: অর্থ, অস্ত্র এবং প্রশিক্ষণ! পাকিস্তান সেনাবাহিনী ও আইএসআইয়ের হাতের পুতুল জঙ্গিরা?

Pakistan: জম্মু ও কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ের ঘটনায় তোলপাড় গোটা দেশ। পর্যটকদের নৃশংস হত্যাকাণ্ড আবারও প্রমাণ করে পাকিস্তান সন্ত্রাসবাদকে তার রাষ্ট্রীয় নীতির একটি অবিচ্ছেদ্য অংশে পরিণত করেছে। গোয়েন্দা সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য অনুসারে, নিষিদ্ধ লস্কর-ই-তৈবার (এলইটি) ছদ্মবেশী সংগঠন দ্য রেজিস্ট্যান্স ফ্রন্ট (টিআরএফ) এই জঘন্য হামলা চালিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই হামলা পাকিস্তানের সেনাপ্রধান জেনারেল আসিম মুনিরের কাশ্মীর প্রসঙ্গে দেওয়া "ঘাড়ের শিরা" মন্তব্যের দ্বারা অনুপ্রাণিত।

এই সাম্প্রতিক জঙ্গি কর্মকাণ্ড কোনও বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং পাকিস্তানের সামরিক ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর দীর্ঘদিনের লালিত কৌশলেরই সুস্পষ্ট প্রতিফলন। পাকিস্তান রাষ্ট্রটি জন্মলগ্ন থেকেই ভারতকে তাদের অস্তিত্বের প্রতিপক্ষ হিসেবে বিবেচনা করে আসছে। ফলস্বরূপ, পাকিস্তানি সেনাবাহিনী সন্ত্রাসবাদকে তাদের প্রতিবেশী রাষ্ট্রকে অস্থিতিশীল করার একটি স্বল্প ব্যয়ের অথচ অত্যন্ত কার্যকর অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করে আসছে। একই সাথে, এটি দেশের বেসামরিক প্রতিষ্ঠানগুলোর উপর তাদের নিয়ন্ত্রণ আরও দৃঢ় করতে সহায়ক।

Pakistan

. প্রক্সি যুদ্ধের আড়ালে জঙ্গিগোষ্ঠী

কাশ্মীর এবং ভারতের অন্যান্য অংশে জঙ্গি হামলা চালানোর জন্য লস্কর-ই-তৈবা (এলইটি) এবং জইশ-ই-মহম্মদের (জেইএম) মতো জঙ্গিগোষ্ঠীগুলোকে বিশেষভাবে প্রশিক্ষণ ও মদত দেওয়া হয়। এই অপকর্মের প্রধান উদ্দেশ্য, আন্তর্জাতিক স্তরে কাশ্মীর সংঘাতকে বাঁচিয়ে রাখা এবং "হাজারো আঘাতের" মাধ্যমে ভারতকে দুর্বল করে দেওয়া।

পাকিস্তানের কুখ্যাত ইন্টার-সার্ভিসেস ইন্টেলিজেন্স (আইএসআই) এই জঙ্গি সংগঠনগুলোকে নিয়মিতভাবে অর্থ, অত্যাধুনিক অস্ত্র এবং প্রশিক্ষণ সরবরাহ করে থাকে। জানা যায়, লস্কর-ই-তৈবার শুধু পাকিস্তান জুড়েই ২,২০০টিরও বেশি অফিস রয়েছে এবং পঞ্জাব ও কাশ্মীরে তাদের সক্রিয় প্রশিক্ষণ শিবির বিদ্যমান। শুধু তাই নয়, হিজবুল মুজাহিদিনের (এইচএম)-এর মতো অন্যান্য জঙ্গিগোষ্ঠীও আইএসআই-এর প্রত্যক্ষ পৃষ্ঠপোষকতা লাভ করে।

তবে সন্ত্রাসবাদ কেবল একটি বহিরাগত হাতিয়ার হিসেবেই ব্যবহৃত হয় না, এটি পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও সুদূরপ্রসারী ভূমিকা রাখে। বহিরাগত হুমকির মোকাবিলার মিথ্যা অজুহাতে দেশটির সেনাবাহিনী বেসামরিক প্রশাসনের উপর তাদের নিরঙ্কুশ কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করে এবং নিজেদের অপরিহার্য হিসেবে প্রমাণ করে।

. সাম্প্রদায়িক বিভাজন ও ধর্মীয় জাতীয়তাবাদের বিষ

অভ্যন্তরীণভাবে পাকিস্তানের সেনাবাহিনী দেওবন্দী ও আহলে হাদিস গোষ্ঠীর সাথে জোটবদ্ধ হয়ে একটি সুন্নি ইসলামপন্থী পরিচিতিকে উৎসাহিত করেছে, যা শিয়া ও আহমদিয়ার মতো সংখ্যালঘু সম্প্রদায়গুলোকে প্রান্তিক করে তুলেছে। লস্কর-ই-ঝাংভির মতো সাম্প্রদায়িক সংগঠনগুলোকে এই সম্প্রদায়গুলোর উপর হামলার জন্য ব্যবহার করা হয়েছে। এই অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষয়ী সংঘাত অভ্যন্তরীণ ও বহিরাগত উভয় দিক থেকে হুমকির মুখে সেনাবাহিনীর ইসলামি ঐক্যের ধারণাকে আরও শক্তিশালী করে তোলে।

দীর্ঘকাল ধরে জিহাদি নেটওয়ার্কগুলোর সাথে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর গভীর সম্পর্ক বিদ্যমান। ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে, সোভিয়েত-আফগান যুদ্ধের সময়, তারা দেওবন্দী মাদ্রাসাগুলোর সাথে নিবিড়ভাবে সহযোগিতা করে এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরবের উদার অর্থায়নে মুজাহিদিনদের প্রশিক্ষণ প্রদান করে। এমনকি ২০০১ সালে, পাকিস্তানি বিমান বাহিনী ন্যাটো বাহিনী কর্তৃক অবরুদ্ধ ৫,০০০ তালেবান ও আল-কায়েদা নেতাকে কুন্দুজ থেকে সরিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা করেছিল। এই সেনাবাহিনী ও আইএসআই ১৯৪৭ সাল থেকে দীর্ঘকাল ধরে কাশ্মীরে বিচ্ছিন্নতাবাদী সহিংসতা উস্কে দিচ্ছে, যা তাদের সুপরিকল্পিত কৌশলের অংশ।

. বিশ্বব্যাপী উদ্বেগ, ন্যূনতম পদক্ষেপ

আন্তর্জাতিক বিভিন্ন নির্ভরযোগ্য প্রতিবেদনে পাকিস্তানের এই জঙ্গি কার্যকলাপ বারবার উঠে এসেছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র লস্কর-ই-তৈবার মতো কুখ্যাত গোষ্ঠীগুলোকে নিরাপদ আশ্রয় দেওয়ার জন্য পাকিস্তানকে অভিযুক্ত করেছে। জঙ্গিদের অর্থায়ন বন্ধে ব্যর্থতার জন্য ফিনান্সিয়াল অ্যাকশন টাস্ক ফোর্স (এফএটিএফ) একাধিকবার পাকিস্তানকে "ধূসর তালিকাভুক্ত" করেছে, যদিও ২০২২ সালে তারা সেই তালিকা থেকে বেরিয়ে আসে।

২০০৮ সালে, বিখ্যাত ব্রুকিংস ইনস্টিটিউশন পাকিস্তানকে "বিশ্বের সন্ত্রাসবাদের সবচেয়ে সক্রিয় পৃষ্ঠপোষক" হিসেবে চিহ্নিত করেছিল। এত সুস্পষ্ট প্রমাণ থাকা সত্ত্বেও, ইউরোপীয় ইউনিয়নের রহস্যজনকভাবে পাকিস্তানকে উপেক্ষা করার প্রবণতার সমালোচনাযোগ্য। ২০২০ সালের ইউরোপীয় পার্লামেন্টের একটি প্রতিবেদনে "সেনাবাহিনীর পরিচালিত অদক্ষ নীতি" এবং আইএসআই-সমর্থিত গোষ্ঠীগুলোর অবাধ বিচরণের ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরা হয়। পাশাপাশি লস্কর-ই-তৈবার মতো গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পাকিস্তানের ব্যর্থতার কথাও বলা হয়েছে।

. স্বীকারোক্তি

বিভিন্ন সময়ে পাকিস্তানের শীর্ষস্থানীয় নেতারা প্রকাশ্যে সন্ত্রাসবাদে রাষ্ট্রের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ জড়িত থাকার চাঞ্চল্যকর কথা স্বীকার করেছেন। প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি পারভেজ মোশাররফ স্বীকার করেছেন যে, পাকিস্তান কাশ্মীরে লড়াই করার জন্য এলইটি ও জেইএমকে প্রশিক্ষণের পাশাপাশি সমর্থনও করেছিল। এবং এটিকে একটি সুচিন্তিত আন্তর্জাতিকীকরণ কৌশল হিসেবে অভিহিত করেছিলেন।

Take a Poll

নওয়াজ শরীফ ২০০৮ সালের মুম্বই হামলায় সরকারের জড়িত থাকার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। তার উত্তরসূরি ইমরান খান স্বীকার করে, ৩০,০০০ থেকে ৪০,০০০ জঙ্গি পাকিস্তানের মাটিতে সক্রিয় ছিল এবং পূর্ববর্তী প্রশাসনগুলোকে এই সত্য গোপন করার জন্য অভিযুক্ত করেছেন।

. আইএসআই-এর জঙ্গি জাল

ভারতকে লক্ষ্য করে সংঘটিত বেশ কয়েকটি বড় জঙ্গি হামলার সাথে আইএসআই সরাসরি জড়িত। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল, ২০০৮ সালের মুম্বাই হামলা। যেখানে ১৬৬ জন নিরীহ মানুষ নিহত হন। এছাড়াও ২০০১ সালের ভারতীয় সংসদ হামলা, ২০০৭ সালের হায়দ্রাবাদ বোমা হামলা এবং ২০০৮ সালের কাবুলে ভারতীয় দূতাবাসে বোমা হামলা। যার শেষোক্তটিতে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই-এর সম্পৃক্ততা নিশ্চিত করেছে।

জিহাদি গোষ্ঠীগুলোকে লালন-পালনের নীতি এখন পাকিস্তানের জন্য একটি মারাত্মক পরিণতি ডেকে এনেছে। লস্কর-ই-ঝাংভি, যা একসময় সংখ্যালঘুদের লক্ষ্যবস্তু করত, এখন শিয়া, আহমদী ও সুফিদের বিরুদ্ধে ক্রমবর্ধমান সাম্প্রদায়িক সহিংসতায় জড়িত। ২০১০ সালে লাহোরের দাতা দরবার মাজার ও অন্যান্য সুফি স্থানগুলোতে হামলার পেছনে আইএসআই-সমর্থিত জঙ্গিদের হাত ছিল বলে মনে করা হয়।

১৯৭৯ থেকে ১৯৮৮ সালের মধ্যে জেনারেল জিয়া-উল-হকের শাসনামলে রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় ইসলামীকরণ শিক্ষা ও সামরিক প্রতিষ্ঠানে জিহাদি আদর্শ স্থাপন করা হয়েছিল। যা সমাজের একটি অংশকে ক্রমশ মৌলবাদী করে তুলছে।

আজ, একসময়ের রাষ্ট্রীয় মদতপুষ্ট জঙ্গিরা তাদের বন্দুক রাষ্ট্রের দিকেই তাক করেছে। তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তানের (টিটিপি) মতো গোষ্ঠীগুলো এখন পাকিস্তানি সেনাবাহিনীকেই লক্ষ্যবস্তু বানাচ্ছে। শুধুমাত্র ২০২৫ সালের মার্চ মাসেই ৩৩৫ জনেরও বেশি পাকিস্তানি নিহত হয়েছেন, যা গত এক দশকের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ মাস।

পহেলগাঁওয়ের ভয়াবহ হামলা আবারও স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, পাকিস্তান তার রাষ্ট্রীয় নীতি থেকে সন্ত্রাসবাদকে নির্মূল করতে ব্যর্থ হয়েছে এবং এর ফলস্বরূপ আঞ্চলিক শান্তি ও নিরাপত্তা চরম হুমকির মুখে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের চাপ এবং অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক অস্থিরতা সত্ত্বেও, পাকিস্তানের নীতিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন দেখা যায়নি, যা আঞ্চলিক শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য একটি উদ্বেগের বিষয়।

More From
Prev
Next
Notifications
Settings
Clear Notifications
Notifications
Use the toggle to switch on notifications
  • Block for 8 hours
  • Block for 12 hours
  • Block for 24 hours
  • Don't block
Gender
Select your Gender
  • Male
  • Female
  • Others
Age
Select your Age Range
  • Under 18
  • 18 to 25
  • 26 to 35
  • 36 to 45
  • 45 to 55
  • 55+